১০ ডিসেম্বর ২০১৯
বনবিভাগের উদাসীনতা

বিশ্বনাথে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি গাছ

-

বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কাক্সিক্ষত রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আবার সঠিক মূল্য নির্ধারণের অভাবে গাছ কেটে জায়গা খালি করে দিতে না পারায় আটকে আছে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।
জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে থাকা পুরনো গাছ ঝড়ে বা গাছের গুঁড়ি থেকে মাটি সরে যাওয়ায় উপড়ে পড়ে আছে। কোনো কোনো গাছ আবার অতিরিক্ত ডালপালার ভারে হেলে পড়েছে। উপড়েপড়া গাছগুলো সঠিক সময়ে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম করা হলে ব্যাপক হারে সরকারের রাজস্ব আদায় হতো। কিন্তু বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
সড়কের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর তীরে থাকা গাছগুলো উপড়ে পড়ছে। আর উপড়ে পড়ার পর সেই গাছগুলোর অর্ধেক মাটিতে আর অর্ধেক নদীর পানিতে থাকার ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌচলাচল। এরপরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণেই দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে উপড়েপড়া গাছগুলোর ডালপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে থাকা গাছ কৃষি জমিতে উপড়ে পড়ার কারণে জমির মালিক (কৃষক) বা বর্গাচাষি ওই কৃষি জমির বিরাট অংশে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার সড়কের পাশে থাকা পুরনো গাছের ডাল হঠাৎ করেই ভেঙে নিচে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো সড়কে গাছ উপড়ে পড়ার কারণে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো দীর্ঘ দিন ধরে মেরামত না হওয়াতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দেখা গেছে, পরিষদের কয়েকটি স্থানে দীর্ঘ দিন ধরে উপড়ে পড়া গাছগুলো পড়ে আছে। বৃষ্টিতে ভিজে আর রোদে শুকিয়ে গাছগুলো নষ্ট হলেও সেগুলো নিলাম হচ্ছে না শুধু সঠিক মূল্য নির্ধারণের কারণে। তা ছাড়া পরিষদের বাম দিকে থাকা গাছ কেটে সে জায়গায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের সাথে মিলনায়তন তৈরির কথা রয়েছে। কিন্তু তা হচ্ছে না শুধু বনবিভাগ কর্তৃক গাছের সঠিক মূল্য নির্ধারণ না করার কারণে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কিংবা সমন্বয় সভায় একাধিকবার উপড়ে পড়া গাছগুলো বিধি মোতাবেক নিলাম করার দাবি ও সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শুধু বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতার কারণে তা কার্যকর হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্য জোটের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, উপজেলা সদরের টিএনটি রোডসহ বিশ্বনাথের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে গাছ উপড়ে পড়ে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাথে সাথে পদক্ষেপ নেয়া হলে গাছগুলো থেকে সরকার যেমন রাজস্ব পেত, তেমনি উপড়ে পড়া গাছের কারণে সড়কেও কোনো প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হতো না। ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন বলেন, মাঝে মধ্যেই বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে আকস্মিক পুরনো গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিশ্বনাথ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, বিদ্যালয়ের মধ্যখানে থাকা প্রায় শত বছরের পুরনো গাছ বিধি মোতাবেক কেটে ফেলার অনুমতির জন্য প্রায় দেড়-দুই বছর আগে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আজও অনুমতি পাইনি। গাছটি বিদ্যালয়ের মধ্যখানে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারে না। তা ছাড়া হঠাৎ করেই গাছের ডালপালা ভেঙে মাটিতে পড়ে। সে জন্য সর্বদা আমাদের একটি অজানা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।


আরো সংবাদ