২৯ জানুয়ারি ২০২০
তারেক রহমানের জন্মদিনের আলোচনা

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে : আমীর খসরু

বাংলাদেশ জাতীয় দলের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : নয়া দিগন্ত -

বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান কমে গেছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে এখন মুক্তবাজার অর্থনীতি চলছে না। এখন চলছে আওয়ামী অর্থনীতি। গতকাল এক সভায় তিনি বলেন, প্রতিটি জায়গায় তারা এমনভাবে রাজনীতিকরণ করেছে যে, একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এই রাজনীতিকরণের সুযোগ নিচ্ছে। এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠী হচ্ছে- আওয়ামী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন তারেক রহমান, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। কাউকে হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়ার দরকার বিএনপির নেই। কিন্তু যাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই তারাই অপকর্ম করে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খোঁজে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘নির্বাসিত তারেক রহমান ও বন্দী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় দল। সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিএনপির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি নেতা মামুন বিন আব্দুল মান্নান, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান, জাতীয় দলের মহাসচিব রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভার একপর্যায়ে তারেক রহমানকে নিয়ে একটি ভিডিও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। গানটি প্রযোজনা করেছেন বিএনপির মামুন বিন আব্দুল মান্নান এবং গীতিকার এম সাইফুর রহমান।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত উঁচুতে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের ভেতরে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এতে দল অনেক অনেক শক্তিশালী হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কমিটি গঠন এটা বিএনপির মধ্যে সবসময় ছিল। এটাকে এখন আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য একেবারে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি নির্বাচন একেবারে নিয়মমাফিক যে কাজটা হচ্ছে- আমি মনে করি এটা দেশের রাজনীতিতে, গণতান্ত্রিক ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে। ছাত্রদলের মধ্যে সমস্যা ছিল। নির্বাচিত কমিটি হওয়ায় দেখতে পারছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে সক্ষম হয়েছে, কিভাবে তাদের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই কাজটি বিএনপিসহ প্রত্যেকটা অঙ্গসংগঠনে করার জন্য তারেক রহমান আজকে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপি এমনিতেই অনেক এগিয়ে আছে। কাউকে হত্যা করে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার দরকার নেই। বিএনপির ওপর মানুষের আস্থা আছে। কিন্তু সেই দলই মানুষ মেরে ক্ষমতায় যায় যাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যগুলোর দাম ঊর্ধ্বগতি সরকার তা ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। গত দশ বছর আগে যা ছিল তার চেয়ে কমেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের প্রকৃত আয়কে আরো কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে জীবনযাত্রার মান কমেছে। কিন্তু জনগণ কথা বলছে না। এমনকি মিডিয়া লিখতে ও বলতে পারে না। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, আসলে যে সরকার দেশে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাÑ সেখানে তারা দ্রব্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
আমীর খসরু বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। গুম হচ্ছে খুন হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখেছে। উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট। সরকার কারো কাছে জবাবদিহি করে না। তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এ কারণে তাদের দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো আগ্রহ নেই।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আজকে শুধু গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী নয়। পুরো বাংলাদেশ বন্দী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেদিন মুক্তি পাবেন বাংলাদেশও সেদিন মুক্ত হবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, মা-বোন ধর্ষিতা হচ্ছে, কিছু বলতে গেলেই উল্টো আক্রমণ। সরকারের পুলিশবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুতরাং কিল খেয়ে মরব কেন কিলিয়েও মারব।
আলাল বলেন, তারেক রহমানের যে যাত্রা শুরু হয়েছে সেখান থেকে ফেরানোর সাহস সরকারের নেই। তিনি অত্যন্ত যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে দল পরিচালনা করছেন। ইনশাআল্লাহ তারেক রহমান বীরের বেশে আসবেন ফিরে বাংলাদেশে।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সুশৃঙ্খল রাজনীতি সবসময় পছন্দ করতেন। তেমনি তারেক রহমান বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে পরিচালনা করছেন। এ জন্যই আওয়ামী লীগের ভয়। কারণ তারা নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে না।


আরো সংবাদ

ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা শুভ্র চকবাজারে হাজী সেলিমের ছেলে ও ভাগ্নের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত ইনশা আল্লাহ : ইশরাক আ’লীগের দুই মেয়রপ্রার্থীকে কেএসপির সমর্থন বাণিজ্যমেলা ২ দিন বন্ধে ইসির চিঠি গাজীপুরে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই কলেজের শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ : আহত ৮ তাপসের পক্ষে ডিএসসিসি শ্রমিক লীগের প্রচারণা প্রথম বাসের ধাক্কায় রাস্তায় দ্বিতীয়টির চাপায় নিহত মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের অভিভাবক ফোরামের ১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি স্থগিত তরুণদের যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে : স্পিকার কুতুববাগ দরবার শরিফে ওরস শুরু কাল

সকল