২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে : অ্যাডভোকেট সালাম

-

বিএনপিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হতো না! বাংলাদেশের আকাশে লাল-সবুজের পতাকা উড়ত না। তিনি এক ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু আজকে একটি দল যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে মূলত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করছে। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সব চেতনাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। অথচ তাদের ঘরেই রাজাকার। সুতরাং যাদের ঘরে রাজাকার তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা লজ্জাকর। তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা মানায় না। কেননা রাজাকার এবং মুক্তিযুদ্ধ এক সাথে থাকতে পারে না। আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশকে বিভক্ত করার চক্রান্ত করছে। গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা বার আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শরিফ উদ্দিন মোল্লা। সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, খোরশেদ মিয়া আলম, কেন্দ্রীয় নেতা খোরশেদ আলম মিয়া, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বাচ্চু, সাবেক সেক্রেটারি মোসলেহ উদ্দিন মিয়া ও আবু ইউসুফ সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আবদুস সালাম বলেন, যুদ্ধের সময় তারা পালিয়েছিল বলেই তিনি একটি দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। নিজে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করে সম্মিলিতভাবে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। আজকে যারা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের অনুচর বলেন প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছে পাকিস্তানের অনুচর। তারা তো যুদ্ধের মাঠেই ছিলেন না। আজকে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতেই খালেদা জিয়াকে বন্দী এবং দেশনায়ক তারেক রহমানকে নির্বাসনে রাখা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট সালাম বলেন, ক্ষমতাসীনরা আজকে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করেছে। তিনি একজন অসুস্থ ও বয়স্ক নারী। আমি অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মূলত সরকারের কারচুপির ধরন ও তাদের ভোট ডাকাতির মুখোশ উন্মোচন করতেই সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তবে ঢাকার দুই সিটিতেই বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি ক্ষমতাসীনরা ভোট ডাকাতি না করলে আমাদের মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল জয়ী হবে ইনশা আল্লাহ। অন্যথায় ক্ষমতাসীনরা যদি ভোট ডাকাতির পুনরাবৃত্তি করে তাহলে সব দায়ভার তাদেরকেই বহন করতে হবে। ক্ষমতাসীন সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন অ্যাডভোকেট সালাম।

 

 


আরো সংবাদ