১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঢাকার কোর্ট হাউজ স্ট্রিটে ভাসমান দোকানি ও নেশাখোরদের দৌরাত্ম্য

বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা অতিষ্ঠ
-

ঢাকার আদালতপাড়ার কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের দুই পাশে ভাসমান দোকানি আর ভিড়ের মধ্যে নেশাখোর পকেটমারদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা। এ ছাড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় যুগ যুগ ধরে এখানে চলছে দাঁতের হাতুড়ে ডাক্তাদের রমরমা ব্যবসা। দেখার যেন কেউ নেই।
ঢাকার আদালতপাড়ায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও স্থানীয়দের চলাচলের সবচেয়ে ব্যস্ততম রাস্তা কোর্ট হাউজ স্ট্রিট। এখানে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথচারীদের জটলা লেগেই থাকে। ভাসমান দোকানিদের নানা পসরা ডিঙিয়ে চলাচল করতে হয় রাস্তার এ মাথা থেকে ও মাথা। পথচারীদের ভোগান্তি চরমে। কোতোয়ালি থানার অধীন সরু এ রাস্তাটির দুই পাশে কী নেই! শুঁটকি থেকে বড় বড় মাছ, আতর-টুপি, জুতা-স্যান্ডেল, মুরগি থেকে গরম মসলা, দন্তরোগসহ গোপন রোগ সারাবার নানা হিকমতের দাওয়াই, লোটা-কম্বল, শার্ট-প্যান্ট, পুরনো ব্লেজার-টাই, আছে দই-মিষ্টি-ছানা, ফুল আর সবজি নিয়ে দোকানিদের ব্যবসা। এ ছাড়া রাস্তার দুই পাশে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থায় মোটরসাইকেল ও গাড়ি পার্কিং।
কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে স্বভাবিকভাবে যেখানে আসতে সময় লাগে দুই থেকে তিন মিনিট সেখানে পিক আওয়ারে লাগে ২০ থেকে ২৫ মিনিট।
আইনজীবী সাইদুর রহমান নান্নু বলেন, রাস্তাটির দুই পাশে ভাসমান দোকানি আর ভিড়ের মধ্যে নেশাখোর-পকেটমারদের দৌরাত্ম্যের কারণে আমি কোর্ট-কাচারির পূর্ব পাশের মূল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি।
এ ব্যাপারে আইনজীবী মাহমুদুর রহমান রিপন বলেন, পুরান ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ততম এ রাস্তাটিতে হাঁটাচলা খুবই কষ্ট। ইচ্ছা করলেই মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে সিএমএম আদালতে সময়মতো আসা-যাওয়া করা যায় না। সে কারণে মামলা খারিজ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিচারপ্রার্থী। সম্মানী থেকে বঞ্চিত হন আইনজীবীরা।
আইনজীবী খায়রুল কবীর বলেন, বিষয়টি লজ্জার। এক আদালত থেকে অন্য আদালতে যেতে সময় ব্যয় হওয়ার কারণে আদালতে অনেকসময় আইনজীবীর অনুপস্থিতিতেই হাজিরা গ্রহণ করে আদালত। কেন আদালতে সময়মতো পৌঁছতে পারলাম না, সে কারণে বিচারপ্রার্থীরা আইনজীবীর সম্মানী না দিয়েই চলে যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিকল্প রাস্তা না থাকলে এ অবস্থাই চলতে থাকবে।
সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বলেন, মহানগর দায়রা জজ আদালত-সংলগ্ন মূল রাস্তা থেকে সিএমএম আদালত ভবন পর্যন্ত ফুট ওভারব্রিজ করে দিলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এতে করে ফুট ওভারব্রিজের সাথে ঢাকা জেলা জজ আদালত ভবনের সংযোগ হবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন ও সিএমএম আদালত ভবন। ফলে ঝড়-বৃষ্টি, তুফান হলেও অনাসায়ে আদালতে প্রবেশ করতে পারবে।


আরো সংবাদ