১৮ জুলাই ২০১৯

ভারতীয় দলে বড় ধরনের পরিবর্তন!

ভারতীয় দলে বড় ধরনের পরিবর্তন! - ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে ভারতের হারের ধাক্কা যেন কিছুতেই কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়েই দেশে ফিরছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তবে, ইতিমধ্যেই নক-আউটে দলের ব্যর্থতা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গেছে। বিশেষত, চাপের মুখে মিডল অর্ডারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। পরের বছর (৮ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর) অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ বিশ্বকাপ। তাই, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এবার নতুন করে দল সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেবেন জাতীয় নির্বাচকরা। ভারতীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

তবে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট, কেদার যাদব এবং দীনেশ কার্তিকের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। যে প্রত্যাশা বা যুক্তিতে তাদের বিশ্বকাপের দলে নেয়া হয়েছিল, সুযোগ পেয়েও কিন্তু সেই আস্থার মর্যাদা তারা দিতে পারেননি। ভারতের পক্ষে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, সেমি-ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একসঙ্গে দলের তিন প্রথম সারির ব্যাটসম্যান (রহিত শর্মা, কে এল রাহুল এবং বিরাট কোহলি) ব্যর্থ হলেন। কিন্তু, সেই ধাক্কা সামাল দিতে পারলেন না ঋষভ পন্থ, দীনেশ কার্তিকরা। গোটা টুর্নামেন্টেই ভারতের মিডল অর্ডার সেভাবে নির্ভরতা দিতে পারেনি।

এবারের বিশ্বকাপের জন্য ভারতের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল দু’বছর আগে, ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর। এরপরই দুই রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালকে ম্যাচ উইনার হিসেব বেছে নেন কোচ রবি শাস্ত্রী এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এরপর একাধিক সিরিজে এই কুলদীপ ও চাহাল দলের টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা পূরণ করলেও বিশ্বকাপে সেভাবে তারা জ্বলে উঠতে পারেননি। শেষ দু’টি ম্যাচে চাহাল দলে থাকলেও কুলদীপ প্রথম এগারোয় জায়গা পাননি। কোহলিরা যতদিন সাফল্য পেয়েছেন, ততদিন দল নির্বাচন নিয়ে অপ্রিয় প্রশ্নগুলো সামনে আসেনি। কিন্তু, সেমি-ফাইনালে হারের পর দল নির্বাচন এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে অপ্রিয় প্রশ্নগুলোকে আর ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।

বলা হচ্ছে, প্ল্যান ‘এ’ ক্লিক না করলে প্ল্যান ‘বি’ কেন তৈরি থাকবে না? তবে, ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলের খবর যারা রাখেন, তারা জানেন যে, শুধু বিশ্বকাপে কেন? কোনো টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রেই ভারতীয় দলে বিকল্প বলে কিছু থাকে না। আসলে রহিত ও কোহলি একসঙ্গে ব্যর্থ না হলে প্ল্যান ‘বি’-র কোনো প্রয়োজন হয় না। ‘ফিনিশার’ হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনির কার্যকারিতা যে ক্রমশ কমে আসছে, তা বোঝা যায়নি সাত নম্বরে হার্দিক পান্ডিয়া কাজ চালিয়ে যাওয়ায়। মনীশ পান্ডে, শ্রেয়াস আয়ারের মতো ক্রিকেটারদের নাম বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় কেন ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেয়া হলো, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। সুযোগ দেয়া হয়নি সম্ভাবনাময় শুভমান গিলকেও। বিসিসিআইয়ের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন এমএসকে প্রসাদ।
মজার বিষয় হরো, পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটির ক্রিকেটীয় বিষয়টি বিবেচনা করলে কিন্তু দেখা যাবে, সম্মিলিতভাবে তাদের ২০টি টেস্ট ম্যাচ খেলারও অভিজ্ঞতা নেই। আর তাদের উপরই রয়েছে জাতীয় দল নির্বাচনের ভার। মূল দলটির পাশাপাশি ২০ জনের দ্বিতীয় একটি দল ব্যাকআপ হিসেব রাখার প্রয়োজনীয়তা আর কবে অনুভব করবেন নির্বাচকরা?
টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলে কোহলি, রহিত, কে এল রাহুল, হার্দিক, বুমরাহ, ঋষভ পন্থ, কুলদীপ ও ভুবনেশ্বর কুমারের স্থান পাকা। বিবেচনায় অবশ্যই থাকবেন চাহাল এবং মোহাম্মদ শামি। পাশাপাশি নজরে রাখতে হবে মনীশ পান্ডে, শ্রেয়াস আয়ার, শুভমান গিল, পৃথ্বী শ’, মায়াঙ্ক আগরওয়ালদের।
বিকল্প হিসেবে তৈরি রাখতে হবে পেসার নভদীপ সাইনি, খলিল আহমেদ, দীপক চাহার, লেগ স্পিনার রাহুল চাহার, মায়াঙ্ক মার্কান্ডে, অলরাউন্ডার ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং সঞ্জু স্যামসনদের। তাহলেই সাফল্যের জন্য কোনো একজনের উপর নির্ভর করতে হবে না।

 


আরো সংবাদ