২৫ আগস্ট ২০১৯

এমন অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ফাইনাল কখনো দেখেনি ক্রিকেটবিশ্ব

এমন অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ফাইনাল কখনো দেখেনি ক্রিকেটবিশ্ব - ছবি : সংগৃহীত

এমন অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ফাইনাল কখনো দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব! ঘাত-প্রতিঘাতে ভরপুর বিশ্বকাপের খেতাবি লড়াইয়ে সুপার ওভারে বাজিমাত করল ইংল্যান্ড। রোববার লর্ডসে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল ইংরেজরা।
লো-স্কোরিং হলেও ম্যাচের রং বদলেছে প্রতিটি মুহূর্তে। ২৪২ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দু’টি ডেলিভারিতে স্টোকস রান নিতে না পারায় অনেকেই ধেরে নিয়েছিলেন নিউজ্যিলান্ডের বিশ্বকাপ জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু কে জানত ক্রিকেট অন্য কিছু চাইছে! তৃতীয় ডেলিভারিতে স্টোকস ছক্কা হাঁকাতেই উদ্বেলিত হয়ে ওঠে লর্ডসের গ্যালারি। পরের বলটি মিড উইকেটে খেলে দৌড়ে দু’রান নিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গাপটিলের থ্রো তার ব্যাটে লেগে বাউন্ডারির বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চারসহ মোট ছ’রান পায় ইংল্যান্ড। শেষ দুই বলে মরগ্যান বাহিনীর দরকার ছিল মাত্র তিন রান। স্টোকস ফের দু’রান নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রান আউট হয়ে যান আদিল রশিদ (০)। অন্তিম বলে দু’রান নিলেই ম্যাচ জিতে যেত ইংল্যান্ড। দৌড়ে দ্বিতীয় সিঙ্গলসটি নিতে গিয়ে নন স্ট্রাইকার এন্ডে রান আউট হয়ে যান মার্ক উড (০)। ২৪১ রানেই অল আউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ টাই। অগত্যা দুই দলের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে।

ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট সুপার ওভারে ভরসা রেখেছিলেন স্টোকস ও বাটলারের উপর। তারা তোলেন ১৫ রান। নিউজিল্যান্ড ১৬ রানের টার্গেট তাড়া করার জন্য পাঠায় জেমস নিশাম ও মার্টিন গাপটিলকে। ইংলিশ পেসার আর্চারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন নিশাম। ৫ বলে ১৪ রান তুলে ফেলেছিল কিউয়িরা। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু আর্চারের অন্তিম ডেলিভারিতে দৌড়ে দ্বিতীয় রানটি নিতে গিয়ে গাপটিল আউট হয়ে যান (১৫/১)। ফের টাই হয় সুপার ওভারের স্কোর। শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি কাউন্টে বিজয়ী হয় ইংল্যান্ড।

টার্গেট কঠিন না হলেও ইংল্যান্ড শুরুতেই জ্যাসন রয়ের (১৭) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। ফাইনালে হতাশ করলেন জো রুটও (৭)। ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ৩৬ রানে লকি ফার্গুসেনর বলে বোল্ড হন। জেমস নিশামের বলে ডিপ পয়েন্টে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানের (৯) দুরন্ত ক্যাচ ধরেন ফার্গুসন। ৮৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে পঞ্চম উইকেটে জশ বাটলার ও বেন স্টোকস ১১০ রান তুলে ফের ইংল্যান্ডের জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন। বাটলার ৫৩ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৮১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন স্টোকস। কিন্তু আস্কিং রেট অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় তুলে মারতে গিয়ে বাটলার ৫৯ রানে আউট হন। শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৯ রান। ক্রিস ওকস (২) ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ফার্গুসনের বলে লাথামের হাতে ধরা পড়েন। তবে ৪৮.৪ ওভারে নিশামের বলে স্টোকসের ক্যাচ ধরে বাউন্ডারি লাইনে পা ফেলে দেন বোল্ট। সেই ভুলের খেসারত গুণতে হল কিউয়িদের। অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন স্টোকসই।

এর আগে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই ওপেনার মার্টিন গাপটিলের ( ১৯) উইকেট হারায়। দ্বিতীয় উইকেটে হেনরি নিকোলস এবং কেন উইলিয়ামসন যোগ করেন ৭৪ রান। আচমকাই উইলিয়ামস (৩০) কট বিহাইন্ড হতেই চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। তিনটি উইকেটও নিয়েছেন প্লাঙ্কেট। তাঁর দ্বিতীয় শিকার হেনরি নিকোলস (৫৫)। রস টেলরকে যদি আম্পায়ার ভুল এলবিডব্লু না দিতেন, তাহলে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ২৬০-২৭০ হতে পারত। টম লাথাম যদি ৫৬ রানে ৪৭ রানের ইনিংস না খেলতেন, তাহলে কিউইরা অনেক আগেই লড়াই থেকে ছিটকে যেত।

ফাইনালের স্কোরবোর্ড
নিউজিল্যান্ড: মার্টিন গাপটিল এলবিডব্লু বো ওকস ১৯, হেনরি নিকোলাস বো প্লাঙ্কেট ৫৫, কেন উইলিয়ামসন ক বাটলার বো প্লাঙ্কেট ৩০, রস টেলর এলবিডব্লু বো উড ১৫, টম লাথাম ক (পরিবর্ত) ভিন্স বো ওকস ৪৭, জেমস নিসাম ক রুট বো প্লাঙ্কেট ১৯, গ্র্যান্ডহোম ক (বদলি) ভিন্স বো ওকস ১৬, স্যান্টনার নট আউট ৫, ম্যাচ হেনরি বো জোফ্রা আর্চার ৪, ট্রেন্ট বোল্ট নট আউট ১। অতিরিক্ত ৩০। মোট (৮ উইকেটে ৫০ ওভারে) ২৪১।
উইকেট পতন: ২৯-১, ১০৩-২, ১১৮-৩, ১৪১-৪, ১৭৩-৫, ২১৯-৬, ২৩২-৭, ২৪০-৮। বোলিং: ক্রিস ওকস: ৯-০-৩৭-৩, জোফ্রা আর্চার ১০-০-৪২-১, প্লাঙ্কেট ১০-০-৪২-৩, মার্ক উড: ১০-১-৪৯-১, আদিল রশিদ ৮-০-৩৯-০, স্টোকস ৩-০-২০-০।

ইংল্যান্ড: জ্যাসন রয় ক লাথাম বো হেনরি ১৭, জনি বেয়ারস্টো বো ফার্গুসন ৩৬, জো রুট ক লাথাম বো গ্র্যান্ডহোম ৭, ইয়ন মরগ্যান ক ফার্গুসন বো নিসাম ৯, বেন স্টোকস অপরাজিত ৮৪, বাটলার ক সাউদি বো ফার্গুসন ৫৯, ওকস ক লাথাম বো ফার্গুসন ২, প্লাঙ্কেট ক বোল্ট বো নিশাম ১০, আর্চার বো নিশাম ০, রশিদ রান আউট ০, উড রান আউট ০, অতিরিক্ত ১৭, মোট ৫০ ওভারে ১০ উইকেটে ২৪১।
উইকেট পতন: ২৮-১, ৫৯-২, ৭১-৩, ৮৬-৪, ১৯৬-৫, ২০৩-৬, ২২০-৭, ২২৭-৮, ২৪০-৯, ২৪১-১০।
বোলিং: বোল্ট ১০-০-৬৭-০, হেনরি ১০-২-৪০-১, গ্র্যান্ডহোম ১০-২-২৫-১, লকি ফার্গুসন ১০-০-৫০-৩, নিশাম ৭-০-৪৩-৩, স্যান্টনার ৩-০-১১-০।

 সুপার ওভার টাই হওয়ায় বাউন্ডারি কাউন্টে জয়ী হয় ইংল্যান্ড।
 ম্যাচের সেরা : বেন স্টোকস।


আরো সংবাদ