১৯ অক্টোবর ২০১৯

মেসির ছোঁয়ায় দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সেই আনসো

আনসো ফাতি - সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচে তার খেলা দেখেই মেসি বুঝে ফেলেছিলেন, এই তরুণ সাধারণ কেউ নয়। তাই তো ম্যাচ শেষে জড়িয়ে ধরেন আনসো ফাতিকে। আর তার ছোঁয়ায় যেন আরো দ্যুতি ছড়াতে শুরু করেছেন ১৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার। দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে গড়ে ফেলেন রেকর্ড। বার্সার সবচেয়ে কনিষ্ঠ গোলদাতা এখন তিনি। আর গতকাল তো সবকিছুতে ছাপিয়ে গেলেন তিনি। ইতিহাস গড়লেন। দুর্দান্ত পারফরমেন্সে নিজে গোল তো করেছেনই, সতীর্থকে দিয়েও গোল করেছেন। ফলাফল বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়।

শনিবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে বার্সা। ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারেননি দলের প্রাণভোমরা লিওলেন মেসি। তবে ছিলেন বন্ধু লুইস সুয়ারেজ আর তরুণ আনসো। এই দু'জনের দাপটেই ৫-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় বার্সা।

অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরেমেন্স করে মেসির নজর কাড়েন আনসো ফাতি। ম্যাচ শেষে তাকে জড়িয়ে ধরেন মেসি

 

জোড়া গোল করেন সুয়ারেজ। আর আনসো একটি গোল করেন আর অ্যাসিস্ট করেন একটি।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান আনসো। ডি ইয়ংয়ের ডান দিক থেকে বাড়ানো বল পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। মিনিট পাঁচেক পর এই দু'জনের জুটিতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সা। এবার একজনকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন আনসো আর ছুটে এসে প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শটে বল ঠিকানায় পাঠান ডি ইয়ং। একবিংশ শতাব্দীতে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগার কোনো ম্যাচে গোল করলেন ও করালেন আনসো।

প্রথমার্ধ জুড়ে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ানো ফাতি ১৬ মিনিটে আরো একটি গোল করতে পারতেন। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে তার জোরালো বাঁকানো শটটি ক্রসবারের কোণা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

অপরদিকে ২৭তম মিনিটে ম্যাচে ফিরে ভালেন্সিয়া। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে রদ্রিগোর দারুণ পাস ধরে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কেভিন গামেইরো। বল পোস্টে লেগে ভিতরে ঢোকে। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে ব্যবধান বাড়ায় বার্সেলোনা। অ্যান্টোনিও গ্রিজমানের শট ঠেকাতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেন গোলরক্ষক ইয়াসপের সিলেসেন। বল পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ছুটে গিয়ে জালে ঠেলে দেন পিকে।

ফাতির জায়গায় ৬১তম মিনিটে মাঠে নামেন চোট কাটিয়ে ফেরা সুয়ারেস। বদলি নেমে প্রথম মিনিটেই দারুণ এক গোলের দেখা পান উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। আর্থারের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে গোলের দিকে না তাকিয়ে শট নেন তিনি, বল পোস্টের নিচের দিকে জালে জড়ায়। ৮২তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে সব অনিশ্চয়তার ইতি টানেন সুয়ারেস। গ্রিজমানের ছোট পাস ডি-বক্সে পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।

ভালেন্সিয়ার দ্বিতীয় গোলটি করেন মাক্সি গোমেস। অতিরিক্ত সময়ে বার্সার জালে বল পাঠান তিনি।


আরো সংবাদ