০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

অনেক বেশি নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু নিজের উপর আস্থা ছিলো : স্মিথ

স্টিভেন স্মিথ। - ছবি : সংগৃহীত

দুর্দান্ত পারফরমেন্সের মাধ্যমে এ্যাশেজ সিরিজ ধরে রাখার পিছনে অসামান্য অবদান রাখতে পারায় নিজেকে গর্বিত মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-২ সমতা রেখে অ্যাশেজ নিজেদের দখলেই রাখতে পারে অস্ট্রেলিয়া। দলের জন্য অ্যাশেজ ধরে রাখার পেছনে অবদান রাখতে পারায় নিজেকে গর্বিত মনে করছেন স্মিথ। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নেমে অনেক বেশি নার্ভাস ছিলাম। তবে নিজের উপর আস্থা ছিলো। প্রথম টেস্টের দুই সেঞ্চুরি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অ্যাশেজ ধরে রাখতে পেরেছি আমরা। দলের জন্য ভালো কিছু করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।’

২০১৮ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে বল বিকৃতির পেছনের নায়ক ছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক স্মিথ। তার সাথে পার্শ্ব অভিনেতা ছিলেন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। স্মিথ-ওয়ার্নার মিলে বল বিকৃতি করিয়েছেন তরুন ব্যাটসম্যান ক্যামেরন বেনক্রফটকে দিয়ে। টিভি ক্যামেরায় তা ধরা পড়লে, সংবাদ সম্মেলনে তা অকপটে স্বীকার করেন স্মিথ-ওয়ার্নার-বেনক্রফট। তাই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐ তিন খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করেন। স্মিথ-ওয়ার্নার শাস্তি পান এক বছরের জন্য, বেনক্রফট নিষিদ্ধ ছিলেন নয় মাস।

দ্বাদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেন স্মিথ-ওয়ার্নার। ওয়ানডের পর অ্যাশেজ দিয়ে টেস্ট ফরম্যাটেও ফিরেন স্মিথ-ওয়ার্নার-বেনক্রফট। তবে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে স্মিথের। সাত ইনিংসে ৭৭৪ রান করেছেন। এবারের অ্যাশেজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের সাথে যৌথভাবে সিরিজ সেরা হন স্মিথ।

তবে অ্যাশেজে ফিরেই মহা চাপে পড়ে গিয়েছিলেন স্মিথ। বার্মিংহামে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। স্কোর বোর্ডে ১২২ রান উঠতেই ৮ উইকেট হারায় অসিরা। এ অবস্থায় ক্রিজে ছিলেন স্মিথ। শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেন তিনি। তাই ২৮৪ রান পর্যন্ত যেতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ঐ ইনিংসে ১৪৪ রান করেন স্মিথ। দ্বিতীয় ইনিংসে চওড়াভাবে কথা বলেছে স্মিথের ব্যাট। ১৪২ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ফলে ঐ টেস্ট ২৫১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম টেস্টেই দু’টি সেঞ্চুরি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বলে জানান স্মিথ, ‘প্রথম টেস্টের দু’টি সেঞ্চুরি অনেক বেশি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। অমার মনে হয়, পুরো সিরিজে ঐ দু’টি সেঞ্চুরিই আমার সেরা দু’টি ইনিংস। আমরা জানি, প্রথম টেস্ট সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। অ্যাশেজেও ব্যতিক্রম ছিলো না। কিছু সমস্যা নিয়ে আমরা অ্যাশেজ খেলতে নেমেছিলাম। তবে প্রথম টেস্টের পর থেকে আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি এবং বাকী ম্যাচগুলোতেও পারফরমেন্স করতে পারি।’

১৮ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেন স্মিথ। রাজকীয় পারফরমেন্সের কারনে তার স্ত্রীকে অনেকেই ধন্যবাদ দিয়েছেন বলে জানান তিনি, ‘১৮ মাস টেস্ট থেকে দূরে ছিলাম। আমার স্ত্রীকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য প্রচুর মানুষ পেয়েছি।’

ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চারের বাউন্সারে দ্বিতীয় টেস্টে মাথায় আঘাত পান স্মিথ। ফলে ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস ও তৃতীয় ম্যাচে খেলতে পারেননি স্মিথ। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে চতুর্থ টেস্টে ফিরে এসেই ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাতে আবারো জয়ের ধারায় ফিরে এবং সিরিজে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের শেষ টেস্টেও ব্যাট হাতে রান করেছেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে ৮০ রান করেন তিনি। ফলে অ্যাশেজে টানা ১০টি হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন স্মিথ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানের বেশি করতে পারেননি এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। তারপরও আউট হবার পর যখন মাঠ ছাড়েন তিনি, তখন গ্যালারি ভর্তি দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান স্মিথকে। এমন অভিবাদনে মুগ্ধ স্মিথ, ‘এটি একটি দুর্দান্ত অভ্যর্থনা ছিলো। তবে এ ম্যাচে আমার আরও কিছু রান থাকলে খুবই ভালো হতো। আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশ স্বস্তিতে ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ার গ্রীস্মের আগে এখন বেশ কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

রোববার শেষ হওয়া অ্যাশেজে সাত ইনিংসে ৭৭৪ রান করেছেন স্মিথ। অ্যাশেজের এক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় পঞ্চমস্থানে রয়েছেন তিনি। ১৯৩০ সালের সিরিজে সাত ইনিংসে ৯৭৪ রান করে এখনো এই তালিকার শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।


আরো সংবাদ