০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ধর্মঘট নিয়ে যা বললেন সৌরভ

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ক্রিকেটাররা। সাকিব-তামিম-মুশফিকসহ জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্লাবের প্রায় সব ক্রিকেটার মিলে ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

দাবিগুলো না মানলে সব ধরনের ক্রিকেট খেলা থেকে বিরত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন সাকিবরা। ফলে টাইগারদের আসন্ন ভারত সফর নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে নভেম্বরের শুরুতেই ভারত যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। হাতে বেশি সময় নেই। এমন সময়ে এই আন্দোলন, সিরিজ নিয়ে শঙ্কা তো হওয়ারই কথা।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এটা নিয়ে চিন্তিত নয়। বিসিসিআইয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি মনে করছেন, এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ভারত-বাংলাদেশ সিরিজে এর প্রভাব পড়বে না।

সৌরভ বলেন, ‘এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। তারাই এর সমাধান করবে। তারা (বাংলাদেশ) খেলতে আসবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই সংকট নিয়ে বিসিবির সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা পুরোপুরিই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমি বিসিবির সঙ্গে কথা বলেছি। এ নিয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়াবে দিল্লিতে আগামী ৩ নভেম্বর। এরপর দুই টেস্টের সিরিজ রয়েছে।

ক্রিকেটারদের দাবিগুলো-

১. ক্রিকেটারদের হাতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা কোয়াব-এর নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার দেয়া।

২. ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে সুনির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া।

৩. এবারের আসরের পর থেকে পূর্বের নিয়মে বিপিএল আয়োজন এবং দেশীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি।

৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ১ লাখে উন্নীত করা এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ৫০% বৃদ্ধি । ১২ মাস কোচ, ট্রেনিং এর নিশ্চয়তা।

৫. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মানসম্মত বল ব্যবহার, দৈনিক ভাতা বাড়ানো, ক্রিকেটারদের যাতায়াতের প্লেন ভাড়া, হোটেলে জিম ও সুইমিংপুল এবং ক্রিকেটারদের বাস উন্নয়ন করার দাবি।

৬. কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা এবং একইসাথে চুক্তির আওতায় বেতন বৃদ্ধি করা।

৭. মাঠকর্মী, স্থানীয় কোচ, আম্পায়ার, ফিজিও ও ট্রেইনারদের সম্মানী বৃদ্ধি করা।

৮. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মতই ৫০ ওভার ও ২০ ওভারের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন।

৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি।

১০. প্রিমিয়ার লীগের বকেয়া টাকা সময়মত পরিশোধ করা।

১১. যেকোন ২টি বিদেশী ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লীগ খেলার বিধিনিষেধ শিথিল করা।


আরো সংবাদ