১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ব্যাট নিলে বোলিং, বল নিলে হয়ে যায় ব্যাটিং পিচ

ব্যাট নিলে বোলিং, বল নিলে হয়ে যায় ব্যাটিং পিচ - ছবি : এএফপি

ভারতের ইন্দোর হালকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় মনে হচ্ছিলো- ইন্দোরের উইকেট বোলারদের জন্য স্বর্গ। আর ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় মনে হয়েছে এটি আসলে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। দুই দলের এই বিপরীতমুখী অবস্থা দেখে দর্শক পড়েছেন গোলক ধাঁধায়। আসলেই এটি বোলিং সহায়ক নাকি ব্যাটিং সহায়ক উইকেট সেই প্রশ্ন উঠেছে।

একটা সময় ছিল, ভারতে টেস্ট মানেই স্পিন সহায়ক উইকেট ও স্পিনারদের রাজত্ব। প্রেক্ষাপট বদলেছে। সবশেষ সিরিজেই যেমন, ভারতীয় পেসারদের তোপে নাকাল হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষেও ভারতীয় পেসার দাপটই লক্ষণীয় ছিল। শুরু হয়ে যাওয়া টেস্ট সিরিজে উইকেট পেস সহায়ক বা স্পোর্টিং হলে অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। এরকম ইঙ্গিত আগেই দিয়েছেন মধ্য প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কিউরেটর সামান্দার সিং চৌহান। আর সেটাই দেখা গেলো ইন্দোরে।

প্রথম টেস্টে কেমন উইকেট হবে, হিন্দুন্তান টাইমসকে চৌহান বলেছিলেন, ‘ভালো উইকেট, স্পোর্টিং উইকেট, সবার জন্য সহায়ক, ফরম্যাটের বিবেচনায় পাঁচ দিনই পিচ ভালো থাকবে।’

গত কয়েক দিন আকাশ মেঘলা থাকায় পিচ ছিল ঢাকা। পানিও খুব কম দেয়া হয়েছে। এটা কাউকে বাড়তি সুবিধা দেবে না বলে জানিয়েছেন চৌহান।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অধিকাংশ সময় স্বাগতিক দলের শক্তির জায়গা বিবেচনায় নিয়ে উইকেট বানানো হলেও এবার তেমন কোনো নির্দেশনা পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন চৌহান। মাঠে নামার আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজের অবস্থা বিবেচনা করে দল সাজানো হয়েছে কি-না তাও দেখার বিষয় ছিলো।

ভারত যেখানে বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে তিন ফাস্ট বোলার- উমেশ যাদব, ইশান্ত শার্মা, মোহাম্মদ শামি ও দুই স্পিনার- রবিন্দ্র জাদেজা (স্পিন অলরাউন্ডার) এবং মূল স্পিনার হিসেবে আছেন রবিচন্দ্রন আশ্বিন।

বাংলাদেশ সেখানে দুই ফাস্ট বোলার আবু জায়েদ ও এবাদত হোসেনকে রেখেছেন পেস আক্রমণে। আর দুই স্পিনার- মেহেদি হাসান মিরাজ (স্পিন অলরাউন্ডার) ও টেস্ট স্পেশালিস্ট তাইজুল ইসলামকে। বল হাতে ভারতীয় পেসাররা তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের ৭ উইকেট। আর স্পিনাররা নিয়েছেন দুটি উইকেট। বুঝা যাচ্ছে, প্রথম দিন পেসাররাই সুবিধা পেয়েছে পিচ থেকে।

আশ্বিন দুটি উইকেট শিকার করলেও অধিনায়ক বিরাট কোহলি আরেক স্পিনার জাদেজাকে দিয়ে বল করিয়েছেন মাত্র তিন ওভার। উমেশের সুইং, শামির রিভার্স সুইং এবং এবং ইশান্তের বাউন্সি এবং বাইর থেকে বল ভেতরে নিয়ে আসার ভেরিয়েশেন দেখেই মনে হয়েছিল পেস সহয়ক উইকেট। সেখানে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা ছিল আসা-যাওয়ার প্রতিযোগিতায়। মনে হচ্ছিলো পেস সহায়ক উইকেট।

কিন্তু ভারত যখন ব্যাটিংয়ে নামলো- তখন দৃশ্যপট বদলে যায়। বল হাতে যখন বাংলাদেশী বোলাররা আসলো, তখন উইকেট যেন ব্যাটিং সহায়ক হয়ে গেলো।

শুরুতেই আবু জায়েদ রোহিত শার্মাকে ফেরালেও বাকি সময় ছিলেন বোলররা ব্যর্থ। এবাদত হোসেন ১১ ওভার বল করেছেন ৩২ রান দিয়ে ছিলেণ উইকেট শূন্য। অন্য দিকে স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৭ ওভার বল করে ৩৩ রান দিয়ে, তিনিও ছিলেন উইকেট শূন্য।

দুই দলের বোলারদের তারতম্য করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ দলে আরো একজন ফাস্ট বোলারের অভাব। দ্বিতীয় দিন জাদেজার কাতারে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ বল হাতে নিলে বুঝা যাবে, বাংলাদেশী স্পিনারদের কেমন সুবিধা দেবে উইকেট। একদিক থেকে তাইজুল ছিলেন ব্যর্থ প্রথম দিন। রান দিয়েছেন ওয়ানডে গতিতে।

দ্বিতীয় দিন শুরুতে কিছুটা শিশির কণায় মাঠ ভেজা থাকতে পারে। বলে স্পিড বেড়ে ব্যাটসম্যানরা বল খেলতে কিছুটা হিশমিশ খাবে। আর সেই সুযোগটা যদি আবু জায়েদ-এবাদত কাজে লাগাতে পারেন সেটাই হবে আসল কাজ।


আরো সংবাদ