১১ ডিসেম্বর ২০১৯

গোলাপী টেস্টে হতাশার প্রথম দিন

ইডেনে দিবা-রাত্রি ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচে হতাশার একদিন কাটলো সফরকারী বাংলাদেশের। অন্য দিকে দুর্দান্ত দিন কাটলো স্বাগতিক ভারতের।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১০৬ রানের জবাব দিতে নেমে ৪৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৪ রানে দিন শেষ করলো ভারত। আর তাতে প্রথমদিন ৬৮ রানের লিড পেলো স্বাগতিকরা।

বিরাট কোহলি (৫৯)ও আজেঙ্কা রাহানে (২৩) রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামবেন।

তার আগে ইন্দোর টেস্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে এই ম্যাচে শুরুতেই ফেরালেন আমিন হোসেন। দলীয় ২৬ রানের মাথায় ১৪ ব্যক্তিগত ১৪ রানে আল আমিনের দারুণ এক ডেলিভারিতে মেহেদি হাসানের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন আগারওয়াল।

আবু জায়েদ রাহির বলে সহজ ক্যাচ দিয়েও আল আমিনের ব্যর্থতায় জীবন পান রোহিত শার্মা। দলীয় ৪৩ রানের ২১ রানে করে এবাদতে হোসেনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। রিভিউ নিয়েও এবার আর রক্ষা পাননি রোহিত।

চেতশ্বর পুজারা তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফসেঞ্চুরি। বিরাট কোহলি তুলে নেন ৫৪তম ফিফটি। পুজারা ৫৫ রান করে এবাদতের শিকার হয়ে ফিরলেও বিরাট কোহলি রয়েছেন সেঞ্চুরির অপেক্ষায়।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে এবাদত হোসেন ২টি ও আল-আমিন হোসেন একটি উইকেট শিকার করেন।

শুক্রবার থেকে ইডেন গার্ডেনসে ঘণ্টা বাজিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

টস জিতে আগে ব্যাট বেছে নেয় টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক।

এর আগে গোলাপী বলে ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রি টেস্ট ম্যাচে টস জিতে আাগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংস ১০৬ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারী বাংলাদেশ। দলের আট ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ৩০.৩ ওভার মোকাবেলায় এই সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ব্যাট করতে নেমে ৬০ রানেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরুতেই ইনিংসের সপ্তম ওভারে ইশান্ত শার্মার বলে এলভিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে দলীয় ১৫ ও ব্যক্তিগত ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। ১৭ রানের মাথায় পর পর শূন্য রানে তিন উইকেট- মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিথুন ও মুশফিকুর রহিমকে হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। ৩৮ রানের মাথায় সাদামান ইসলাম ২৯ করে ফিরলে বিপর্যয় আরো চরম পৌঁছায়। ৬০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৬ রানে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ফিরলে দলীয় শতকের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।

ইশান্ত শার্মার করা ইনিংসের ২২তম ওভারের চতুর্থ বলে সরাসরি বাউন্সি বল এসে লিটনের মাথায় আঘাত হানে। হেলমেট থাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে আশা করা হচ্ছে। তবে লিটনকে অবসর দেয়া হয়েছে। পরে আর নামা হয়নি তার। লিটন দাস ২৪ এবং তার বদলে ব্যাট করতে নামা মেহেদি হাসান মিরাজ করেন ৮ রান। শেষদিকে নাঈম হাসানের ১৯ রানে কোনরকম শতক পূর্ণ করে বাংলাদেশ।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ইশান্ত শার্মা ৫টি, উমেশ যাদব ৩টি ও মোহাম্মদ শামি ২টি উইকেট শিকার করেন।

বাংলাদেশ একাদশ : ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন, মেহেদি হাসান, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেন, আল আমিন হোসেন।

ভারত একাদশ : রোহিত শার্মা, মায়াঙ্কা আগারওয়াল, চেতশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), আজেঙ্কা রাহানে, রবিন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা, মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব, ইশান্ত শার্মা।


আরো সংবাদ