২৫ আগস্ট ২০১৯

৬ মাসে ২১৫৮ শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার

চলতি বছর ছয় মাসে (জানুয়ারী-জুন) মোট ২ হাজার ১৫৮টি শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৯৮৮টি শিশু বিভিন্ন ধরনের অপমৃত্যু এবং ৭২৬টি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এর পক্ষ এক জরিপ রিপোর্টে এতথ্য দেয়া হয়। শিশু অধিকার বিষয়ে কাজ করে এমন ২৬৯টি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন বা এনজিও সমূহের এটি একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। বিএসএএফ শিশু অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সদস্য হিসেবেও সরকারের সাথে কাজ করছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য দেয়া হয়।

এতে বলা হয় ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসে উল্লেখযোগ্য শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো হল হত্যা, ধর্ষণ, আত্মহত্যা, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যু যেমনঃ পানিতে ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায়, নিখোঁজ পরবর্তী মৃত অবস্থায় পাওয়া, বাবা মায়ের হাতে নিহত হওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিটিয়ে নির্যাতন।

রিপোর্টে আরো বলা হয় গত বছরের তুলনায় এই বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৪১% হারে, যা অত্যন্ত আশংকাজনক। বছরের প্রথম ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৯৬টি শিশু। যেখানে কিনা গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩৫১টি। এপ্রিল এবং মে এই দুই মাসেই শিশু ধর্ষণ হয়েছে ২৪১টি যা কিনা মোট ধর্ষণের অর্ধেকেরও বেশি। এই ৪৯৬টি ধর্ষণ হওয়া শিশুর মধ্যে ৫৩টি শিশুকে গণধর্ষণ করা হয়েছে এবং ২৭টি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ২৩ জন শিশুকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে।

এই ৬ মাসে ২০৫টি শিশু হত্যা করা হয়েছে যার মধ্যে ১৮টি শিশু বাবা-মায়ের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে। এছাড়াও এই সময়ে ১২০টি শিশু অপহরণ হয়েছে এবং ৭২টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। অপহরণ হওয়া শিশুদের মধ্যে ৬১টি শিশুকে অপহরণের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দ্বারা জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে কিন্তু নিখোঁজ হওয়া শিশুদের মধ্যে ২৪টি শিশুকে মৃত বা হত্যা করা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এছাড়াও জানুয়ারী থেকে জুন এই সময়কালে সড়ক দুর্ঘটনায় এবং পানিতে ডুবে যথাক্রমে ২৮৬ এবং ১৯৪টি শিশু নিহত হয়েছে, ৯৩টি শিশু আত্মহত্যা করেছে এবং ২৭টি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে শিশু অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে রিপোর্টে জানান হয়।


আরো সংবাদ