১৯ নভেম্বর ২০১৯

গত বছর গরু ছিনতাই করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা তান্না

তান্না - ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের কোরবানির আগে গরু ছিনতাই করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা তান্না। এবারো অভিযোগ উঠেছে ছাগল ছিনতাইয়ের। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, পরের সম্পত্তি দখল, মাদক কারবারসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যার সাথে মোহাম্মদপুর ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নেই। স্থানীয় সূত্র জানায়, তান্নার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকার পরও স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়। বিনিময়ে ওই মধ্যস্থতাকারী ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তান্নার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কারণে ওই কমিটির সহ-সভাপতি তিন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন বলেও জানা যায়।
মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্না, ইয়াসির আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম, মো: রায়হানসহ অজ্ঞাত আরো সাত-আট জনের বিরুদ্ধে এবার ছাগল ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হওয়ায় তাদের ছিনতাইকর্ম ব্যর্থ হয়।

ছাগল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য গত ১১ আগস্ট একদল ব্যবসায়ী যশোরের বারোবাজার পশুর হাট ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ২১২টি ছোট বড় ছাগল ট্রাকযোগে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ছাগলসহ ট্রাকটি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের জহুরি মহল্লা এলাকায় এলে তাদের আটক করে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। একপর্যায়ে ছাগলগুলোকে ট্রাক থেকে নামিয়ে একটি ক্লাবঘরে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ও তার চার সহযোগীকে আটকে রাখেন অভিযুক্তরা। এ সময় র্যাব-২ এর একটি টহল দল ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিল। তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করেন। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, এবার ছাগল ছিনতাই করতে গিয়ে তান্নার সহযোগীরা হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গত বছর এই গ্রুপের সদস্যরা গরু ছিনিয়ে নিয়ে গেছে মানুষের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত বছর কোরবানির আগে গাবতলী থেকে অনেক মানুষ গরু কিনে ওই বেড়িবাঁধ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই গরু ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আবার অনেক ব্যবসায়ীর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেয়ায় অনেক ব্যবসায়ীর গরু ছিনিয়ে নেয়া হয়। মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশে ওই গরুগুলো নিয়ে রাখে পরবর্তীতে তা বিক্রি করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তান্নার গ্রুপে যারা রয়েছেন তাদের অনেকের হাতে রয়েছে ওয়াকিটকি। প্রয়োজন হলে তারা নিজেদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলেও পরিচয় দেন। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর তান্নার এই অপরাধের প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ আছে। ওই নেতার হাত ধরেই তান্না ছাত্রলীগ সভাপতি হন। তাকে সভাপতি করার বিপক্ষে অনেক ছাত্রনেতা থাকলেও তান্নার টাকার কাছে সবাই হার মানেন। সভাপতি হওয়ার জন্য তান্না ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের কারণে ওই কমিটির সহ-সভাপতি শাকিল ইসলাম রাব্বিসহ তিনজন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই তান্নার আয়ের মূল উৎস হলো মাদক কারবার। মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পভিত্তিক যে মাদক কারবারিরা রয়েছে তাদের সাথে তান্নার লেনদেন আছে বলে জানা যায়। চিহ্নিত মাদক কারবারি পাচুর ভাতিজা রাহির ছেলে পলুর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া জসিম ও তন্ময়ের সাথেও তান্নার ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।

এ দিকে, তান্নার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের হলেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রকাশ্যেই ঘুরছেন বলে জানা যায়। তার ফেসবুক আইডিও সক্রিয় রয়েছে। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রেখেছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় পুলিশ বলছে, তান্নার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছাগল ছিনতাইয়ের সময় যারা হাতে-নাতে গ্রেফতার হয়েছে তারাই তান্নার নাম প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী মামলায় তাকে আসামি করা হয়। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরো সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিজোরদারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান স্পিকার কম্বোডিয়া গেছেন আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের যাত্রা শুরু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে লিফট ছিঁড়ে আহত ১২ পরীক্ষার্থী আরামবাগ ফুটবল অ্যাকাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ও নির্বাচন পঞ্চম দিনে মেলায় ৩১১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় রাস্তা নিয়ে বিরোধে আপন ভাইকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এসআই পদে চাকরির প্রলোভন অর্থ আত্মসাৎ ভুয়া স্বরাষ্ট্র সচিব আটক ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতেই জরিমানা বাড়ানো হয়েছে : ডিএনসিসি মেয়র হুইপ এমপি আমলাসহ আরো ১১৮ জনের হিসাব তলব আমিরাতের বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

সকল