২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যা : দায় স্বীকার পাষণ্ড বাবার

জাহাঙ্গীর সিকদার - সংগৃহীত

বরগুনার আমতলীতে ৪০ দিন বয়সী 'জিদনী' নামের এক কন্যাশিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে স্বীকার করেছে পাষণ্ড বাবা। জাহাঙ্গীর সিকদার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে জিদনী হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী সীমা বেগমের দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জাহাঙ্গীরকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠায় পুলিশ। উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেনের খাস কামরায় বসে জাহাঙ্গীর শিশুকন্যা জিদনীকে হত্যার বর্ননা দিয়ে দায় স্বীকার করেছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রী জানান, ৪০ দিনের শিশু জিদনী হত্যার দায় স্বীকার করেছে ঘাতক বাবা জাহাঙ্গীর সিকদার। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার দুপুরে তার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠাই। হত্যার সাথে তিনি সরাসরি জড়িত ছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদার ও সীমা দম্পতির সোহাগী (৯) ও জান্নাতী (৩) নামে দুটি কন্যা সন্তান থাকার পরেও গত ৮ ডিসেম্বর ওই দম্পতির আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। জাহাঙ্গীর তৃতীয় কন্যা সন্তান জন্মের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তিনি একটি পুত্র সন্তানের আশা করেছিলেন। এই ক্ষোভে তিনি সবার অগোচরে তার ৪০ দিনের শিশু কন্যা জিদনীকে ঘুমানোর কাঁথা বালিশ এবং বিছানাপত্রসহ বসত ঘরের পেছনের ডোবায় পানির মধ্যে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর শিশুকন্যাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালতের বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।


আরো সংবাদ