১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উপসাগরীয় উত্তেজনা ও রিয়াদ-তেহরান সম্পর্ক

-

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি শুধু সমাপ্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে বিশ্ব রাজনীতি ও শক্তির নতুন বিন্যাসও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আফ্রিকাও এর বাইরে ছিল না। ব্রিটেনের পর বিশ্ব মোড়ল হিসেবে আবির্ভাব ঘটে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের। ষাটের দশকে তেলসমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলোর প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারের তেলসম্পদের জাতীয়করণ পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মানতে রাজি ছিল না। তারা জায়ারের মবুতু, সিকিমের লেন্দুপ দর্জি ও মিসরের মোবারকের মতো পালা বা পোষা স্বৈরশাসক কামনা করত। অন্য দিকে, ষাটের দশকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনের সূচনা হলেও সত্তরের দশকে পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে তৈলাস্ত্র প্রয়োগ করে। কিন্তু ঐক্যের এমন ঝাণ্ডা প্রয়োগ একবারই হয়।
দ্বিপক্ষীয় ও বৃহত্তর ঐক্যের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো তথা ওআইসিভুক্ত দেশগুলো বরাবরই ছিল ব্যর্থ। বালফোর ঘোষণা থেকে শুরু করে ইসরাইলের অভ্যুদয়, ১৯৪৮, ১৯৬৭, ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন, কথিত কুয়েত মুক্তির যুদ্ধ, ইরাক দখলÑ প্রত্যেকটি ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলো ছিল অনৈক্যের শেষ প্রান্তে।
১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লব গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আলোড়ন তোলে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই বিপ্লব মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লবের আগে ইরান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি তাঁবেদার রাষ্ট্র। বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের অবসান ঘটলেও মার্কিনিরা বসে থাকেনি। তারা প্রচার করতে থাকে ইরান গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বিপ্লব রফতানি করতে চায়। এতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ভীতির সঞ্চার হয়। ইতোমধ্যে ইরাকেও ঘটে ক্ষমতার পালাবদল।
দেশটির তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার এক বছরের মধ্যে সাদ্দাম অতীতের একটি ভূখণ্ডগত সমস্যার জের ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। মার্কিন ইন্ধনে প্রায় আট বছর স্থায়ী এই যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে ইরাককে সমর্থন ও সহযোগিতা করে সৌদি আরব।
সত্তরের দশক থেকে চির বৈরী সৌদি আরবের সাথে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। তবে এই উত্তেজনা চরমে ওঠে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নৌসীমায় সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার ইরান কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর। ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের মদদ দেয়ার ক্ষেত্রেও তেহরানের বিরুদ্ধে রিয়াদ নাখোশ। বৈরিতা দূর করে মিত্রতায় আবদ্ধ হতে তেহরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু নিকট অতীতের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরের পরও সৌদি আরব-ইরান সম্পর্ক উষ্ণতার মুখ দেখেনি বরং বৈরিতা আরো বেড়েছে।

 

 

 

 

 


আরো সংবাদ