২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হাওরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

হাওর
হাতছানি দিয়ে ডাকছে হাওর... - নয়া দিগন্ত

দেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তের সীমান্ত ঘেরা হাওরের রাজধানী হিসাবে পরিচিত সুনামগঞ্জ জেলা। শুধু হাওরেই নয় জীব-বৈচিত্র সমৃদ্ধ, নদী, পাহাড় আর শৈল্পিক কারুকার্যে ভরপুর এই জেলা। এর ১১টি উপজেলা জামালগঞ্জের পাকনার হাওর, হালির হাওর, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, বিশ্বাম্ভরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা ও তাহিরপুরের টাংগুয়ার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় চার শতাধিক (২০ একরের উর্ধ্বে) হাওর রয়েছে। এই সব হাওরের রূপ বৈচিত্র দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থীদের আগমনে মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে হাওরগুলোতে।

জানা যায়, হাওরের নীলাভ রূপালী জলরাশি শুধু নয় জলজ ও স্থলজ নানা ধরনের উদ্ভিদের পাশাপাশি এ অঞ্চলে জন্ম নিয়েছে সম্পদে সমৃদ্ধ বাউল, লোককবি, সাধক মরমী কবি হাসন রাজা, রাধরমন, শাহ আব্দুল করিম ও তাদের স্মৃতি বিজরিত স্থান, কিছু নিদর্শন ও তাদের গান। আর তাদের লেখা গান নির্দশনগুলো বিশ্ববাসীর কাছে দিন দিন হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয়।

পর্যটকরা টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে এসে নীল জররাশি মাঝে নৌকায় বসে, কেউ বা হাওরের পানিতে সাতার কেটে গোসল করে, কেউ বা রাতে হাওরের শীতল হাওয়া ও পূর্নিমার আলোয় রাত্রী যাপন করে, আর কেউ বাউল, মরমী কবি সাধকদের জনপ্রিয় গানগুলোর সুর তুলেন।

হাওরের মাছ, অতিথি পাখি, আর সোয়াম ফরেষ্টের জন্য বিখ্যাত এ জেলা। হাওরের সৌন্দর্য ভ্রমন পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকলেও প্রচার-প্রচারণা আর সু-ব্যবস্থাপনা না থাকায় এতদিন তেমন একটা নজর কাড়তে পারেনি। সেই সাথে পর্যটন শিল্প স্থাপনের প্রতি সরকারের আগ্রহ না থাকায় বিপুল পরিমান রাজস্ব্য আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক ও দর্শনার্থীরা সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী, পাহাড়, পাহাড়ী ঝর্না, হাওর-বাওরের হিজর, করচ, নলখাগরা বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নানান প্রজাতির বনজ, জলজ প্রাণী আর হাওর পাড়ের বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকা খুজেঁ খুজেঁ বের করে নৈসর্গিক সৌর্ন্দযে মুগ্ধ হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসীন্দা সাদেক আলী, রফিকুল ইসলাম, তোজাম্মেল হক নাছরুম বলেন, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের সামনে তুলে ধরতে টাংগুয়ার হাওরে গত বছরের ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর দু-দিনব্যাপি টাংগুয়ার হাওরে জল জ্যোৎস্না উৎসবের আয়োজন করেছিল তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন। ব্যাপক সাড়াও পেয়েছে এ উৎসবের আয়োজকগণ। বিশেষ করে তাহিরপুর উপজেলার আর্ন্তজাতিক রামসার সাইট খ্যাত জীব-বৈচিত্র, সম্পদে ও সৌন্দর্যে ভরপুর টাংগুয়ার হাওরের অনন্য বৈশিষ্ট্য থাকায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

আরো কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বর্ষায় হাওরে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া হিজল, করছের ডাল গুলো বর্ষার অথৈই জলে ডানা কাটা পরীর মত ভাসমান আর শুষ্ক মৌসুমে পাতাবিহীন ডালাপালাগুলো ভাস্কর্যের রুপ নেয়। আর শীতে মৌসুমে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পাখির মিলন মেলা ও সবুজের সমারোহ চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যে মন প্রাণ খুলে উপভোগ করছেন বেড়াতে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।

দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখন একা না এসে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। জেলার টাংগুয়ার হাওর, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী, হাওলি জমিদার বাড়ি, জয়নাল আবেদিন গার্ডেন (শিমুল বাগান), সীমান্তের আদিবাসী পল্লী, মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে আসা ছোট বড় ২০টি ঝরর্না সহ ৪৬টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তাই পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের সামনে তুলে ধরতে পর্যটন সমৃদ্ধ স্থানগুলো নিয়ে বাস্তবমুখী, দীর্ঘ মেয়াদী সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার একটি আকর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রে রুপান্তরিত করার সর্ব মহলে দাবী উঠেছে।

বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জনমেজর সহ তার বন্ধুরা জানান, হাওর, নদী,পাহাড়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অপরূপ সৌন্দর্যের রূপের রানী যাদুকাটার তুলনা হয় না। এত সুন্দর পাহাড়ী নদীর সম্মিলন খুব একটা দেখা যায় না। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকার কারণে বেড়াতে আসা লোকজনের কষ্ট হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, হাওরই সুনামগঞ্জ জেলাকে তুলে ধরেছে দেশ-বিদেশের সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে। হাওরের সৌন্দর্যই মুগ্ধ দর্শনার্থী ও পর্যটকরা। তাই হাওরকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প স্থাপন করা সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে।


আরো সংবাদ