২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গোশতের নির্ধারিত দাম মানছে না বিক্রেতারা

গোশতের নির্ধারিত দাম মানছে না বিক্রেতারা - সংগৃহীত

গোশতের নির্ধারিত দর মানছে না বিক্রেতারা। অনেক স্থানে দর মানা হলেও মাপে কম দেয়া হচ্ছে। গোশত বিক্রেতারা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন বাজারদর থেকে কম দাম নির্ধারণ করায় তারা মানতে পারছেন না। এ জন্য দাম ঠিক রাখলেও রুগ্ণ গরু এবং গোশতের সাথে হাড় বেশি ও চর্বিসহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে কেজি পূরণ করা হচ্ছে।

রমজান মাস উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গত ১৪ মে গোশত ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে গরু, খাসি ও অন্যান্য গোশতের দাম নির্ধারণ করে দেয়। দেশী গরু কেজি প্রতি ৪৫০ টাকা, বোল্ডার ও বিদেশী গরু ৪২০ টাকা, মহিষ ৪২০ টাকা, খাসি ৭২০ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগির গোশত ৬০০ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দর মানছেন না। দোকানে নির্ধারিত দর টানিয়ে রাখলেও বেশি দাম চাচ্ছেন তারা। মতিঝিল কলোনি কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশী গরু ৪৫০ টাকা লিখে রাখলেও কাগজ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে। আর দাম চাওয়া হচ্ছে ৪৮০ টাকা করে। সিটি করপোরেশনের দরের কথা জানালে তখন তারা কাগজটি ঘুরিয়ে পরে ৪৫০ টাকায় দিতে রাজি হন। তবে খাসির গোশত ৭৫০ টাকার নিচে দিতে রাজি নয় বিক্রেতারা।

তারা জানান, সিটি করপোরেশন দাম নির্ধারণ করলেই হবে না। বেশি দামে খাসি কিনতে হচ্ছে। এখন সবকিছুর বাড়তি খরচ। কম দামে দেবো কিভাবে। শান্তিনগর বাজারের পাশেই বিসমিল্লাহ গোশত বিতানে গরুর গোশত ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ বলেন, মহল্লায় ভালো গোশত দিতে হয়। এ জন্য বেশি দামের গরু কিনে আনি। এখানে দাম একটু বেশি রাখা ছাড়া উপায় নেই। তবে বেশি পরিমাণে নিলে ৪৮০ টাকা রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সিটি করপোরেশন যে দাম নির্ধারণ করেছে তাতে ভালো দেশী গরুর গোশত বিক্রি সম্ভব নয় বলে জানান আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, ওই দামে বাজারে রুগ্ন গরু, বিদেশী গরু ও মহিষ না বলে বিক্রি করা হচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের দেখা যায় ৪৫০ টাকা দরে গরু এবং ৭২০ টাকা দরে খাসির গোশত বিক্রির মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সে দরে বিক্রি করছেন না তারা।

বিক্রেতা মো: সোহেল বলেন, আমরা বেশির ভাগ গোশত হোটেল-রেস্তোরাঁয় দিয়ে দিই। যেটা বেঁচে থাকে তা দোকানে বিক্রি করি। হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেশি দামে ভালো মানের গোশত সরবরাহ করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তাতে ভালো গোশত বিক্রি সম্ভব নয়। ভালো গোশত যায় হোটেলে আর রুগণ গোশত দোকানে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, বাজারে মুরগি, সবজি ও মাছের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয় না, শুধু গোশতের দাম কেন নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে দেখা যায়, গরুর গোশত নির্ধারিত ৪৫০ টাকা ও খাসির গোশত ৭২০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। মেসার্স খোকন এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মো: রাজু বলেন, এ দামে গোশত বিক্রি করলে লোকসান হয়। তাহলে ব্যবসায় লাভ কিভাবে হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভালো গোশত বেশি দামে দেয়া হয়। তাদের হাড়ছাড়া গোশত এবং হাড়সহ গোশত দুই রকম দামে দেয়া হয়। আর দোকানে বিক্রির সময় চর্বি-হাড় বেশি দিতে হয়। না হলে পোষানো যায় না। মতিঝিল কলোনি বাজারে গোশত কিনতে আসা আব্দুর রহিম নামে এক ক্রেতা বলেন, কাগজ টানিয়ে রেখেছে নির্ধারিত দামের। কিন্তু কিনতে গেলে বলছে ভালো গোশত নিতে গেলে বেশি দাম দিতে হবে।

এ দিকে গতকাল কাওরানবাজার ও কলমিলতা কাঁচা বাজারে অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে গোশত বিক্রি করায় দুইটি গোশতের দোকানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুল হক মাসুমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গোশতের দাম বেশি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রবিউল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত গোশতের বাজারদর বাস্তবায়নে প্রধান বাধা গাবতলি গরু হাটের ইজারাদার। ইজারাদারের অত্যাচার ও অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ না করার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে গোশত বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু গোশত ব্যবসায়ীদের মোবাইল কোর্টের অধীনে এনে বাজারদর ঠিক করা যাবে না। গাবতলী গরুর হাটের ইজারাদার ও চাঁদাবাজদের জবাবদিহিতায় আনতে হবে। রবিউল আলম আরো বলেন, জাতির স্বার্থে আমরা কাজ করি, ক্রেতার স্বার্থ আমাদের কাছে বড়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, লুটেরা অবৈধ খাজনা, অবৈধ জবাই ফি আদায় করা বন্ধ করলেই গোশতের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এমনিই কমে যাবে।
]


আরো সংবাদ