চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ আর নেই

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মানুষের মন’-এর পরিচালক, মিরসরাইয়ের কৃতী সন্তান মোস্তফা মেহমুদ (৮১) আর নেই। রোববার মধ্যরাতে মিরসরাইয়ের স্থানীয় একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে ছালাউদ্দিন মেহমুদ আমেরিকা ও ছোট ছেলে জিয়াউদ্দিন মেহমুদ কানাডা প্রবাসী। স্ত্রী ফিরোজা মেহমুদ আগেই মারা গেছেন।
প্রবাসী দুই ছেলে দেশে আসার পর আগামী বুধবার তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা ও রোজী কবির অভিনীত ‘মানুষের মন’ চলচ্চিত্রটি স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তি পায়। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এ দেশীয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। তবে মোস্তফা মেহমুদ গত শতাব্দীর ষাটের দশকেই জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন।
নায়িকা ববিতা (সংসার) ও নায়িকা নূতন (নতুন প্রভাত) তার পরিচালিত ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।
দুই ভাই (রাজ্জাক, সুচন্দা), সংসার (রাজ্জাক, সুচন্দা, ববিতা), মোমের আলো (সুজাতা, আনসার), মায়ার সংসার (সুজাতা, সরকার কবির), আদর্শ ছাপাখানা (সুজাতা, জলিল ও আবুল খায়ের), নতুন প্রভাত (নূতুন, শাকিল), মানুষের মন (রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা, রোজী), জীবন সংগীত (রাজ্জাক, সুচন্দা), অবাক পৃথিবী (রাজ্জাক, কবরী, শাবানা), মনিহার (শাবানা, আলমগীর), জয়পরাজয় (শাবানা, আলমগীর), মনের মানুষ (শাবানা, আলমগীর), মধুমিতা (শাবানা, আলমগীর), মাটির মানুষ (শাবানা, আলমগীর-ও স্বামীর সোহাগ (কবরী, বুলবুল আহমেদÑ তার পরিচালিত ছবি। এর মধ্যে দুই ভাই ও সংসার যৌথভাবে পরিচালিত চলচ্চিত্র।
১৯৫৭ সালের শেষের দিকে ‘মাসিক মৃদঙ্গ’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনা শুরু করেন তিনি।
চলচ্চিত্র পরিচালনা ছেড়ে দেয়ার পর থেকে তিনি মিরসরাইয়ের মিঠানালা তার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানে তিনি মাছ ও গরুর খামার গড়ে তোলেন। মাঝে মধ্যে প্রবাসে ছেলেদের কাছে গেলেও ফিরে আসতেন গ্রামে। আমৃত্যু তিনি সেখানেই ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.