ঢাকা, মঙ্গলবার,২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শেষের পাতা

ভারতীয় লেখকের স্বীকারোক্তি

কলকাতা থেকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হচ্ছে

এনআরবি নিউজ নিউ ইয়র্ক

২০ মে ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
পশ্চিমবঙ্গের লেখক ও মানবাধিকার কর্মী ড. পার্থ ব্যানার্জির অকপট স্বীকারোক্তি, ‘বাংলাদেশ যত দিন বিশ্বে সরব থাকবে তত দিনই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বহাল থাকবে। কলকাতা অথবা পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা রক্ষায় আন্তরিকতা তেমন একটি নেই।’
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে জড়ো হওয়া বেশ ক’জন বাংলাদেশী কবি, সাহিত্যিক, লেখক, প্রকাশক এবং সাংবাদিকের সাথে প্রবাসের লেখক-লেখিকাদের প্রাণবন্ত এক আড্ডায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলা হারিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যিক-লেখকদের নাম আনন্দবাজার, দেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বিকৃত করে প্রকাশের অভিযোগও করা হয়। এ কথা কবি শামসুর রাহমানের নাম কখনোই শুদ্ধ করে লেখেনি এসব মিডিয়া। এ কথা উল্লেখ করেন ঢাকার ক্ষুব্ধ কবি-সাহিত্যিকেরা। 
নিউ ইয়র্কে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা উপলক্ষে আগত লেখক-লেখিকারা জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে এ আড্ডায় মেতেছিলেন। বাংলা উৎসবের আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদীন এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও নাট্যকার জামালউদ্দিন হোসেনও ছিলেন এ আড্ডায়। ঢাকার কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে ছিলেন : আমিরুল ইসলাম, আহমাদ মাযহার, সাইমন জাকারিয়া, হুমায়ূন কবীর ঢালী, জার্মানীর লেখিকা নাজমুন্নেসা পিয়ারি, কানাডার লুৎফর রহমান রিটন এবং জসীম মল্লিক, অঙ্কুর প্রকাশনীর মেজবাউদ্দিন আহমেদ, প্রথমা প্রকাশনের জাফর আহমেদ রাশেদ, ইত্যাদির জহিরুল আবেদীন জুয়েল, কথা প্রকাশের মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, আকাশ প্রকাশনের আলমগীর শিকদার লোটন, স্টুডেন্ট ওয়েজের মোহাম্মদ মাশফিকুল্লাহ তন্ময় প্রমুখ। আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস কাবের সভাপতি লাবলু আনসার, নির্বাহী সদস্য কানু দত্ত এবং নির্বাচন কমিশনার ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের আহ্বায়ক রাশেদ আহমেদও ছিলেন আড্ডায় সরব। 
ছড়াকার রিটন জোরাল যুক্তির অবতারণা করে দাবি করেন যে, ‘কলকাতায় বাংলা সাহিত্য চর্চা বিশুদ্ধভাবে করার মতো সাহিত্যিক তৈরি হচ্ছে না। ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে কলকাতায় সাহিত্য ও বাংলা সংস্কৃতি চর্চা। অথচ এক সময় অনেকেই কলকাতাকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবেও দাবি করতেন। যদিও কখনোই তা সঠিক ছিল না।’
এ আড্ডায় ছিলেন ড. পার্থ ব্যানার্জি। কলকাতার সন্তান এবং একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। ঘটিকাহিনীসহ বেশ কটি গ্রন্থ রয়েছে তার। নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিখ্যাত পত্রিকায় তার সমসাময়িক লেখাও প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান নিউ ইয়র্কে একটি শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। পার্থ ব্যানার্জি অকপটে স্বীকার করে বললেন, ‘প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি হারিয়ে গেলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব আর থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গে আমরা যারা রয়েছি, তারা ক্রমান্বয়ে করপোরেট কালচারে ধাবিত হচ্ছি। শেকড়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে দ্রুত গতিতে।’
১৯, ২০ ও ২১ মে এ বাংলা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং কলকাতার সাহিত্যিক পবিত্র সরকার মেলার উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে। এবারো এ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ‘বই হোক প্রজন্ম-সেতু’ স্লোগানে উজ্জীবিত এ ‘২৬তম বইমেলা’র উদ্বোধন হবে ২৬টি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫