যৌতুকের জন্য প্রাণ দিলো তানিয়া

মো: তোফাজ্জল হোসেন বোদা, পঞ্চগড়

বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের দাবি বারবার পূরণ করতে না পারায় স্বামী মো: মামুনের পিটুনিতে মারা গেছেন গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২০) বলে অভিযোগ উঠেছে। তানিয়ার বাবা মো: তহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ১ জুন হত্যা মামলা করেন (নং-০২)। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহ বলেন, বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে মো: মামুনের সাথে আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের দণি সাতখামার গ্রামের তহিদুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া আক্তারের ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেয়ের সুখশান্তির জন্য প্রায় কয়েক দফায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দিয়েছিলেন অসহায় বাবা তহিদুল ইসলাম। এর পরও নানা অজুহাতে যৌতুক আদায়ে চাপ দিত স্বামী মো: মামুন। নিয়মিত গাঁজা সেবন ও তাস খেলায় ব্যস্ত থাকত বলে মামুনের বাবা জিয়াউর রহমান এক সময় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন মামুনকে। বাড়ি থেকে আরো যৌতুক আনতে না পারায় তানিয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বৃহস্পতিবার সকালে (১ জুন) যৌতুকের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বেধড়ক মারধর করে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান তানিয়া আক্তার। নিহতের বাবা তহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মো: মামুন, শ্বশুর জিয়াউর, শাশুড়ি বুলবুলি ও দেবর শামীমসহ চারজনকে আসামি করে বোদা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহ বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার মূল আসামি ঘাতক স্বামী মো: মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মতামত নেয়ার জন্য নিহত তানিয়া আক্তারের স্বামীর বাড়িতে অর্থাৎ ঘটনাস্থলে গেলে বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। অপর দিকে মামলার বাদি তহিদুল ইসলামের বাড়ি গেলে নিহত তানিয়া আক্তারের দাদী তমিজা বেগম (৭০) সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই তানিয়ার কথা কৌশলে জিজ্ঞেস করায় জ্ঞান হারান। চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের তরুণ ইউপি সদস্য মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তানিয়া আক্তার মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। অপর দিকে নিহত তানিয়ার নিকটতম প্রতিবেশী সাতখামার ফাজিল মাদরাসার সহকারী শিক আবদুল ফারুক (বাপ্পি) বলেন, মামুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার; যাতে তানিয়ার মতো আর কাউকে এভাবে জীবন দিতে না হয়।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.