ঢাকার পাশেই নতুন কক্সবাজার মৈনট ঘাট

নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিচিত জায়গা ছাড়া অনেকেই ঘুরতে যেতে চান না। ঢাকার আশপাশে ঘোরার জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভ্রমণপিয়াসীরা প্রতিনিয়তই আবিষ্কার করছেন নিত্যনতুন ভ্রমণ স্পট। ছুটির দিনে অথবা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনট ঘাট। ঢাকার খুব কাছেই পদ্মার উত্তাল ঢেউ দেখতে আর নৌকা ভ্রমণে যেতে পারেন নবাবগঞ্জের দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

মৈনট ঘাটে গেলে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবেন পদ্মার অপরূপ জলরাশি দেখে। বিস্তীর্ণ জলরাশি আর নদীর বুকে জেলেদের নৌকা দেখলে মনে হবে আপনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আছেন। মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য উপভোগ করার শ্রেষ্ঠ সময় বর্ষাকাল। পদ্মাপাড়ে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে অন্যরকম ভালো লাগবে। পদ্মার বুকে স্পিডবোট আর ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন অনেকেই। মৈনট ঘাটের পাশাপাশি যেতে পারবেন নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আনসার ক্যাম্প, খেলারামদাতার বাড়িসহ আরো কিছু দর্শনীয় স্থানে।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে যাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনের বাস। ৯০ টাকা ভাড়া আর দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাটে। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়।

সতর্কতা
মৈনট ঘাটে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর অনেক স্থানে গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই গোসল করতে নেমে অনেকে বিপদে পড়েন। সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় পদ্মার বেশি গভীরে যাবেন না। ঈদের পরও মৈনট ঘাটে পদ্মায় ডুবে নিখোঁজ হয়েছে তিন শিক্ষার্থী। মৈনট ঘাট এলাকায় ডুবে গত ছয় মাসে ছয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এ ঘাট দিয়ে পদ্মায় নামা নিষিদ্ধ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। পদ্মার মৈনট ঘাট এলাকায় ডুবে সর্বশেষ ১০ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের দুই শিক্ষার্থী শাওন সরকার ও মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। এর এক দিন পরই ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.