মালয়েশিয়ায় আটক অবৈধ শ্রমিক : ইন্টারনেট থেকে নেয়া
মালয়েশিয়ায় আটক অবৈধ শ্রমিক : ইন্টারনেট থেকে নেয়া
পালিয়ে বেড়াচ্ছে ই-কার্ড বঞ্চিতরা ; ১১৬০ বাংলাদেশী আটক

মালয়েশিয়াজুড়ে ‘আদুয়ান পিটা’ অভিযান

মনির হোসেন

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ইমিগ্রেশন পুলিশ ছক তৈরি করেছে। ওই ছকের ৩ নম্বর ধাপে গিয়ে তারা দেশব্যাপী ধরপাকড় অভিযান পরিচালনা করছে। পরবর্তী ধাপে আটকদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফৌজদারি মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। বিচারে জেল অথবা জরিমানা নির্ধারণ ও পালনের পরই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। 
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন এই ছকের নাম দিয়েছে ‘ফরেইনার উইথআউট ভিসা’ (মালয় ভাষায় আদুয়ান পিটা)। এমতাবস্থায় আটক শ্রমিকদের সহায়তা দিতে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন নিশ্চুপ। আটক অন্যান্য দেশের কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর হলেও গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো আলোচনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মালয়েশিয়া হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ১৭ জুলাই অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের বিষয়টি নিয়ে ইমিগ্রেশনের সাথে হাইকমিশনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 
এদিকে সোমবার রাত ৯টায় মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এক হাজার ১৬০ জন বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের মোট দুই হাজার ৪২৯ জন অবৈধ অভিবাসী ক্র্যাকডাউন অভিযানে আটক হয়েছে। তার মধ্যে ৫৭০ জন মহিলা এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ৬৯৫, মিয়ানমারের ২৩১, ভিয়েতনামের ১১৬, থাইল্যান্ডের ১১১ ও ফিলিপাইনের ৯৫ জন অবৈধ শ্রমিক রয়েছে বলে জানা যায়। 
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের তৈরি করা ছক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশটিতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার করে উচ্ছেদ করা পর্যন্ত ফর্মুলাকে তারা মোট আট ভাগে ভাগ করেছে। কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে গ্রেফতার এবং সর্বশেষ যার যার দেশে ফেরত পাঠানো হবে এ ফর্মুলায়। 
এক নম্বরে রয়েছে আদুয়ান (অভিযোগ), ২. রিসিকান (গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ), ৩ অপারেসি (ধরপাকড়), ৪. সিয়াসাটান (তদন্ত), ৫. পেনডাকওয়ান (প্রসিকিউশন) ৬. কামপাউন ( জরিমানা), ৬ (২) পেনজারা/ডেনডা (জেল) এবং ৭ নম্বরে পেনগুসিরান (উচ্ছেদ বা দেশে ফেরত)। এই ছক তৈরি করে ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ধরিয়ে দিতে বেশ কিছু ফোন ও ই-মেইল নম্বর দেয়া রয়েছে। এর পাশাপাশি ইমিগ্রেশন থেকে ‘থ্রি প্লাস ওয়ান’ নামের একটি পদ্ধতিতে অবৈধদের শ্রমিকদের ৪০০ রিংগিট জরিমানা ও বিমানের টিকিটসহ পুত্রাজায়া অফিসে যোগাযোগ করলে তাদেরকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। 
গতকাল মঙ্গলবারও কুয়ালালামপুরসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ইমিগ্রেশন। তবে কতজন শ্রমিক ধরা পড়েছে তা সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে সোমবার অভিযান চলে জহুরবারু প্রদেশ এর সুংগাই তেনগাং কোস্টাল ফরেস্ট এরিয়ার টিংগিতে। সেখান থেকে পাঁচ মহিলাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে ইমিগ্রেশন এর পক্ষ থেকে। 
এদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী একাধিক ব্যবসায়ী গতকাল নয়া দিগন্তকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিল বিভাগের অদক্ষতার কারণে অবৈধ শ্রমিকরা বৈধ হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা যদি সত্যিকারের ‘ক্যাম্পেইন’ করতেন তাহলে আরো অনেক অবৈধ বাংলাদেশী বৈধ হতে পারত। কিন্তু তারা কারো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নামকাওয়াস্তে অবৈধদের ই-কার্ড রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাইকমিশনের বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ উঠেই থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।  
শুধু তাই নয়, ধরপাকড় অভিযান পরিচালনার নেপথ্যে বাংলাদেশী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশও রয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন দুই দেশের ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা। 
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা নিশ্চিতের জন্য ই-কার্ড নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। ৩০ জুনের মধ্যে যারা ই-কার্ড নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারেনি তাদের বিরুদ্ধে এখন চলছে ক্র্যাকডাউন অভিযান। কিন্তু এর আওতায় আসতে পারেনি প্রায় তিন লাখেরও বেশি বাংলাদেশী। মূলত তারাই এখন বিপদগ্রস্ত।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.