কথা বলা পাখি ম্যাকাও

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

কিছু কথা মানুষের মতো বলতে পারে। খুব দ্রুত কথা শিখতে পারে। মানুষের সাথে তার সখ্যতা ভালো। দেখতে তো সুন্দরই, চোখ ফেরানো মুশকিল। বন্ধুরা বলেছিলেন ম্যাকাও পাখির কথা। দৈর্ঘ্যে ম্যাকাও ৭৬ থেকে ৮৬ সেন্টিমিটার, ৩০ থেকে ৩৪ ইঞ্চি। ওজন ৯০০ থেকে ১৫০০ গ্রাম হতে পারে। বাঁকানো ঠোঁট।। অনেকটাই শান্ত পাখি। হাতে করে, কাঁধে নিয়ে অনায়াসে ঘোরা যায়। মানুষের সঙ্গ ম্যাকাও পছন্দ করে। মানুষের আদর ওদের অনেক পছন্দ। খেলাধুলা ওদের প্রিয় কাজ। ১৭৫৮ সালে কার্ল লিনিয়াস বুলুু অ্যান্ড ইয়োলো ম্যাকাও এর নামকরণ করেছেন আরা আরারাউনা। নীল রঙের ডানা ও লেজ, ঘন নীল চাবুক, নিচের দিকে সোনালি রঙ সবার নজর কাড়ে। পৃথিবীতে অসংখ্য পাখি আছে। এর মধ্যে টেম (পোষ মানা) এবং ব্র্্িরড (ডিম বাচ্চা করানো)তে ম্যাকাও খুব জনপ্রিয়। একবার সেট হলেই হয়। তারপর ডিম বাচ্চা ভালো করে। সাধারণত দু’থেকে তিনটি ডিম পারে।
প্রায় ২৮ দিন মেয়ে পাখি ডিমে তা দেয়। ১০০ দিন হলে বাচ্চাগুলো বাসা ত্যাগ করে। খুব সহজে পোষ মানে ম্যাকাও। কথা শিখালে তা বলতে পারে। অবিকল মানুষের মতো কথা বলতে পারে। ম্যাকাও খেতে পছন্দ করে বাদাম, ভুট্টা, সূর্যমুখী ফলে বীজ, শসা, কলা, অ্যাপেল, গাজর, পেঁপে,বরবটি ইত্যাদি। ম্যাকাও অনেক দিন বাঁচে। ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচার তথ্যে পাওয়া গেছে। সারা বিশ্বে ম্যাকাও এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বাংলাদেশে যারা বেশিসংখ্যক ম্যাকাও পালন করেন তাদের মধ্যে অন্যতম সিলেটের শ্রীমঙ্গলের রনি রাজ আহমেদ। তার খামারে অনেকগুলো ম্যাকাও রয়েছে। ম্যাকাও-এর বাচ্চা উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বলে তিনি জানান। দাম একটু বেশি বটে। তবে শিশু-কিশোরদের বিনোদন দিতে ম্যাকাও-এর তুলনাই হয় না বলে রনি রাজ আহমেদ জানান।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.