নিখোঁজ এমএইচ-৩৭০ তল্লাশিতে সন্ধান সমুদ্রগর্ভের গুপ্তভাণ্ডারের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

একেই বোধহয় বলে ‘সমুদ্রমন্থন’! বিমানের সন্ধান করতে গিয়ে সন্ধান মিলল সমুদ্রগর্ভের গুপ্ত ভাণ্ডারের! যা সমুদ্রবিজ্ঞানের বহু অজানা তথ্যকে সামনে নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
মালয়েশিয়ার সেই নিখোঁজ বিমান এমএইচ-৩৭০-এর কথা মনে পড়ে? আকাশপথেই ২৩৯ জন যাত্রীকে নিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল এই বোয়িং-৭৭৭। খোঁজ পেতে টানা তিন বছর যৌথ তল্লাশি চালায় অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া এবং চীন। ভারত মহাসাগরের পুরো দক্ষিণপ্রান্ত জুড়েই তল্লাশি চলে। ব্যয়বহুল এই তল্লাশি অভিযানে ব্যবহৃত হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও। কিন্তু সন্ধান মেলেনি বিমানের। তবে সন্ধান চালাতে গিয়ে উঠে এসেছে বিশ্বের সমুদ্র তলদেশের বিশাল গুপ্ত রসদের। সেই রসদের তালিকায় রয়েছে সমুদ্রগর্ভের আগ্নেয়গিরি, উপত্যকার গভীর খাদ এবং উঁচু উঁচু বহু শৈলশিরা। এমনকী তল্লাশি চলাকালীন খোঁজ মিলেছে ডুবে যাওয়া দু’টি জাহাজেরও।
সম্প্রতি সমুদ্রগর্ভের এইসব গুপ্তভাণ্ডারের যাবতীয় তথ্যসহ একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। যা দেখে বিজ্ঞানীদের আশা, পুরোপুরি বিফলে যায়নি এমএইচ ৩৭০-এর তল্লাশি অভিযান। এই অভিযানে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলির বিশ্লেষণ ও গবেষণায় উঠে আসতে পারে সমুদ্রগর্ভের বহু অজানা রহস্য।
অস্ট্রেলিয়ার জিওসায়েন্সের শীর্ষকর্তা তথা বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট মিনশিন বলেছেন, নিখোঁজ বিমানের সন্ধান চালাতে গিয়ে পৃথিবীর সমুদ্রভাগের ১০-১৫ শতাংশ অংশে নিখুঁত তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত মহাসাগরের অত্যন্ত দুর্গম অংশও। এবং তা পৃথিবীর সমুদ্রভাগের সবচেয়ে গভীর তলদেশ। আর তাতেই সমুদ্রভাণ্ডারের যেসব রসদ সামনে এসেছে, তা ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীদের গবেষণার কাজে অত্যন্ত সহায়ক হবে। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা, সমুদ্র তলদেশের প্রাণীজগৎ ও সমুদ্রগর্ভের ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে গবেষণায় এই ম্যাপটি অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠবে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সমুদ্রগর্ভের গুপ্তভাণ্ডার নিয়ে রেখাঙ্কিত এই ম্যাপটিই শেষ নয়। তথ্য সম্বলিত আরো একটি ম্যাপ প্রকাশ করা হবে। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে সেটি প্রকাশ করা হবে বলে অস্ট্রেলিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে। ওই ম্যাপ প্রকাশের পরেই হয়তো সমাধান হতে মালয়েশিয়া বিমানের নিখোঁজ রহস্যের। এমনটাই আশা করছেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবহণমন্ত্রী ডারেন চেস্টার।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.