গুগল গ্লাসের এন্টারপ্রাইজ সংস্করণ

বৈশ্বিক পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের বাজার প্রসার লাভ করেছে। গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রায় সব প্রযুক্তি কোম্পানি এখন এ খাতে ব্যবসা প্রসারে কাজ করছে। যদিও অতিরিক্ত দামের কারণেই গুগল গ্লাসের প্রথম সংস্করণ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় জীবন পেল গুগল গ্লাস। গত মঙ্গলবার গুগল গ্লাসের নতুন সংস্করণ গুগল গ্লাস ২.০ উন্মোচন করেছে গুগল। গুগল গ্লাস এন্টারপ্রাইজ এডিশন নামে এই পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যটি ওয়ার্কপ্লেস টুল বা কর্মেেত্র ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গুগল গ্লাসের প্রথম সংস্করণ উন্মোচন করেছিল গুগল। সে সময় শুধু ডেভেলপারদের জন্য গুগল গ্লাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল দেড় হাজার ডলার। একই বছরের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয় গুগল গ্লাস। কিন্তু এ পরিধেয় পণ্যটি মোটেও লাভের মুখ দেখাতে পারেনি গুগলকে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অনেকটা নীরবে গুগল গ্লাসের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। গুগল গ্লাস এন্টারপ্রাইজ এডিশন ইন্টারনেট ব্রাউজ, অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং অথবা সাধারণ গ্রাহকদের পরিবর্তে কারখানা এবং জরুরি কাজে ব্যবহার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কারখানা শ্রমিকেরা এ পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য পরিধান করে তাদের কাজের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পাবেন। গ্লাস ২.০ বা গুগল গ্লাস এন্টারপ্রাইজ এডিশন দ্বারা ব্যবহারকারী খুশিমতো স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন, মেসেজ ও অন্য প্রয়োজনীয় ফিচার দেখে নিতে পারবেন। এমনকি দিন শেষে নিজের স্মার্টফোন কর্মেেত্র ফেলে এলেও খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবে না ব্যবহারকারীকে। গুগল গ্লাসের প্রথম সংস্করণের তুলনায় গুগল গ্লাস ২.০ সংস্করণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বিশেষ বাটন রাখা হয়েছে, যার দ্বারা ‘গ্লাস পড’ খুলে ফেলা যাবে। এটি মূলত গুগল গ্লাসের প্রধান কম্পিউটিং ডিভাইস। এতে একটি লাল রঙের এলইডি লাইট রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে রেকর্ডিং হচ্ছে কিনা তা বোঝা যাবে। ডিভাইস ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার বিষয়টি আরো জোরালো করা হয়েছে।

বোয়িং, জিই ও ডিএইচএলের মতো বেশ কিছু কোম্পানি এরই মধ্যে গুগল গ্লাসের নতুন সংস্করণের পরীামূলক ব্যবহার শুরু করেছে। এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কারখানায় স্থায়ীভাবে এ ডিভাইস ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎপাদন কাজে ব্যাপক অগ্রগতি দেখতে পেয়েছে।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.