হজের প্রস্তুতি কিভাবে নেবেন

শাহ্জাহান আলী খাঁন

হজ শব্দের অর্থ সঙ্কল্প করা, কোনো পবিত্র স্থান দর্শনের সঙ্কল্প করা। ইসলামী শরিয়তের ভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইহ্রাম বেঁধে কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনে ও নির্দিষ্ট স্থানসমূহ [কাবা আরাফা মুজদালিফা মিনা] অবস্থান এবং কয়েকটি স্থানে আল্লাহ্ ও রাসূল সা: নির্দেশিত কয়েকটি অনুষ্ঠান [খানায়ে কাবা তাওয়াফ, সাঈ করা, মিনা, আরাফায় অবস্থান, মুজদালিফায় রাত যাপন, মিনায় রমি করা, কোরবানি করা, বিদায়ি তাওয়াফ করা] পালন করাকে হজ বলে।
হজ তিন প্রকার।
ইফরাদ : মিকাত থেকে শুধু হজের উদ্দেশ্যে ইহ্রাম বাঁধাকে হজে ইফরাদ বলে। যে এই নিয়ত করেন তাকে বলা হয় মুফ্রিদ।
ক্বিরাণ : মিকাত থেকে হজ ও ওমরাহর উদ্দেশ্যে ইহ্রাম বেঁধে একই ইহ্রামে উমরাহ এবং হজ করাকে হজে কিরাম বলে। যে এই নিয়ত করেন তাকে কারেন বলে।
হজে তামাত্তু : মিকাত থেকে ওমরাহ-এর ইহ্রাম বাঁধা। ওমরাহর পরে ইহ্রাম খুলে ফেলা। হজের সময়ে মক্কা থেকে ইহ্রাম বেঁধে হজ সম্পাদন করাকে তামাত্তু হজ বলে। যে এই নিয়ত করে মুতামাত্তে বলা হয়।
হজ কেন করব : এটি আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ। আল্লাহ বলেনÑ ‘তোমরা আমার উদ্দেশ্যে হজ ও উমরাহ পরিপূর্ণভাবে পালন করো’। আল্লাহ্ তায়ালা আরো বলেন ‘যে এই ঘর পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য রাখে সে যেন হজ করে। ( সূরা: ইমরান: ৯৭।
নবী করিম সা: বলেছেন, আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছার জন্য পথের সম্বল এবং বাহন যার আছে সে যদি হজ না করে, তবে এ অবস্থায় তার মৃত্যু ইহুদি ও নাসারার মৃত্যুর সমান বিবেচিত হবে’। (মুসলিম শরিফ)।
হজরত উমর র. এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সামর্থ্য [আর্থিক এবং শারীরিক] থাকা সত্ত্বেও যারা হজ করবে না, তাদের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করতে ইচ্ছে করে। কারণ তারা মুসলমান নয়, মুসলমান নয়। উপরিউক্ত আয়াত, হাদিস এবং খলিফার ব্যাখ্যা থেকে সহজেই বোঝা যায় হজ সাধারণ ফরজ নয়। হজ আদায় করা না করা মুসলমানদের ইচ্ছাধীন করে দেয়া হয়নি। তা না করে কিছুতেই মুক্তি নেই। দুনিয়ার যে কোণেই বাস করুক না কেন চাকরি ব্যবসায় নেতৃত্ব যত বড় দায়িত্বই অর্পিত থাকুক না কেন সামর্থ্যবান হওয়ার সাথে সাথেই তাকে হজে যেতে হবে।
আপনি যদি হজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন, দুই রাকাত নফল নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, হে আল্লাহ আপনি যে রিজিক দিয়েছেন তা দিয়ে এবার হজ পালন করতে চাই, আপনি সহজ করে দিন, আপনি কবুল করুন।
এভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকুন, অন্যদিকে সিদ্ধান্ত নিন হজ করে আসার পর যেন হজের মর্যাদা বজায় রেখে চলতে পারেন। বেশি বেশি নামাজ পড়–ন, তওবা করুন, কারো হক নষ্ট করে থাকলে তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিন। এখন থেকেই হজ সম্পর্কে পড়–ন, বাজারে এ সম্পর্কে প্রচুর বইপত্র রয়েছে। যারা পড়তে পারেন না তারা অন্য হাজীদের সাথে আলাপ-আলোচনা, প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বক্তৃতা, যারা জানেন তাদের কাছ থেকে অথবা মুয়াল্লেমের মাধ্যমেও জানা যাবে। হজের কোনো বিষয়ে কারো বিভিন্নতা দেখলে ক্ষেপে যাবেন না, আপনার যেভাবে জানা আছে সেভাবে আপনি করুন। হজের দীর্ঘ সফরে ধৈর্য্য হারাবেন না, সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য মানসিকতা রাখবেন।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি : হজ একটি দীর্ঘমেয়াদি সফর। সেখানে নানা কিছু প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনের দিকে তাকিয়ে মালামাল সংগ্রহ করতে হবে। আবার লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত ভারী না হয়ে যায়। কেন না এ বোঝা আপনাকেই বহন করতে হবে। তা ছাড়া বিমান ৩০ কেজির উপরেও নেবে না।
যা যা প্রয়োজন তা হলো : পাসপোর্ট ২.পরিচয়পত্র ৩. টাকা রাখার জন্য গলায় ঝোলানো ব্যাগ। ৪. ইহরামের কাপড় কমপক্ষে দুই সেট [শরীরের নিচের অংশের জন্য আড়াই হাত বহরের আড়াই গজ আর গায়ের জন্য তিন গজের সাদা সুতি কাপড়। আর নারীদের জন্য সেলাইযুক্ত স্বাভাবিক পোশাকই ইহরামের কাপড়। ৫. নরম ফিতাওয়ালা স্যান্ডেল। ৬. ইহরাম পরার জন্য প্রয়োজন হলে বেল্ট নিতে পারেন। ৭.গামছা, তোয়ালে, রুমাল। ৮. স্বাভাবিক পোশাক [দুই সেট ] ৯. সাবান পেস্ট ব্রাশ মেছওয়াক ১০. কুরআন শরিফ, হাদিস শরিফ বা কোনো ধর্মীয় বইপত্র। ১১. কাগজ কলম। ১২. ওষুধপত্র, চশমা। ১৩. বাংলাদেশী মুদ্রা [ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য ] ১৪. নারীদের জন্য বোরখা। ১৫. মোবাইল সেট [ও দেশে গিয়ে সিম কিনে নিতে হবে।] ১৬. সব মালামাল নেয়ার জন্য সুটকেস তালা চাবিসহ। ব্যাগের উপর ইংরেজিতে নিজের নাম ঠিকানা, ফোন নাম্বার, পাসপোর্ট নাম্বার লিখতে হবে।
ঢাকার হজ ক্যাম্প : আশকোনায় যে ক’দিন ক্যাম্পে থাকবেন আপনি শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকুন। সেখানে সব ধরনের টিকা, ভ্যাকসিন দেয়া, প্রশিক্ষণ দেয়া, বৈদেশিক মুদ্রা কেনাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই কিনতে এবং এ কাজগুলো সম্পন্ন করতে সাহায্যকারী পাবেন, সময় পাবেন। কোনো কাজ বাকি থাকল কি না, থাকলে তা সম্পন্ন করুন। আপনার মালামালের প্রতি নজর রাখুন।
ব্যাগেজ নিয়মকানুন : বিমানে হাত ব্যাগে ছুরি কাঁচি দড়ি নেয়া যাবে না। কোনো হাজী সাহেব সর্বোচ্চ ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন না। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধপত্র নেয়া যাবে না। চাল ডাল শুঁটকি গুড় ইত্যাদি পচনশীল খাদ্যদ্রব্য যেমনÑ রান্না করা খাবার তরিতরকারি, ফলমূল, পানসুপারি নেয়া যাবে না।
জরুরি কাগজপত্র বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে দেখাতে হবে : ১০ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, স্ট্যাম্প সাইজ ছবি ৬ কপি। পাসপোর্টের ২-৩ পাতার সত্যায়িত ফটোকপি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, টিকা কার্ড, নারীদের শরিয়তসম্মত মাহরামের সম্পর্ক সনদ, ব্যাংকে টাকা জমার রসিদ, সরকারি চাকরিজীবী হলে অফিস আদেশ, প্রত্যেক হাজী সাহেবের ৭ সংখ্যার একটি পরিচিতি নম্বর থাকে। প্রথম ৪টি সংখ্যা এজেন্সির নম্বার, শেষ ৩টি সংখ্যা হাজীর পরিচিতি নম্বর, ১০ সংখ্যার ট্র্যাকিং নম্বরটি প্রাক নিবন্ধনের সময় কম্পিউটারের দেয়া নম্বর জানা থাকলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হাজী সাহেবের নানা তথ্য পেতে পারেন।
ইহরাম : আপনার গন্তব্য ঢাকা থেকে মক্কা না মদিনা জেনে নিন। সিদ্ধান্ত নিন কোন ধরনের হজ করবেন, ধরি তামাত্তু হজ করবেন। যদি মদিনায় হয়, তাহলে এখন ইহরাম বাঁধা প্রয়োজন নেই। জেদ্দা নেমেই মদিনা চলে যান। এরপর সেখান থেকে হজের নিয়ত করে কমপক্ষে ৮ তারিখে মক্কা রওনা হবেন। মদিনা থেকে ফেরার পথে জুল হোলয়ফা বা বীরে আলি নামক স্থানে ইহরাম বাঁধবেন। এটা আমাদের মিকাত। আর মক্কা হলে ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগেই ইহ্রাম বেঁধে নিন। বিমানে ইহ্রাম বাঁধা দৃষ্টিকটু। বিনা ইহ্রামে মিকাত পার হওয়া কাফফারা দিতে হবে, গুনাহ্ হবে। ইহরাম গ্রহণের পর কিছু কিছু কাজকর্ম নিষেধ। যেমন সহবাস করা, সেলাই করা কাপড় পরা, কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেয়া, নখ চুল দাড়ি গোঁফ কাটা বা ছেঁড়া যাবে না। কোনো সুগন্ধি লাগানো যাবে না। কোনো শিকার করা যাবে না [ক্ষতিকর প্রাণী মারা যাবে ]
ঢাকা বিমানবন্দর : উড্ডয়নের সময় মতো বিমানবন্দরে পৌঁছান। লাগেজ বাঁধা হয়েছে দেখে নিন। কাউন্টারে লাগেজ দিয়ে টোকেন সংগ্রহ এবং যতœ করে রাখুন। জেদ্দা বিমানবন্দরে গিয়ে এই টোকেন দেখিয়ে লাগেজ সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, বিমানের টিকিট, টিকা দেয়ার কার্ড, টাকা পয়সা, দু-একটি ইসলামী বই গলায় ঝোলানো ব্যাগে রেখে দিন। এর পর বিমানে উঠে নির্ধারিত আসনে বসুন। লক্ষ রাখবেন অযথা সময় যেন না কাটে। বসে আছেন ইসলামী সাহিত্য পড়–ন। হজরত ইবরাহিম আ:, হজরত ইসমাঈল আ:-এর ইতিহাস পড়–ন। এই জ্ঞান আপনার হজকে মজবুত করবে। দোয়া দরুদ পড়–ন, না হয় ঘুমান, কেননা কয়েক ঘণ্টা পরেই আপনাকে শারীরিক ও মানসিক মেহনত করতে হবে।
জেদ্দা বিমানবন্দর : বিমান থেকে নামার পর দেখবেন, বিশাল এক হলঘরে বসার ব্যবস্থা আছে। অবতরণ কার্ড, হেলথ কার্ড, পাসপোর্ট বের করুন। হল ঘরের পাশেই ইমিগ্রেশন কাউন্টার। ইমিগ্রেশন পুলিশ ভিসা দেখে ছবি ও আঙুলের ছাপ নিয়ে পাসপোর্টে সিল দেবেন।
পাশেই মোয়াল্লেম কাউন্টার, প্রত্যেক মোয়াল্লেমের নির্দিষ্ট নম্বর আছে। কাউন্টার থেকে জেনে নিন তার অধীন কোন কোন হাজী এসে পৌঁছেছেন। লাল-সবুজ পতাকা অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্লাজায় যান। একটি তথ্য জেনে রাখলে ভালো অনুভূতি জাগবে, আপনি যে টার্মিনালে বসে আছেন চমৎকার এই টার্মিনালটির স্থপতি আপনার এক ভাই, একজন বাংলাদেশী। জনাব ফজলুর রহমান, যিনি এফ আর খান নামে পরিচিত।
হজ টার্মিনাল : হজ টার্মিনালে বাংলাদেশ প্লাজায় আছেন, বসুন, অপেক্ষা করুন, বিরক্ত হবেন না, চেঁচামেচি করবেন না, এখানে সময় লাগবে। সেখানে অজু করা, নামাজের জায়গা সবই আছে। নফল নামায পড়ুন, দোয়া দরুদ পড়–ন, তালবিয়া পড়–ন। প্রতি ৪৫ জনকে নিয়ে এক একটি বাস মক্কার উদ্দেশে রওনা হবে। আপনাকে কব্জি বেল্ট দেয়া হবে, হাতে পরে নেবেন। যাতে মোয়াল্লেমের নম্বর লেখা থাকবে। বাইরে রেরুতে সব সময় কব্জি বেল্ট এবং পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়েই রাখবেন। আপনার সিরিয়াল এলে বাসে উঠুন, জেদ্দা থেকে মক্কা পৌঁছতে দুই ঘণ্টা লাগবে। তালবিয়া পড়–ন, দোয়া দরুদ পড়তে থাকুন। বাস আপনাকে আপনার জন্য বরাদ্দকৃত হোটেলের সামনে নামিয়ে দেবে।
মক্কায় পৌঁছার পর : হোটেলে পৌঁছার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। নামাজের ওয়াক্ত হলে আদায় করুন। এর পর দল বেঁধে ওমরাহ সেরে আসুন।
মসজিদুল হারামে অনেক প্রবেশপথ রয়েছে। সবগুলোই একই রকমের মনে হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে আরবি, ইংরেজিতে নম্বর দেয়া আছে, নাম লেখা আছে। আপনি সঙ্গীদের সাথে ঠিক করুন কোন পথ দিয়ে ঢুকবেন, যেই পথ দিয়ে ঢুকবেন সেই পথ দিয়েই বের হবেন। তাওয়াফ করতে গিয়ে সঙ্গীদের কেউ হারিয়ে গেলে তিনি ওই নির্দিষ্ট প্রবেশ পথে এসে অপেক্ষা করবেন।
এখানে জুতা রাখা নিয়ে একটি সমস্যায় পড়তে হয়। সবচেয়ে ভালো হয়, জুতা রাখার ব্যাগ সাথে রাখুন। অথবা জুতা রাখার জায়গা রয়েছে সেখানে রেখে নম্বরটি মনে রাখুন।
কাবা ঘরের চারটি কোণের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে, যেমনÑ হাজরে আসওয়াদ, রকনে ইরাকি, রকনে শামি, রকনে ইয়ামেনি। তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করবেন পরবর্তী কোণ রকনে ইরাকি [ দুই কোণের মাঝে মিজাবে রহমত ও হাতিম ] তারপর রকনে শামি ও রকনে ইয়ামেনি। এরপর হাজরে আসওয়াদ এলে তাওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ হয়। এ ভাবে একে একে সাত চক্কর দিতে হবে।
তাওয়াফ শেষে সাফা-মারওয়া গিয়ে সাঈ করুন। সাঈ সাফা থেকে শুরু হয়ে মারওয়ায় গিয়ে শেষ হয়। এ ভাবে সাতটি দৌড় সম্পন্ন হলে একটি সাঈ পূর্ণ হয়।
মাথার চুল চেঁছে বা ছোট করবেন।
ওমরাহ : হিল [কাবা শরিফের সীমানার বাইরে মিকাতের স্থান] থেকে অথবা মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে তাওয়াফ করা, সাফা মারওয়া সাঈ করা এবং মাথার চুল ফেলে দেয়া বা ছোট করাকে ওমরাহ বলে।
পরামর্শ : দেশে থাকাকালীন প্যাকেজের সুবিধাদি যেমন মক্কা-মদিনায় থাকা খাওয়া, কোরবানিসহ অন্য সুবিধার কথা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে বলুন এবং লিখিতসহ বুঝে নিন। কোরবানি বা দম দেয়ার খরচাদি আইডিবি ব্যাংকে পরিশোধ করুন, এতে সময় বাঁচে ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়, এ সময়ে হজের অন্য কাজগুলো সারতে পারবেন। কোনো ব্যক্তিকে দিলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কখোনো অসুস্থ হয়ে পড়লে, দুর্ঘটনায় পড়লে বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিক্যাল টিমকে জানান।
আপনার যেকোনো সমস্যা হজ মিশনের আইটি হেল্প ডেস্ক সাহায্য করবে।
তাওয়াফ, সাঈ করাসহ অন্য প্রত্যেকটি কাজই এক একটি ইবাদত, অতএব অহেতুক কথা না বলে, কেবল ছবি না তুলে দোয়া দরুদ পড়তে থাকুন।
ট্রাভেল এজেন্সি আপনাকে দেয়া যে সুবিধাদির কথা বলেছিল, মক্কায় গিয়ে তা যদি না পান বাংলাদেশ হজ মিশনকে জানান। সৌদি ওয়াজারাতুল হজ [হজ মন্ত্রণালয় ] বরাবর লিখিত জানান।
মক্কায় ঐতিহাসিক স্থান সমূহ : হেরা গুহা, সাওর পর্বত, জান্নাতুল মা’আলা [কবরস্থান], মসজিদে জিন, মক্কা জাদুঘর ০ গিলাফ তৈরির কারখানা ইত্যাদি। মদিনায় : #মসজিদুল নববী [রিয়াজুল জান্নাহ] #জান্নাতুল বাকি [কবরস্থান] # ওহুদ পাহাড় # খন্দক স্থান # মসজিদে কুবা # মসজিদে কেবলাইতাইন # মসজিদে জুমআ # মসজিদে গামামাহ # মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় # বাদশাহ ফাহাদ কুরআন শরিফ প্রিন্টিং কমপ্লেক্স ০ হজ করার পাশাপাশি এসব ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে এলে মনে ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত হবে।
* দেশে ফেরার সময় মক্কা ও মদিনায় সিটি চেকিং হয়। মালামাল নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করুন। হজের সময় লক্ষ রাখবেন।
* হজের ৫ দিন মিনা আরাফাত মুজদালিফা মিনায় অবস্থান করতে হয়। তাই হাত ব্যাগে অন্যান্য জিনিসের সাথে এক সেট ইহ্রামের কাপড় রাখবেন। মক্কা থেকে মিনার দূরত্ব ৮ মাইল, আরাফাত থেকে মুজদালিফার প্রায় ৯ কিলোমিটার, মুজদালিফা থেকে মিনার দূরত্ব প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। এসব জায়গা ভ্রমণে আপনি হেঁটেও যেতে পারেন, অনেকে করেও তাই। আপনার সাথে ম্যাপ থাকলে হারানোর ভয় কমবে, বুঝেশুনে চলতে পারবেন। ছাপানো মক্কা-মদিনা মিনা আরাফাতের মানচিত্র পাওয়া যায়। মানচিত্র দেখে চললে কোনো ভয় থাকবে না। মোয়াল্লেম অফিস থেকে মোয়াল্লেম নম্বর এবং তাঁবু নম্বর দেয়া কার্ড দেবে, যতেœ রাখুন। মিনায় জামারা থেকে আপনার তাঁবু, তাঁবু থেকে মসজিদুল হারাম, যত দূরই হোক না কেন ঘাবড়াবেন না, কার্ড দেখাবেন, ম্যাপ দেখে চলবেন, কাউকে জিজ্ঞেস করবেন, পেয়েই যাবেন। * আরাফাতে অনেক প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে খাবার দিয়ে থাকে। সেখানে ধাক্কাধাক্কি হয়, সাবধান। ০ মিনায় চুল কাটার লোক পাওয়া যায়। নিজেরা কাঁটার চেয়ে তাদের দিয়ে কাটালেই ভালো।
দোয়া কবুলের জায়গাসমূহ :পবিত্র মক্কায় কাবা শরিফের বিভিন্ন জায়গায় দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যেমন-
১. মাতাফ [তাওয়াফ করার স্থানকে মাতাফ বলে।] ২. মুলতাজাম [হাজরে আসওয়াদ থেকে বায়তুল্লাহর মধ্যে ] ৩. হাতিমের মধ্যে ৪.মিজারে রহমতের মধ্যে ৫. কাবাঘরের ভেতবে। ৬. জমজম কূপের কাছে। ৭. মাকামে ইবরাহিমের কাছে। ৮.সাফা-মারওয়া পাহাড়ের ওপর। ৯.সাফা-মারওয়ার মাঝখানে। ১০.বায়তুল্লাহর দিকে যখন নজর পড়ে। ১১. রকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে। ১২. আরাফাতের ময়দানে। ১৩. মুজদালিফার ময়দানে। ১৪. মিনার ময়দানে এবং মিনার মসজিদে খায়েফে। ১৫. কঙ্কর মারার স্থানে।
উপসংহার : হজ নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর মধ্যে অনেক গুরুত্ব মর্যাদা কল্যাণ নিদর্শন নিহীত রয়েছে। পবিত্র কুরআনে হজরত ইবরাহীম আ: হজের জন্য আহ্বান করার সময় উল্লেখ করেন যে ‘মানুষ এসে দেখুক এই হজব্রতে তাদের জন্য কী কী কল্যাণ নিহীত রয়েছে’। একটি পূতপবিত্র এবং ঐকান্তিক নিষ্ঠাপূর্ণ হজ সম্পর্কে বিশ্বনবী ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খাঁটিভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করে এবং এ ব্যাপারে সকল প্রকার লালসা এবং ফাসেকি থেকে দূরে থাকে সে সদ্যোজাত শিশুর মতোই [নিষ্পাপ হয়ে] ফিরে আসে’Ñ বুখারি শরিফ। এ রূপ একটি হজ সম্পন্ন করলে একজন মানুষের হৃদয়ে বহুদিন ধরে সেই প্রভাব স্থায়ী হয়ে থাকে। হারাম শরিফে কদম রেখে হাজী সাহেবরা প্রত্যেক পদে পদে যেসব মহামানবের অতীত কার্যক্রমের স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পানÑ যারা আল্লাহর বন্দেগি করে আনুগত্য করে আল্লার দ্বীন কায়েম করতে নিজেদের সর্বস্ব কোরবানি করেছেন। এসব সুস্পষ্ট নিদর্শন নানা স্থানে রয়েছে, যা প্রত্যক্ষ করে একজন মুসলমান আরো তাকওয়াবান হয়ে ওঠেন।
লেখক : প্রবন্ধকার

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.