রেস্টুরেন্টে নান্দনিকতা
রেস্টুরেন্টে নান্দনিকতা

রেস্টুরেন্টে নান্দনিকতা

মো: নজরুল ইসলাম

মানুষ এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে। বিশেষ করে শহরের মানুষ। যত সময় গড়াচ্ছে মানুষ তত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কর্মব্যস্ত মানুষের খাবার সময়টাও যেন হাতে নেই। সময় বাঁচানোর জন্য ব্যস্ত মানুষ রেস্টুরেন্টমুখী হচ্ছে। আর প্রয়োজনের তাগিদেই শহরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক সময় এ দেশের শিক্ষিত তরুণসমাজ লেখাপড়া শেষ করে একটি চাকরির আসায় বেকার জীবনযাপন করত। এখন সময় পাল্টে গেছে। শিক্ষিত যুবসমাজ এখন বেকার বসে না থেকে নানান পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, তারা দারুণভাবে সফলও হচ্ছে। তরুণ সমাজের পছন্দের পেশার তালিকার মধ্যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা অন্যতম।

প্রতিটি মানুষেরই খাবার প্রয়োজন। আর ব্যস্ত মানুষের খাবারের জোগান দিতে গড়ে ওঠে নানান স্বাদের রেস্টুরেন্ট। সাধারণত জনবহুল এলাকায় রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠে। তবে আবাসিক এলাকার চেয়ে মার্কেট, অফিস-আদালত, পার্ক, সিনেমা হল, বিনোদন কেন্দ্র, হাইওয়ে রোডের বিশেষ কোনো এলাকায় প্রভৃতি জন অধ্যুষিত এলাকা রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের মানুষ মূলত অতিথিপরায়ণ ও ভোজনরসিক। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে এবং ক্রেতার ধরন, ক্রেতার রুচি প্রভৃতি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠে। যেমন : দেশীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট, চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, থাই রেস্টুরেন্ট, ইতালিয়ান রেস্টুরেন্ট, মালয় রেস্টুরেন্ট, ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট, মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট প্রভৃতি। তবে বাংলাদেশের পরিবেশে দেশীয় খাবারের পরই থাই, চায়নিজ ও ইন্ডিয়ান খাবারের চাহিদা বেশি। তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশের খাবারের জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


রেস্টুরেন্ট ডিজাইন
আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলোয় মানুষ যে শুধু ক্ষুধা নিবারণের জন্য যায়, তা নয়। এটি এখন বিনোদনেরও অংশ। ব্যস্ত শহরের ছুটির দিনগুলোয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘোরাঘুরি ও ভোজের আয়োজন করা হয়। এখন রেস্টুরেন্টগুলো অনেক বড় পরিসর, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন হওয়ায় নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেমন : বিয়ে, জন্মদিন, ইফতার, ব্যবসায়িক প্রোগ্রাম প্রভৃতি।

রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র ডিজাইন স্থান-কাল-পাত্রভেদে করতে হয়। প্রথমে দেখতে হয় রেস্টুরেন্টের কাস্টমার কারা। ডিজাইনের ক্ষেত্রে তাদের বয়স ও রুচি বিবেচনা করতে হয়। আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলোয় উড প্যানেলিং ফলস সিলিংয়ে হিডেন লাইট, স্পট লাইট, হ্যাঙ লাইটসহ নানান লাইট ব্যবহার করে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করা হয়। শুধু ফলস সিলিং নয়- টেবিল, চেয়ার, কলাম প্রভৃতি জায়গায় প্রতি ইঞ্চি জায়গা ধরে কাজ করতে হবে।

রেস্টুরেন্টের ফার্নিচারের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ সিটিং সিস্টেম ইন্টেরিয়রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সাধারণত কাঠের চেয়ার-টেবিলই বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে টেম্পারড গ্লাস, এমএস মেটাল সিট, এসএস সিট, পিভিসি বোর্ড, মেলামাইন বোর্ড, বার্মাটিক বোর্ড প্রভৃতি ম্যাটেরিয়াল দিয়েও টেবিল তৈরি করা যায়। চেয়ারের ক্ষেত্রে নকশা করা কাঠের চেয়ারই ভালো। এখন আর্টিফিসিয়াল উডের বেন্ড করা চেয়ার পাওয়া যায়। ইচ্ছে করলে চেয়ারের পরিবর্তে সোফাও ব্যবহার করা যায়। ওয়ালের বিশেষ বিশেষ জায়গায় উড কাটিং বা এমডিএফ বোর্ড নকশা কাটিং করে প্রয়োজনমতো লাইটের ব্যবহার করলে ভালো হয়।


রেস্টুরেন্টে পেইন্টের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি ইচ্ছে করলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়াল সিলেক্ট করে ওয়াল পেপার বা ওয়াল টেক্সার বা ওয়াল প্যানেল করতে পারবেন। ফ্লোরে ভিন্নতা আনার জন্য টাইলসের পরিবর্তে উডেন ফ্লোর ব্যবহার করতে পারেন। রেস্টুরেন্টের ভেতর ন্যাচারাল পরিবেশ তৈরির জন্য লাইভ প্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে পরিবেশ অনেক প্রাণবন্ত মনে হবে। সর্বোপরি রেস্টুরেন্টের ডিজাইনের পাশাপাশি খাবারের মান, লোকেশন, সার্ভিস সব কিছুই একটা সফল রেস্টুরেন্টের বৈশিষ্ট্য হওয়া জরুরি।


,লেখক : ইন্টেরিয়র ডিজাইনার লাইভ ডিজাইন

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.