ব্যাচেলর ছগির আলী...

মাহবুবুর রশিদ

মেসের পাতলা ডাল আর আলুভর্তায় ত্যাক্ত হয়ে এবার মেস ছেড়ে বাসায় ওঠার সিদ্ধান্ত নিলেন ছগির আলী। আমাদের আট সদস্যের এই মেসে ছগির আলীর এমন কঠিন সিদ্ধান্তকে আমরা তরলের মতো মেনে নিলাম। কারণ ছগির আলীর নাকের ভয়ানক ডাকে মেসে থাকা সব সদস্যেরই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, প্রতিদিনের আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায়। না পারি কইতে না পারি সইতে। এ মুহূর্তে ছগির আলীর এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতো। আজ সাতসকালে ফুলহাতা টিশার্ট, প্যান্ট আর স্যান্ডেল পায়ে বাসা খোঁজার উদ্দেশে মেস থেকে বের হয় ছগির আলী। অবশ্যই আমরাও তার জন্য বাসা খোঁজার পাশাপাশি কিছু টিপসও বাতলে দেই। টু-লেট লেখা না দেখে কোনো বাসার কলিং বেলে চাপ না দেয়ার জন্য তাকে বারবার সতর্ক করলাম। সারা দিন হেঁটে হেঁটে বাসা খোঁজে ভীষণ কান্ত ছগির আলী। আর হেঁটে হেঁটে যে, বাসা খোঁজা হয়েছে তার জলন্ত প্রমাণ আমরা মেসে আসার পর আবিষ্কার করলাম। কারণ তার পায়ের জুতো জোড়া সার্প ব্লেডের মতো হালকা হয়ে গেছে। প্রথম দিন পুরো শহর ঘুরে টু-লেট লেখা বাসার দেখা না মিললেও আলুর ভর্তা আর ডালের বেগে নি¤œচাপ শুরু হলে একাধিক টয়লেটের সাাৎ করে ছগির আলী।
দ্বিতীয় দিন একই উদ্দেশে কাক ডাকা ভোরে খালি পেটে মেস থেকে বের হয় ছগির আলী। খালি পেট থাকায় আজ টয়লেটের দেখা না পেলেও এক পর্যায়ে ঠিকই টু-লেট লেখা বাসার দেখা পায় সে।
হাত কেঁপে কেঁপে কলিং বেলে চাপ দেয় ছগির আলী। ধপাস করে দরজা খোললেন বাসার মালিক!
কী চাই?
অনেকটা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ছগির আলী বলে, আঙ্কেল বা...বা...বাসা বাড়া হবে।
বাসা বাড়া হবে মানে? তুমি ব্যাচেলর নাকি? বউ-বাচ্চা কই? তাছাড়া নতুন আইন হইছে, টিভি লাগব টিভি কই? জঙ্গি-টঙ্গি নাকি। কিছু নেই চলে আসছ বাসা বাড়ার খোঁজে। যত্তসব!
এক গাদা কথা বলে মুখের ওপর দরজার খিল লাগিয়ে দিলেন বাসার মালিক। দরজার টানে অল্পের জন্য নাক রা পেলো ছগির আলীর।
ব্যাচেলর শব্দটি শুনে ছগির আলীর মাথায় আকাশ ভেঙে না পড়লেও বিলবোর্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম। তার হার্টবিট অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেল। ব্যাচেলর! ব্যাচেলর। মালিক বড় অঙ্কের কোনো গালি দিলো নাকি। মহা চিন্তায় পড়ল ছগির। কলেজে একাধিকবার চ্যান্সেলর শব্দটি শুনলেও ব্যাচেলর শব্দটির সাথে এই প্রথম পরিচয় তার। এই মুহূর্তে আলুর ভর্তার চেয়েও ব্যাচেলর শব্দটি কঠিন মনে হচ্ছে তার কাছে।
মনমরা হয়ে সন্ধ্যায় মেসে ফিরল ছগির। আমাদের কাছে ব্যাচেলর শব্দের ব্যাখ্যা জানতে চাইল। আমরাও তাকে হাতেকলমে ব্যাচেলর শব্দের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বর্ণনা করলাম। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল ছগির আলী। এবার নাকি ব্যাচেলরের অজুহাতে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেবে সে। যেই ভাবা, সেই কাজ।
মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, সে অযথা বাসা ভাড়া খুঁজে আর জুতো য় করলে চলবে না। সিদ্ধান্ত পাল্টাল। বাসার বদলে পাত্রী খুঁজতে হবে। কঠোর সিদ্ধান্ত নিল ছগির আলী। ব্যাচেলর থেকে দোচেলর (বিবাহিত) হয়ে সেই মালিকের দরজায় কড়া নাড়বে যেখান থেকে ব্যাচেলর শব্দের শুরু। আমরাও তাকে প্রচণ্ড সাহস যোগালাম।
পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হলো ব্যাচেলর পাত্রের জন্য গুণবতী, রূপবতী, ময়নামতী পাত্রী প্রয়োজন। হ

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.