যানজট নিরসনে কিছু ডিজিটাল উপায়

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

অতি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার জন্য ঢাকার বেশির ভাগ রাস্তা এখন কঙ্কালসার। এমনিতেই ঢাকার রাস্তায় জ্যাম বাসা বেঁধে থাকে, তার ওপর কঙ্কালসার রাস্তা দিয়ে চলতে জ্যাম যে আরো তীব্র আকার বিশেষ করে বিগ শোর বডির মতো কঠিন আকার ধারণ করবে, এটি কানার ভাই অন্ধও বলে দিতে পারবে। তাই আসুন ঢাকার জ্যাম মানে যানজট নিরসের কিছু উপায় দেখে নিই। লিখেছেন মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন
ঢাকার যানজট জনগণের জন্য হিমালয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্র্ভূত হয়েছে। সাহস ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণের আজ ঢাকা শহরে যানজট। যানজট নিরসনে যানমন্ত্রীকেই নিতে হবে অনন্ত জলিলের ভূমিকা। অদম্য শক্তি নিয়ে ঘোষণা দিতে হবে ‘আজ থেকে ঢাকা শহরে যান নিষিদ্ধ’ অর্থাৎ ঢাকাকে যান নিষিদ্ধ শহর বলে ঘোষণা দিতে পারেন তিনি। পরের দিন থেকে ঢাকা শহর হয়ে যাবে পুরোপুরি ফাঁকা। প্রশ্ন আসতে পারে, জনগণ চলবে কিভাবে? এ ক্ষেত্রে চাকাওয়ালা জুতার প্রচলন করা যেতে পারে। সবাই উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাবে!

২.
ঢাকার রাস্তাগুলোতে এমনিতেই একটু বৃষ্টি হলে কোমর সমান পানি জমে যায়। তখন যানজটের পরিমাণ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। মানুষ যেহেতু পরিবর্তনে বিশ্বাস করে, সেহেতু ঢাকার রাস্তাগুলোর আকার পরিবর্তন করা যেতে পারে। ঢাকার সব রাস্তা খুঁড়ে খাল খনন করা যেতে পারে। এতে সারা বছর খালের পানির ওপর দিয়ে জাহাজ দিয়ে আমজনতা কর্মস্থলে যাতায়াত করবে। এর ফলে এক দিকে ঢাকা শহরের যানজট কমে আসবে, অন্য দিকে ঢাকা বসেই আমরা ভেনিস শহরের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারব।


আমরা ফোর লেন রাস্তা দেখেছি, কিন্তু এইট লেন রাস্তা দেখিনি। ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো এইট লেন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের বিল্ডিংগুলো ভাঙতে হবে। কোনো ব্যাপার না। এসব বিল্ডিং ভেঙে বিল্ডিংয়ের মালিকদের জন্য রাস্তার ওপর ওভারব্রিজের সম উচ্চতা থেকে ওপরের দিকে বহুতল ভবন করা যেতে পারে। এতে জনগণও রাস্তার ওপর নির্মিত ঝুলন্ত ভবনে ঘুমিয়ে আরাম পাবে। বহুতল ভবনের নিচের রাস্তাগুলো হয়ে যাবে বিশ্বের বড় সুড়ঙ্গ রাস্তা। চালকরাও গাড়ি চালাতে পারবে নাকে তেল দিয়ে।


এনালগ নয়, এখন আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করি। যেহেতু বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোডে অবস্থান করছে, সুতরাং ডিজিটালাইজেশনের পরশ হিসেবে ঢাকা শহরের বাস, ট্রাক, ছোট বড় সব যান উচ্ছেদ করে তার স্থলে হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। আশা করা যায়, হেলিকপ্টার আকাশে একবার উড়তে পারলে তার চলাচলের জায়গার অভাব হবে না।


যানজট নিরসনের ওপরের পন্থাগুলো ব্যর্থ হলে যানজট নিরসন কেন, যানজট শব্দটি চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার পন্থাও আছে। এবার সেটাই বলি, যেহেতু যানজটের কথা শুনলেই আমরা আঁতকে উঠি। যানজটের কথা মনে হলেই ঘুম থেকে লাফ দেই, শরীরটা ঘামতে শুরু করে। সেহেতু এই যানজট শব্দটা ডিকশনারি থেকে মুছে দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যানজট নামক বিষাক্ত শব্দটি থেকে থাকবে সম্পূর্ণ মুক্ত। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.