আগডুম বাগডুম কবিতা

শরৎ
আবুল হোসেন আজাদ

নীল আকাশে এলোমেলো শুভ্র মেঘের ভেলা
নদীর পাড়ে কাশের বনে উতল হাওয়ার খেলা।
হঠাৎ নামা বৃষ্টির সাথে রোদের লুকোচুরি
বিল বাঁওড়ে ঝিলের জলে ফোটে শাপলা কুঁড়ি।

রাতের শেষে সকাল বেলা শিশির ঝরা ঘাসে
সূর্য উঠে রোদ ছড়িয়ে ঝিলমিলিয়ে হাসে।
শিউলি ফুটে রাতের বেলা ভোরে ঝরে যায়
মন ম ম সুরভি তার বাতাসে ছাড়ায়।

মেঘ সরিয়ে চাঁদটা রাতে জোছনা ঝরায় অথৈ
ছোখ ফেরানো যায় আহা দেখবে তুমি যতই
সবুজ সতেজ ধানের চারা মাঠে মাথা তুলে
ঢেউ খেলানো বাতাস পেয়ে যায় সে শুধু দুলে।

ঝর ঝর অঝোর ধারার বর্ষা ঋতু শেষে
এমনি করে প্রকৃতিকে সাজায় শরৎ এসে।

মেঘের মেয়ে
মিলন সরকার

মেঘের মেয়ে বৃষ্টি
কী অপরূপ সৃষ্টি
টাপুর-টুপুর করে ঝরে
কাড়ে সবার দৃষ্টি।

টাপুর-টুপুর করে যখন
মেঘের মেয়ে ঝরে
ছুঁয়ে দেখতে মনটা আমার
আনচান আনচান করে।

পিচ্চি এখন পিচ্চি নাই
সৈয়দ মাশহুদুল হক

খোকা এখন বলতে পারে
মায়ের সাথে চলতে পারে
নিজের হাতেই খাইতে পারে
একলাই সে নাইতে পারেÑ
নয় সে এখন পিচ্চি
দাদার লাঠি চাইলে পরেÑ
বলতে পারে দিচ্ছি।

নিজে নিজেই পড়তে বসে
বলতে হয় না পড়ো
খোকাকে ক্যান তোমরা তবু
পিচ্চি মনে করো?
চেয়ে দেখো খোকা এখন
আগের চেয়েও বড়।

পিচ্চি কি আর পিচ্চি আছে
টইটই করে হাঁটে
ঘরের জিনিস রেখে আসে
উঠোন কিংবা মাঠে,
মাঝে মধ্যে হাত ফসকে তার
গ্লাস-বাটি যা ফাটে।

সামনের মাসে খোকার বয়স
হবে পুরো তিন
তার দুষ্টুমিতে মায়ের কাটে
চিন্তায় সারা দিন।

শরৎ এলো দেশে
আবদুল কুদ্দুস ফরিদী

শাদা মেঘের ভেলায় চড়ে শরৎ এলো দেশে,
নদীর কূলে কাশফুলেরা পাচ্ছে না কুল হেসে।
আবীর রাঙা সন্ধ্যা আসে শিউলি ফুলের বনে,
মৌমাছিরা দুলে ওঠে মধুর গুঞ্জরণে।
শাপলা ফোটে শান্ত নিথর ঝিলের কালো জলে,
বলাকারা পাখা মেলে নীল আকাশের তলে।
হাকালুকির হাওর পারে চলনবিলের তীরে,
সন্ধ্যা নামে নীরব হয়ে পাখির পাতার নীড়ে।
রুপালি রঙ জোছনা ঝরে শরৎ নিশিরাতে,
শিশির জমে ঘাসের শীষে প্রশান্তময় প্রাতে।
স্বচ্ছ আকাশ নিবিড় নীলাভ শরৎ ঋতুর রূপ,
দুগ্ধ ধরল ঋতুর রানী শুভ্র অপরূপ।

মধুময় দিন
মোস্তফা নূর

এক দুই তিন চারে খেলা ভেঙে যেত
চোখের বাঁধন খুলে হাতে নিয়ে নিত।
কানামাছি থেকে যেতো অপূর্ণ খেলা
আজ ভাবছি আমার সে কিশোর বেলা।
আম জাম জামরুল আষাঢ়ি কাঁঠালে
কী মজা হতো যে নানাজি পাঠালে।
এত সব রসাফলে ভরে যেত বাড়ি
আজ নানা নানী নেই চলে গেছে ছাড়ি।
গাছগুলো বেচে দিয়ে মামারা খেয়েছে
আম্মা তো দেখে সব দুঃখ যে পেয়েছে।
ভাবিনি তো বাগানটা বেচে দেবে ঠিক
টাকার ঘ্রাণে ওরা হারিয়েছে দিক।
রুই মাছে ভরপুর পুকুরের পানি
নানাজান মাছ ধরে জাল দিয়ে টানি
লাল দুটি চোখ তুলে মাছেরা তাকায়
নানীজি বলেন দেখে ডিম ওলা হায়!
পুকুরের পাড়ে ছিল মধুগাছ লতা
সোনা মাপে ফল দিয়ে মিষ্টি তো পাতা।
নেই সেই মধুগাছ মধুময় দিন
হারিয়েছি সে সময় ব্যথা চিন্ চিন্।

খেলার ডাক
আযাদ কামাল

আয়রে যূথী আয়রে আঁখি
খেলতে সবে যাই
খেলার মাঠে খুঁজে দেখি
কে কে তবে নাই?
খেলার বেলা হইছে মেলা
কেউ দেবে না ফাঁকি
শম্পা শারমিন কোথায় গেল
চলগে ওদের ডাকি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.