সামুদ্রিক পদ্মের কথা

শাহরিয়ার মাসুম

তোমরা হয়তো সামুদ্রিক পদ্মের কথা শুনেছ। প্রাণিবিদ্যায় ভালো জানাশোনা নেই এমন সবাই হয়তো একে ফুল ভেবে ভুল করবে। কারণ এটি দেখতে অবিকল ফুলের মতোই মনে হয়। তবে এরা ফুল নয়। উদ্ভিদও নয়। এরা ইকাইনোডার্মাটা পর্বভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। সমুদ্রে বাস এবং দেখতে অনেকটা পদ্মফুলের মতো হওয়ার কারণেই এদেরকে সামুদ্রিক পদ্ম বলা হয়। ইংরেজিতে সি লিলি (ঝবধ ষরষু)।
সামুদ্রিক পদ্মের দেহের প্রধান অংশ ক্যালিক্স। এটা এদের বৃন্তের ওপর অবস্থান করে, যা দেখতে অনেকটা মুকুটের মতো মনে হয়। দেহের প্রধান অঙ্গগুলোও এখানে অবস্থান করে। ক্যালিক্স থেকে পালকসদৃশ পাঁচ থেকে ১০টি বাহু গঠিত হয়। তবে এ বাহুর সংখ্যা বিভিন্ন সামুদ্রিক পদ্মে বিভিন্ন হয়। যেমন উষ্ণ এলাকার প্রজাতির ক্ষেত্রে এ বাহুর সংখ্যা ২০০ পর্যন্ত হয়। প্রত্যেক বাহু আবার প্রচুর কোমল পিনিউল দ্বারা সজ্জিত থাকে। এগুলো এরা খাদ্য সংগ্রহের জন্য ছড়িয়ে দেয়। এদের বাহু ও পিনিউলগুলো পানির প্রবহমান স্রোত থেকে খাবার সংগ্রহের ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। তবে যখন এরা খাবার খায় না অথবা শত্রুর ভয়ে তটস্থ, তখন এদের বাহুগুলো ভাঁজ করে ফেলে। বাহুগুলোর ভিত্তিমূলে একটি কেন্দ্রীয় চাকতি থাকে। এ চাকতিতেই এদের মুখের অবস্থান।
প্রাণী হিসেবে সামুদ্রিক পদ্মের দেহ জীবন্ত কলা বা টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এদের দেহের প্রায় পুরো অংশই ক্যালসিয়াম কার্বোনেট দিয়ে গঠিত। যার ফলে এদের দেহ-কাঠামো অনেক দৃঢ় হয়। এর কারণে এরা দেহকে স্বাভাবিকভাবে বাঁকাতে পারে না।
বর্তমান সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিক পদ্ম সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছেন, তা এদের জীবাশ্ম থেকে। এখন পর্যন্ত সামুদ্রিক পদ্মের প্রায় ৮০টি প্রজাতির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা গেছে। তবে এদের স্বভাব বা গাঠনিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। এর কারণ, এরা সমুদ্রের গভীর খাদে বসবাস করে। অনেক সময় এরা ১,২০০ থেকে ১,৩০০ মিটার গভীরতায় বসবাস করে। যেখানে কোনো আলো প্রবেশ করতে পারে না।
সামুদ্রিক পদ্মের দেহের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.