তারুণ্য ধরে রাখে ইস্পাহানির ব্লেন্ডারস চয়েস গ্রিন টি

আলমগীর কবির

সুস্থ ও সুন্দরভাবে দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা সবার। বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবীতে ৭০ বছর বয়সও কিন্তু খুব বেশি নয় এখন। এই বয়সে গিয়েও যদি বয়সের তুলনায় অনেকটা বেশি সুস্থ, সুন্দর, কর্মঠ আর লাবণ্যময়ী হন; তবে তার আনন্দ সম্ভবত দ্বিগুণ হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ দিন লাবণ্য ধরে রাখার জন্য অনেক কিছু করতে হবে বলে যারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন, তাদেরও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সুস্থ থাকার জন্য খেতে হবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুধু মানুষকে সুস্থ রাখে না, এটি ডিএনএ কোষ সুরক্ষিত রাখে। এ ছাড়া ক্যান্সার প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে।
মানুষের দেহে প্রতিনিয়ত রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে থাকে। এ বিক্রিয়ায় যে মুক্ত মৌল তৈরি হয়, তা মানুষের দেহে জমা হতে থাকে। তবে কি সেটা নিয়ে ভয়ের কিছু আছে? পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার বলেন, মানুষের শরীরে প্রতিদিন যে দূষণ জমা হতে থাকে, তা থেকে কিন্তু নানা ধরনের ক্ষয় হতে থাকে। তা থেকে বাঁচতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভালো কাজ করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
খেয়াল করলে দেখা যাবে, যারা নিরামিষভোজী তাদের ত্বকের সাথে অনেক বেশি আমিষভোজীদের ত্বকের পার্থক্য থাকে। সেটার অনেক বড় একটা কারণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। সব ধরনের তাজা ফল আর সবজিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এ ছাড়া বিটাক্যারোটিন ‘সি’ আর ভিটামিন ‘ই’সমৃদ্ধ খাবার অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো উৎস।
মানুষের শরীরে যেসব মুক্ত মৌল তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ করা যেহেতু সম্ভব নয়, তাই চিন্তা করতে হবে কিভাবে এসব মৌলের ক্ষতি কমানো যায় বা মুক্ত মৌলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা যায়। এ কাজটিই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট করছে। আলফা ক্যারোটিন, বিটাক্যারোটিন লাইকোপিন, ক্রিপটোজ্যানথিন, ক্যানজ্যানথিন লিউটেন, বায়োফ্ল্যাভোনয়েডেস পলিফিনলিক এসিড, ট্যানিন, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ই’ কপার, জিংক, সেলেনিয়াম, আয়রন ইত্যাদি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
আমাদের শরীরের ভেতর যেসব সুপার অক্সাইড ডিসমিউটেজ, গ্লুটাথিওন পার-অক্সাইড ইত্যাদি এনজাইম আছে, এরাও এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। অনিয়ন্ত্রিত আর বেহিসাবি খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে রোজকার চাপ, দুশ্চিন্তা, ধূমপান ইত্যাদি শরীরের এই নিজস্ব অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ক্ষতি করে দেয়। তাই সুস্থ ও লাবণ্যময় থাকতে চাইলে নিয়মিত খেতে হবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
প্রশ্ন হচ্ছে, নিয়মিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোথায় পাওয়া যাবে, সহজ উত্তর ‘গ্রিন টি’। এ সময়ের সবচেয়ে উপকারী পানীয়গুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয় এই চাকে। বলা যায়, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয় এই গ্রিন টি। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনে সর্বপ্রথম ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় সবুজ চা বা গ্রিন টি। সময়ের পরিবর্তনে গ্রিন টি-এর জনপ্রিয়তা পুরো বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ে। গবেষকেরা বলেন, গ্রিন টি’তে রয়েছে অনেক রোগের নিরাময়গুণ। গবেষণায় জানা যায়, গ্রিন টি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল লেভেলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। গ্রিন টি-এর প্রধান কারিশমা হলোÑ এর ভেতর থাকা উপাদান Epigallocatechin Gallate (EGCG), যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, গ্রিন টি ও রেগুলার টি দুটোই কিন্তু একই গাছ থেকে তৈরি হয়। গ্রিন টি সবচেয়ে কম প্রসেস করা হয় বলে এতে উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ অনেক বেশি আর ক্যাফেইন অনেক কম। গ্রিন টি-এর স্বর্গভূমি বলা হয় চীনকে। বিশ্বজুড়ে শৌখিন ও স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে এই চায়ের কদর অনেক বেশি। বাংলাদেশে বসেও এখন চীনে উৎপাদিত গ্রিন টি-এর স্বাদ নেয়া যায়। সুযোগ করে দিয়েছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড। বাড়ির পাশের যেকোনো দোকানেই এখন পাওয়া যায় তাদের বাজারকাতকৃত ব্লেন্ডারস চয়েস গ্রিন টি। অসাধারণ এই চায়ের হালকা সুবাস আর সুগন্ধের সাথে রয়েছে স্বাস্থ্যকর সব উপাদান ও অনন্য স্বাদের অনবদ্য এক ব্লেন্ড।
এ প্রসঙ্গে ইস্পাহানি টি লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং) এস এম দিদারুল হাসান বলেন, ‘ইস্পাহানি চীনের সর্বোৎকৃষ্ট ও উঁচু পাহাড়ি চা বাগান থেকে তুলে আনা সেরা চা থেকে প্রস্তুত করছে ব্লেন্ডারস চয়েস গ্রিন টি। তবে এক কাপ গ্রিন টি খেলেই যে আপনার শরীরের আমূল পরিবর্তন ঘটবে বা আপনার ওজন কমে যাবে, এই ধারণা ঠিক নয়। মূলত গ্রিন টি হচ্ছে, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের নিয়মিত তালিকাভুক্ত খাবারগুলোর একটি।’
তিনি বলেন, ব্লেন্ডারস চয়েস গ্রিন টি’তে রয়েছে গ্রিন টি-এর আসল স্বাদ। ব্লেন্ডারস চয়েস গ্রিন টি অন্য সব চা থেকে একদম আলাদা। কারণ এতে আছে শ্রেষ্ঠ মানের চা-পাতার অনন্য ব্লেন্ড। এর প্রতিটি প্যাকেট সতেজ চা ও সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে ইস্পাহানির ব্লেন্ডিং বিশেষজ্ঞরা সব সময় নিখুঁত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকেন।
গ্রিন টি ছাড়াও উচ্চ মানসম্পন্ন চা সরবরাহে ইস্পাহানির রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। বাংলাদেশজুড়ে ইস্পাহানি চা সুনাম ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাংলাদেশে ভালো চা মানেই ইস্পাহানি চা। দীর্ঘ দিন ধরে ইস্পাহানি তার গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সন্তুষ্টি প্রদান ও উপভোগ্য মুহূর্তের জন্য নিবেদিত আছে বিভিন্ন ব্লেন্ডের চা নিয়ে; যা সতেজতা, চেনা ঘ্রাণ আর মনকাড়া স্বাদের জন্য সুপরিচিত।
চায়ের বাইরেও অনেক খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে লেবু, কমলালেবু, কাঁচামরিচ, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, বাদাম, ডাল, দুধ, ডিম, মাছ, মুরগির গোশত, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.