শিশুকে শেখান পরিচ্ছন্নতা
শিশুকে শেখান পরিচ্ছন্নতা

শিশুকে পরিচ্ছন্নতা শেখাতে যা করবেন

ফাহমিদা জাবীন

স্বাস্থ্যই সব সুখের মূল। আর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। এ বিষয়টি ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শেখানো খুব জরুরি। অনেক শিশু দাঁত ব্রাশ করা বা গোসল করা নিয়ে গড়িমসি করে। তাই একেবারে ছোট থেকেই তাদের মধ্যে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে সময়মতো দাঁত ব্রাশ করা, খাওয়ার আগে হাত ধোঁয়া, জামা পরিষ্কার রাখা প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি। শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার জন্য কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে পারেন :

পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে উৎসাহ দিন : হাত ধোয়া দিয়ে শুরু করুন। কখন হাত ধোয়া, কতক্ষণ ও কিভাবে হাত ধুতে হবে এসব বিষয় শিশুকে শেখান। সাবান দিতে হাত ধুতে উৎসাহী করুন। কারণ সাবান ছাড়া সবসময় হাত ভালোভাবে পরিষ্কার হয় না। শিশুকে উৎসাহ দিতে আপনিও তার সাথে হাত ধুতে পারেন বা তাকে শেখান হাত ধোয়ার সময় আমরা একটা ছড়া বলব। এতে সে মজা পাবে ও কাজটি ঠিকমতো করবে।

মজার পরিবেশ তৈরি করুন : যখন শিশু দাঁত ব্রাশ করবে তখন তাকে বলুন আসো ডান্স করে করে ব্রাশ করি। অথবা শ্যাম্পু করার সময় বাবল তৈরি করুন ও তার সাথে মজা করুন। এভাবে করলে শিশুরা আনন্দ পাবে এবং কাজগুলো করতে আগ্রহী হবে।

নিজে করুন : রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি যখন ব্রাশ করবেন, চুল আঁচড়াবেন বা মুখ ধোবেন তখন তাকেও সাথে রাখবেন এবং কেন করতে হয় এসব কাজ সেই বিষয়গুলো শেখাবেন। একইভাবে খাওয়ার আগে বা রান্না করার আগে যখন হাত ধোবেন তখনো তাদের বিষয়গুলো দেখাবেন। আপনাকে তারা অনুসরণ করে এ কথা মনে রাখবেন।

গ্রুমিং বিষয়ে তাদের বলুন : কোনো শিশু অসুস্থ হলে তার মাধ্যমে অন্যরাও অসুস্থ হতে পারে এ বিষয়টি তাকে বোঝান। তাই সর্দি বা কাশি হলে এর জন্য তাকে রুমাল ব্যবহার করতে শেখান। অন্য শিশুদের জিনিস যেন না ধরে সেসব বিষয়ও শেখান। শিশুদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতাগুলো শেখানো জরুরি।

ছোট থেকেই অভ্যাস করুন : শিশুরা নিজে নিজে অনেক কাজই করতে পারে না। তাই বড়দের তাদের সাথে থেকেই তাদের সব বিষয়ে শেখাতে হবে। এর জন্য হাইজিনবিষয়ক ভিডিও দেখাতে পারেন বা বই থেকে শেখাতে পারেন যেন তারা আনন্দ নিয়ে হাইজিনের বিষয়গুলো যেমন ময়লা কাপড় কোথায় রাখবে, তার জিনিসগুলো কোথায় রাখবে, কিভাবে ব্রাশ করবে, টয়লেট কিভাবে ব্যবহার করবে প্রভৃতি বিষয় শিখতে পারে।

আকর্ষণীয় জিনিসপত্র কিনে দিন : ছোটদের ব্যবহার করার জন্য অনেক মজার মজার উপকরণ বাজারে পাওয়া যায়। যেমন মিউজিক্যাল ব্রাশ, সুগন্ধযুক্ত সাবান, বাথটাব, বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও রুমাল এসব কিনে দিন। তারা শিখতে মজা পাবে।

রুটিন তৈরি করুন : নিয়মিত করাটা কিন্তু খুবই জরুরি। তাই এসব বিষয় শেখানোর পাশাপাশি প্রতিদিন যেন সঠিকভাবে অভ্যাস করে সেই বিষয়টিও তাদের শিখিয়ে দিন।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.