স্কুলবাস ভাড়া তেলেসমাতি

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান

প্রায় পাঁচ বছর ধরে সরকার স্কুলবাস সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বাসের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ঢাকায় মিরপুর-১২ থেকে আজিমপুর পর্যন্ত বাস সার্ভিস দিতে সরকার ছাত্রছাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে ১০ টাকা ভাড়া নিত। এটা স্কুলশিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের বিশেষ সহানুভূতি। গত বছর ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকে হঠাৎ বাসভাড়া বাড়ানো হয়। ছাত্রছাত্রীদের ৮ টাকা এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে ১২ টাকা ভাড়া নিতে শুরু করে। গত ২৬ জুলাই থেকে বাসভাড়া আবার বাড়ানো হয়। ছাত্রছাত্রীপ্রতি ১০ টাকা ও অভিভাবক থেকে ১৫ টাকা।

প্রশ্ন হলো- মিরপুর ১২ থেকে এই ভাড়া কার্যকর যুক্তিসঙ্গত হলেও মিরপুর-২ বা মিরপুর-১ থেকে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। মিরপুর-১ থেকে গণপরিবহনে সিটিং বাসে আজিমপুর পর্যন্ত ১৬ টাকা এবং লোকাল বাসে কলাবাগান পর্যন্ত ১০ টাকা। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের লোকাল বাসে ৫ টাকা এবং অভিভাবকদের ১০ টাকা। এ ক্ষেত্রে সরকারি বাসে তাও আবার স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মিরপুর-১ থেকে কলাবাগান পর্যন্ত ১০ টাকা নেয়া হয়। মিরপুর-১২ থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে ১৫ টাকা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু মিরপুর-১ বা মিরপুর-২ থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটা লোকাল বাসভাড়ার দ্বিগুণ। মনে রাখা দরকার, স্কুলবাস কখনো সিটিং সার্ভিস নয়। এখানে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকেরা লোকাল বাসের মতো ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করে।

অভিভাবকেরা সমালোচনা করছে, এর সাথে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত জড়িত বলে মনে হচ্ছে না। বিআরটিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের কুমতলবে এই অযৌক্তিক ভাড়া আদায় করছে। এই রুটে স্কুলবাস সার্ভিস চালু করে ছাত্র যেমন, তেমনি ছাত্রীরা বেশি উপকার পাচ্ছে এবং অভিভাবকেরা সরকারের এই সেবাকে সব সময়ই সাধুবাদ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এই ভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ভাড়ার আলোকে প্রতিটি বাস থেকে আসা-যাওয়া বাবদ ৪০ জন ছাত্রছাত্রী থেকে যে টাকা বেশি হয় তা মোট ২০০ কি ৩০০ টাকা এবং এভাবে এই রুটে প্রতিদিন চারটি বাস চললে তাতে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত এক থেকে দেড় হাজার টাকার বেশি ভাড়া আদায় হবে না। প্রতিদিন এই অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা এবং সরকারের ভাবমর্যাদা মিলিয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে বলে অভিজ্ঞমহল আশা করছে।

সরকার গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর হার অনুসারে কিলোমিটারে যে টাকা নির্ধারণ করেছে এবং মিরপুর-১ থেকে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, মোহাম্মদপুর মডেল কলেজ, ধানমন্ডি বয়েস, ভিকারুননিসা স্কুল ধানমন্ডি শাখা পর্যন্ত দূরত্ব অনুসারে এই ভাড়া নির্ধারণ একেবারেই অযৌক্তিক। গত দুই বছর তেলের মূল্য এবং এ বছর গ্যাসের কোনো মূল্য বাড়েনি। তাহলে স্কুলবাসের ভাড়া বাড়ল কেন? তা ছাড়া বাসে দেয়া ঘোষণা কোন কর্তৃপক্ষের তা জানা যাচ্ছে না। সরকারি আদেশ হলে তাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর থাকার কথা এবং স্মারক নম্বরও থাকার কথা। এ ধরনের কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ফলে অভিভাবকদের মাঝে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিবেচনায় নেবে বলে অভিভাবকেরা আশা করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.