রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে সোবহানীঘাট এলাকায় জালালাবাদ কলেজ এবং সিলেট শিশু ক্লিনিক ও জেনারেল হাসপাতালে ভাংচুর চালায়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে সোবহানীঘাট এলাকায় জালালাবাদ কলেজ এবং সিলেট শিশু ক্লিনিক ও জেনারেল হাসপাতালে ভাংচুর চালায়।
সিলেটের ছাত্রলীগের দু’কর্মীকে কুপানোর জের

পুলিশকে ভিডিও ফুটেজ দেয়ায় কলেজ ও ক্লিনিকে হামলা-ভাংচুর ছাত্রলীগের

সিলেট ব্যুরো

সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় একটি কলেজ ও হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় হাসপাতালের সামনে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে তারা।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোবহানীঘাটের জালালাবাদ কলেজ এবং সিলেট শিশু ক্লিনিক ও জেনারেল হাসপাতালে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

ভাংচুরের পর সোবহানীঘাট- উপশহর সড়ক প্রায় আধা ঘন্টা অবরোধ করে রাখে ভাংচুরকারী ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় এ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভাংচুরকারীরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার দুপুরে এই কলেজের সামনে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। তাই, এলাকাবাসী ধারণা করছেন এর জের ধরেই আহতদের সহকর্মী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতে কলেজ ও হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে।

শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, দুপুরের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা শিশু হাসপাতালের সিসি টিভিতে ধরা পরে। সে ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় ছাত্রলীগ রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। এসময় হামলাকারীরা হাসপাতালের সামনের একটি ফার্মেসি, একটি কক্ষ ও একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করে। আমাদের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা সহ একটি কম্পিউটারও নিয়ে যায়। এমনিক আমাদের হাসপাতালে স্থাপিত সবকটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও তারা ভেঙে ফেলেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে কি করব। আমরা আইনি কোনো প্রক্রিয়াতে যাব না। যা করার তা পুলিশ করবে। আমরাতো পুলিশকে ফুটেজ না দিয়ে পারবো না। তাদেরকে সাহায্য করেছি মাত্র। এর কারণেই আমাদের উপর হামলা হয়েছে।

এদিকে ক্লিনিকের পার্শ্ববর্তী জালালাবাদ কলেজের প্রশাসনিক বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। কলেজের নৈশপ্রহরী হায়দার আলী জানান, রাত ৮টার দিকে একদল যুবক জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

কলেজের প্রহরী হায়দার আলী জানান, সাড়ে ৮টার দিকে একদল যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা কলেজ, হাসপাতাল ও একটি অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

হায়দর আলী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কলেজের কয়েকটি কম্পিউটার নিয়ে গেছে।

সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন জানিয়েছেন, দুপুরে ছাত্রলীগের ২ কর্মীকে আহতের জের ধরে রাতে ছাত্রলীগ এ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে শুনেছি।

তবে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার জানান, রাতের এ হামলার সাথে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে সোবহানীঘাট এলাকায় জালালাবাদ কলেজ এবং সিলেট শিশু ক্লিনিক ও জেনারেল হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। এসময় তারা হাসপাতালের সামনে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা মেট্রো ঠ ১১-৮৩৪৮), একটি সিএনজি অটোরিকশা (সিলেট থ ১১-৩০৫১) এবং কলেজের ভেতরে আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার এসি গোলাম দস্তগীর ও ওসি গৌছুল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো: জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একদল যুবক হাসপাতাল এবং কলেজে ভাঙচুর করে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বেলা ১টার দিকে নগরীর সোবহানীঘাটে ছাত্রলীগের দুইকর্মীকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আহতরা হলেন- সিলেট সদর উপজেলার পীরপুর টুকেরবাজারের নূরুল আমিনের ছেলে শাহীন আহমদ (২২) ও নগরীর উপশহরের জালাল উদ্দিনের ছেলে, জালালাবাদ কলেজের ছাত্র আবুল কালাম আসিফ (১৮)। আসিফ। আহতদের মধ্যে শাহীন মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী ও আসিফ ছাত্রলীগের দর্শন দেউড়ি গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে শাহীনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

কলেজ বন্ধ ঘোষণা :
সিলেট নগরীর সোবাহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজ তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলেজ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল বাকি চৌধুরী।

মামলা দায়ের :
নগরীর সোবহানীঘাটে সন্ত্রাসী হামলায় দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে নগরীর উপশহর ই-ব্লকের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আরো তিন-চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে এখনও কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, সোমবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.