নানা কিসিমের বন্ধু

তারেকুর রহমান

গত রোববার ছিল বন্ধু দিবস। আমাদের সবার বন্ধুমহলে নানা ধরনের বন্ধু রয়েছে। থেরাপির পাঠকদের জন্য এই ভিন্ন রকমের বন্ধুদের তুলে আনা হয়েছে।

কৃপণ বন্ধু : বন্ধুমহলে কৃপণ বন্ধু নাই এ রকম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এ টাইপের বন্ধুগুলোর মানিব্যাগে মাছি মরে থাকে। দিনের পর দিন অন্য বন্ধুদের পকেটের বারোটা বাজানোর পরও নিজের পকেট থেকে দুই টাকা বের করে না। অনেক প্ল্যান করেও তাদের কাছে থেকে টাকা বের করা এভারেস্ট জয় করার মতো কঠিন। অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন চিপায়-চাপায় দু’চার টাকা পেতে পারেন।

চাপাবাজ বন্ধু : এ ধরনের বন্ধু কোনো জামাকাপড় কিনলে প্রথমে সেটাকে বিমানে চড়াবে। বলবে আমার অমুক তমুক বিদেশ থেকে পাঠিয়েছে। গুলিস্তান থেকে কেনা জামাও নামীদামি ব্র্যান্ডের জামা হয়ে যায়। তার বিভিন্ন জায়গায় হাত রয়েছে। অনেক বড় বড় মানুষ তাকে চেনে। বিপদে পড়লে বোঝা যায় তার দৌড় কত দূর। তাদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো চাপা মারার সময় খুব সুন্দরভাবে এক্সপ্রেশন দেখাবে। এটা দেখে তার কথা বিশ্বাস না করে কোথায় যাবেন।

বিশ্বপ্রেমিক বন্ধু : দিনরাত মেয়েদের সাথে ফোনালাপ এবং চ্যাট করাই এসব বন্ধুর কাজ। কোথাও গেলে আপনি কিছু খুঁজে না পেলেও এ ধরনের বন্ধু ঠিকই বান্ধবী জোগাড় করে ফেলবে। আপনার সামনেই হাসি-ঠাট্টা-তামাশায় মেতে উঠবে। এমনকি মোবাইল নম্বর এ আদান-প্রদান করবে, যা দেখে আপনার বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠবে। খুব সহজেই মেয়েদের বশে নিয়ে আনার দারুণ মতা রয়েছে এদের। নিজের পকেটের টাকা খরচ না করেও কিভাবে মেয়েদের পটানো যায় তার একটা রূপরেখা এদের কাছে থাকে।

অভাবী বন্ধু : মাসের শুরু হোক কিংবা শেষ হোক কিছু বন্ধ থাকে তাদের কাছে কখনোই টাকা থাকবে না। আপনি তার কাছে টাকা চাইলে এমনভাবে নিরীহ ভঙ্গিতে বলবে দেখে মনে হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভাবী সে। কিন্তু তার নিজের সব কাজ ঠিকমতো চলবে ওই সময় আর অভাব থাকে না।

হতাশপ্রবণ বন্ধু : চরম হতাশাগ্রস্ত কিছু বন্ধু থাকে যারা কখনোই আপনাকে আশা দেখাতে পারবে না। অনেক বড় কিছু পাওয়ার পরও তা নিয়ে হতাশার শেষ থাকে না। তার সাথে কিছুণ কথা বললে আপনিও হতাশ হয়ে যাবেন। কোনো যুক্তিই তার কাছে ভালো লাগে না।

ফ্যাশনেবল বন্ধু : নানা কাটিংয়ের চুল ছাঁটা, দাড়ির বাহারি কাটিং, ছেঁড়া জামাকাপড় পরা। মিনিটে মিনিটে জামা পরিবর্তন করা। টয়লেটে যেতেও বডি স্প্রে মারা। এই টাইপের দু-একটা বন্ধু সবার থাকেই। বাজারে কোন মোবাইল এসেছে, কোন ব্র্যান্ডের নতুন জামা এসেছেÑ এসবের আপডেট নিউজ পাবেন এ ধরনের বন্ধুর কাছে। এরপর বিভিন্ন পণ্যের নানা ব্র্যান্ডের নাম বলবে যা আপনি কখনোই শোনেননি। কোনো মেয়ে দেখলে কলার উঁচু করে সানগ্লাস লাগিয়ে এদিক-সেদিক তাকাবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

ছ্যাঁকা খাওয়া বন্ধু : এদের জীবনে সফল কোনো প্রেম নেই। কয়েক দিন পরপর প্রেমিকা চেঞ্জ হবে। এরপর কয়েক মাস ভালো কাটবে। তারপর শুরু হবে দেবদাসীয় জীবন। কয়েক দিন আগেও যে মেয়ের চেয়ে ভালো মেয়ে আর কেউ নাই বলত সেই হয়ে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মেয়ে। খোঁচা খোঁচা দাড়ি রাখবে। দেদারসে সিগারেট টানবে। কয়েক দিন কাসও করবে না। এরপর কিছু দিন যাওয়ার পর নতুন বান্ধবী জুটলে ফর্মহীন ব্যাটসম্যান রান করে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ঠিক সেভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।

পড়ুয়া বন্ধু : পড়তে পড়তে জান শেষ করে দেয়ার মতো বন্ধুও আছে। যারা কয়েক দিন পর পাওয়ারি চশমা ব্যবহার শুরু করে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগলেও তাদের পড়ার টেবিল থেকে উঠানো যাবে না। টেবিলেই তাদের পড়া, ঘুম, খাওয়া হয়। এসব সিরিয়াস টাইপের বন্ধুর সাথে কোনো আড্ডা কিংবা ভ্রমণে পাওয়া যাবেন না। এদের সাথে আবার মেয়েদের ভাব একটু বেশিই থাকে।

পরীার আগের রাতে অ্যাকটিভ বন্ধু : পরীার পূর্ব রাত কিছু বন্ধুর জন্য বিভীষিকাময়। এদিক সেদিক থেকে শিট, নোট কালেক্ট করতে উঠে পড়ে লাগে এ রকম বন্ধুরা। সারা বছর পড়াশোনার খবর না থাকলেও এরা পরীার আগের রাত ঘুমাবে না। ইশ যদি আরো কয়েক দিন আগে সিরিয়াস হতাম তাহলে ফাটাইয়া দিতাম এ রকম একটা আফসোস এদের থাকেই।

ফেসবুক সিলেব্রিটি বন্ধু : ফেসবুকে আপনি বড় জোরে ২০-৩০টা লাইক পেলেও কিছু বন্ধু আছে যারা শত শত লাইক পায়। এ নিয়ে তাদের গর্বের শেষ থাকে না। কিভাবে এত লাইক কমেন্টস পায় এ প্রশ্নের উত্তর বরাবরের মতো এড়িয়ে গিয়ে নিজের কিছু বিশেষত্ব দেখাবে।

খাদক বন্ধু : আপনি বন্ধুদের নিয়ে কোথাও খেতে বসেছেন। এদের মধ্যে দু-একজন থাকবে যারা নিজেদের খাবার নিমিষেই সাবাড় করে অন্যের প্লেটে হানা দেবে। এদের নিয়ে মাঝে মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়। পুরো পেট ভরে খেয়েও একটু কম হয়েছে বলে একটা হতাশা সারা জীবনই থেকে যায়।

অলস বন্ধু : এই টাইপের বন্ধুরা সারা দিন ঘুমাবে। জামাকাপড় ধোয়া কিংবা গোসলের নাম গন্ধ নেবে না।

১০ মিনিট অপো করার কথা বললে এক ঘণ্টা পরে আসাই এদের স্বভাব। নির্দিষ্ট টাইমে কাসে না আসা, এসাইনমেন্ট জমা না দেয়ার কারণে এরা অনবরত বকা শুনে থাকে। 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.