একটি কঙ্কালসার রাস্তার আত্মকথন

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

একটি প্যারোডি দিয়েই শুরু করিÑ

তোমরা যারা ভাবছো মোদের আমরা রাস্তা কি না

আমরা রাস্তা ভাগ্য শুরু করল বিড়ম্বনা...

আসলে কপালের নাম গোপালই। কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি। নগর পিতার সুনজরে না থাকায় আমি আজ কংক্রিটবিহীন কঙ্কালসার সড়ক। আমার এবড়োখেবড়ো বুকের ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে গাড়ি দোলে যাত্রী দোলে আর অকথ্য ভাষায় আমাকে বকা দেয়। বলে, ‘এটা রাস্তার জাতই না।’ এমনকি ভিুক ইটের সাথে উষ্ঠা খেয়ে বলে, ‘শালার এটা একটা কপালপোড়া রাস্তা।’ আমাগো বকা দেয়া যে নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়, এই জিনিসটাই মনুষ্য সমাজ বুঝতে চায় না। যাকে বকা দেয়া দরকার তাকে বকা না দিয়ে উল্টো আমাগো বকা দেয়া হয়। যার হাতে রয়েছে আমাগো মেরামতের চাবিকাঠি তাকে আপনারা ধরুন না তাহলেই তো আমি আবার নব যৌবনে পদার্পণ করতে পারি আর আপনারা ঝুঁকিঝাঁকিহীন মসৃণভাবে চলতে পারেন।

কী আর বলব। এই যে বললাম, কপাল খারাপ হলে যা হয়। আসলে পানি নিচের দিকেই গড়ায়। আমার এ বুকের ওপর দিয়ে মণকে মণ ওজনের মানুষ, টনকে টন ওজনের গাড়ি চলে। আমি নীরবে তাদের ভার বহন করে চলেছি। তারপরও ঘৃণাটা আমার দিকেই ছুড়ে দেয়া হয়। একটু বৃষ্টি হলেই আমার বুকের ওপর হাঁটু এমন কি কোমরপানি জমে যায়। সহজে এ পানি কমার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তখন আমার দম বন্ধ হয়ে যেতে চায়, কি যে কষ্ট হয় তা মনুষ্য সমাজ একটিবারও চিন্তা করে না। বর্ষার মওসুম এলে এমনিতেই আমার অবস্থা কাহিল হয়ে যায় তার ওপর আবার রাস্তার পাশের ড্রেনগুলো খুঁড়ে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়। ঠিক করা হয় না। অথচ আমাকে অপবাদ দিয়ে বলা হয়, আমাকে দিয়ে নাকি আর চলে না। আমি নাকি বুড়িয়ে গেছি। আমার যৌবন নাকি খসে পড়েছে, ধসে পড়েছে সব কিছুই। আমার যৌবন নাকি আর ফিরবে না। মনুষ্যসমাজ কত অকৃতজ্ঞ। আমার যখন ভরা যৌবন ছিল। তখন কত প্রেমিক তার প্রিয় মানুষকে পাশে নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে রিকশায় করে মাথার চুল উড়িয়ে বাতাস খেতো। রিকশায় বসে প্রিয় মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে সারা পৃথিবীর সব কিছু ভুলে যেত। অথচ আজকে আমি অপবাদের ভাগিদার হচ্ছি। সত্যিই বিষয়টি বেদনাদায়ক। বিষয়টি ভাবতেই আমার চোখে জল এসে যায়। বুক ভেসে যায় চোখের জলে। 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.