মানবতার মহাসম্মেলন

মাওলানা মুফতি মো: ওমর ফারুক

মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল এটি তো বাক্কায় (মক্কায়) এটি বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী আলোকবর্তিকা, শান্তিশৃঙ্খলা ও বিশ^ মানবতার সব কল্যাণের হেডকোয়ার্টার।’ (সূরা আলে ইমরান : ৯৬)।
বিশে^র মুসলিম উম্মাহর জন্য তাঁর অসীম ভালোবাসা ও বিশেষ করুণা লাভের অফুরন্ত সুযোগ গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে দান করলেন দুনিয়ার প্রথম ঘরকে কেন্দ্র করে হজের বিধান। দাওয়াত করলেন বিশ্ববাসীকে মহাসম্মেলনের। বিশ^জাহান থেকে আগত নানা শ্রেণী পেশার মানুষ, নানান দেশের নানান ভাষার মানুষ, কেউ সুন্দর, কেউ কালো, কেউ লম্বা, কেউ খাটো সবার মুখে একই জয়ধ্বনি, একই স্লোগান, একই সুরে ‘লাব্বায়িক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক, লা শারি কা-লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারি কা-লাকা!’ আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির, কোনো শরিক নেই তোমার, আমি হাজির নিশ্চয়ই সব প্রশংসা ও অনুগ্রহ শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার, কোনো শরিক নেই তোমার। সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় খালি পায়ে খালি মাথায় সবার সম্মিলিত সুরে একই ধ্যানধারণায় একই সারিতে একই কাজের দৃশ্য কী যে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ! কী যে বিশ^ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন! যেখানে ভিনদেশী, ভিন্ন ভাষাভাষী লাখ লাখ জনতা, তবু নেই কোনো হাতাহাতি, নেই কোনো বাড়াবাড়ি, হয় না কোনো ধরাধরি, নেই কোনো মারামারি, শুধু শান্তির পয়গাম সবার দাবি, কতই না চমৎকার দৃশ্য! পৃথিবীর আর কোথাও এমন দৃশ্য আছে কি? না না বিশ্বমানবতার এমন মহাসম্মেলনের, মহাব্যবস্থাপনার শক্তি-সামর্থ্য, স্থান আর কারো নেই আর কোথাও নেই। শুধু লা শরিক আল্লাহর।’
হজ শান্তিশৃঙ্খলা ও বিশ^মানবতার মহাসম্মেলন যার চার পাশে অগণিত শান্তিকামী ফেরেশতারা মহান মাবুদের মেহমানদেরকে সকাল-সন্ধ্যা পাহারা দিচ্ছে তাদেরকে ‘আহলান সাহলান মারহাবা’ বলে স্বাগত জানাচ্ছে! জান্নাতি পরিবেশে আলিঙ্গন করছে। যে ঘরে মাত্র এক রাকাত নামাজ আদায় করলে পৃথিবীর যেকোনো মসজিদে এক লাখ রাকাত নামাজ আদায়ের সমান সাওয়াব হয়, যে পাথরে চুমু খেলে অতীতের গুনাহগুলো ক্ষমা হয়ে যায়, যার চার পাশে এমন কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে যে স্থানগুলোতে দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা! যেখানে দুনিয়ায় আগমনকারী সব নবী রাসূলের পদধূলির সংমিশ্রণ হয়েছে, যেখানে আদি পিতা হজরত আদম আ: ও মা হাওয়া আ: প্রায় ৩৫০ বছর পর সাক্ষাৎ হয়েছে। শুধু তাই নয়, সোয়া লাখ সাহাবির উপস্থিতিতে আরাফার মাঠে বিদায় হজের জগদ্বিখ্যাত ভাষণ প্রদান করা হয়েছে। যার চতুর পাশ শুধু রহমত, বরকত আর কল্যাণে ভরপুর।
এরশাদ হচ্ছেÑ ‘তারা যেন এই ঘরের মালিকেরই ইবাদত করে যিনি ুধায় অন্ন জোগান এবং ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা দান করেন’।
(সূরা কুরাইশ : ৩-৪)
আমাদের দেশ থেকে সাধারণত বেশির ভাগ বয়স্ক মানুষ হজে যায়। এমনটি হওয়া উচিত নয়। যেহেতু হজের অনেক কাজ শারীরিক শক্তি সামর্থ্যরে ওপর নির্ভর করে তাই যুবক বয়সেই যাওয়া উচিত। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রের মুসলমান তাই করেন। অবশ্য ঈমানের দাবিদার অনেক মুসলমান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতকে যথাযথ পালন না করেও নিজকে খাঁটি মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করেন এবং মাঝে মধ্যে ইসলামের বিধিবিধানকে কটাক্ষ করে কথা বলেন, যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক সমজ দান করেন।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.