প্রতিকী ছবি
প্রতিকী ছবি

৪০ বছর আগের যৌন নিগ্রহের বিচার পেতে মহিলার লড়াই

নয়া দিগন্ত অনলাইন

৪০ বছর আগে পরিবারেরই এক আত্মীয় দিনের পর দিন তাকে যৌন নিগ্রহ করতেন। এই অভিযোগে ওই আত্মীয়র বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন কানাডার এক মহিলা। ৫৩ বছরের ওই মহিলার জন্ম হয়েছিল ভারতের চেন্নাইয়ে। শৈশব অবস্থায় তিনি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন। এতটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর তার লড়াই খুব একটা সহজ নয়।

ওই মহিলা একজন বৈজ্ঞানিক। বর্তমানে চেন্নাইতে রয়েছেন তিনি। ওই মহিলার অভিযোগ, তার এক চাচাতো বোনের স্বামী তাকে নিগ্রহ করতেন। যখন তার বয়স ৯, তখন থেকেই এর সূচনা। ওই ব্যক্তি যখন তাদের বাড়িতে আসতেন বা তারা যখন ওই বোনের বাড়িতে যেতেন, তখনই এই ঘটনা ঘটত। প্রায় চার বছর ধরে একই ঘটনা চলে। কিন্তু ভয়ে কারুর কাছে এ বিষয়ে মুখ খুলতে পারেননি তিনি। তখন তার এমনও মনে হত যে, হয়ত কোনও ‘অপশক্তি’র প্রভাবে এই ঘটনা ঘটছে।

২০ বছর বয়সে কানাডা যাওয়ার পর তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানানোর সাহস পান। এরপরই ওই মহিলা জানতে পারেন, শুধু তিনি নয়, তার আরও তিন চাচাতো বোন একই ধরনের নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত ওই একই ব্যক্তি।

ওই মহিলা জানিয়েছেন, গত বছর তিনি চেন্নাই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে।

এই বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক আইনজীবী বলেছেন, বর্তমানের ‘শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন’ অনুযায়ী, ওই মহিলার প্রতি যে অপরাধ হয়েছে তা ধর্ষণ বা যৌন নিগ্রহের সামিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তত্কালীন আইন প্রযোজ্য হবে। এবং এই ঘটনাকে ‘মহিলার সম্ভ্রমহানি’ বলে চিহ্নিত হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে, এতগুলি বছর সময় কেটে যাওয়া এবং অপরাধ প্রমাণ করার ক্ষেত্রে অসুবিধা।

কিন্তু এতে দমে যাচ্ছেন না ওই মহিলা। তার বক্তব্য, অভিযুক্ত তার ওপর দিনের পর দিন নিগ্রহ করেছে। ওই ব্যক্তি যাতে অন্য কারুর সঙ্গে এ ধরনের অপরাধ করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে চান তিনি।

ওই মহিলা জানিয়েছেন, ঘটনার কথা জানার পর অভিযুক্তকে পরিবারের লোকজন যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অভিযুক্তর বয়স এখন ৭০।

ওই মহিলা বলেছেন, অভিযুক্তর স্ত্রী স্বামীকে ক্ষমা করেছেন। তিনি ওই মহিলার কাছেও অভিযুক্ত ক্ষমা করার আর্জি জানিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.