সুপ্রিম কোর্ট ভবন
সুপ্রিম কোর্ট ভবন
সংবিধান অবমাননা মামলার চিন্তা

সরকার কঠোর

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল
জাকির হোসেন লিটন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের দেয়া এ রায় ও পর্যবেক্ষণে সংবিধানবিরোধী কিছু আছে কি না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এতে সংবিধানপরিপন্থী কিছু থাকলে আইনি পদক্ষেপসহ সংবিধান অবমাননা মামলার দিকেও যেতে পারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দলের আইনজীবী নেতাদের রায় ও পর্যবেক্ষণ আরো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও পর্যবেক্ষণকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত ও চরম ক্ষুব্ধ হন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। এটি কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছেন না। সে জন্য রায় ঘোষণার পর কিছু দিন চুপ থাকলেও কয়েক দিন ধরে দলটির নেতারা মুখ খোলা শুরু করেছেন। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন তারা। দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মধ্যম সারির নেতা-মন্ত্রীরাও আদালতের রায় নিয়ে কথা বলছেন। কেউ কেউ অবিলম্বে প্রধান বিচারপতির স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না হলে অপসারণও দাবি করেছেন। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামারও হুমিক দিচ্ছেন তারা। 


প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩ জুলাই বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহালের পক্ষে মত দেন। পরে ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই সরকারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এ রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে সরকারের পদত্যাগ দাবি তুলছে। 


অন্য দিকে রায় ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একেবারেই চুপসে হয়ে যায়। রায় নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এক সপ্তাহের মাথায় গত ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়। রায়ের কয়েকটি পর্যবেক্ষণ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সমালোচনা করেন বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি দলের নেতাদেরও একই নির্দেশনা দেন।


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর গত কয়েক দিনে সিনিয়র মন্ত্রীসহ দলের সিনিয়র নেতারা ষোড়শ সংশোধনীর বাতিল রায়ের সমালোচনা করছেন। এ সময় তারা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কঠোর সমালোচনা করছেন। সর্বশেষ গতকাল মাদারীপুরে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটাক্ষ করার ‘ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছেন। এ রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ব্যাপকভাবে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কথাবার্তার অবতারণা করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমনকি রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও কটাক্ষ করতে দ্বিধা করেননি, আমরা ধিক্কার জানাই। মন্ত্রী বলেন, যে দেশে বিচারব্যবস্থায় আস্থার সঙ্কট দেখা দেয়, সে দেশে প্রলয়ঙ্করী ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।


এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ রায়কে আবেগ ও বিদ্বেষতাড়িত মন্তব্য করে আইনি পদক্ষেপের কথা জানান। সন্ধ্যায় আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি করেন। নইলে আগামী মাস থেকে তার অপসারণ দাবিতে টানা আন্দোলনের ঘোষণাও দেন তিনি। প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, বিএনপির সুরে কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশি দিন এই মসনদে থাকতে পারবেন না।’ 


একই দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া আপিল বিভাগের রায়ের কঠোর সমালোচনা ও চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। এ সময় কিছু জায়গায় জাতীয় সংসদকে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে দলের সিনিয়র নেতারা বলেন, ‘সংসদে পাস না হলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের এ রায়ের কোনো মূল্য নেই। তার পরও প্রধান বিচারপতি এ রায়ে এমন এমন কিছু কথা লিখেছেন, যা পড়লে মনে হয় তিনি নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।’


সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদার বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে কী করণীয় সেসব বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মতামত চান দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, সিনিয়র নেতা শেখ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বক্তৃতা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী রায়ের পর্যবেক্ষণে দেয়া অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করার নির্দেশ দেন নেতাদের।


প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা রায়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। যেমন জাতির পিতার ক্ষেত্রে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘ফাউন্ডিং ফাদার্স অফ দা নেশন’। জাতির পিতা বা পিতা কিভাবে একাধিক হয়; এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যাপক ক্ষোভ ঝাড়েন প্রধান বিচারপতির ওপর। এ ছাড়া কারো একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি পর্যবেক্ষণের এমন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তারা। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তারা বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 
সভা সূত্রে আরো জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছেন, ‘এই রায় একটা ষড়যন্ত্রের অংশ। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আরো হবে।’ তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


এ সময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন এলেই এ ধরনের নানা খেলাধুলা শুরু হয় দেশে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার বিজয়ী হবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘কার অধীনে নির্বাচন হবে এটি না বলে আমাদেরকে বলতে হবে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। সেখানে নির্বাচনপদ্ধতি স্পষ্ট করাই হয়েছে।’


আপিল বিভাগের এ রায়ের কিছু জায়গায় জাতীয় সংসদকে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধান বিচারপতি এ রায়ে এমন এমন কিছু কথা লিখেছেন, যা পড়লে মনে হয় তিনি নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে আমরা কোনো ছাড় দেবো না।


বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের জনগণের কাছে গিয়ে ষোড়শ সংশোধনীর যেসব ‘আপত্তিকর’ কথাবার্তা উঠে এসেছে, সেগুলো পরিষ্কার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছেও সেগুলো তুলে ধরতে বলা হয়েছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যা নেই। আমাদের হাতে অনেক কিছুই আছে, দেখা যাবে।’


প্রধানমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ার জন্য দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু ও আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমকে দায়িত্ব দেন। এ রায়ের মধ্যে কী কী অপ্রাসঙ্গিক বিষয় রয়েছে, কোন কোন জায়গায় আইনি ফাঁকফোকর রয়েছে এগুলো খুঁজে বের করতে বলেন। পরে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।


বৈঠকে বিচারপতি খায়রুল হক ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যের সমর্থন করে নেতারা বলেন, ‘আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান থবিচারপতি খায়রুল হক ও আইনমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন। আমরা এ বক্তব্য সমর্থন করি।’


তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আগেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার নির্বাচনী এলাকা সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে রায় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আদালত যতবার বাতিল করবেন, সংসদে ততবারই নতুন করে এই সংশোধনী পাস হবে।’ যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পরে ওই বক্তব্যকে অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মন্তব্য ছিল বলে দাবি করেন।


এ ছাড়া বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও গণপূর্তমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন রায়কে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করেন। দলের পক্ষ থেকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতিন খসরু এবং দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলন করে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। 
তোফায়েল আহমেদ বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা বর্তমান সংসদকে ইম-ম্যাচিউরড বলেন, তারাই ইম-ম্যাচিউরড। যারা বর্তমানে বিচারকের আসনে বসেছেন, তারা ইম-ম্যাচিউরড। নির্বাচনের পর সারা বিশ্ব আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। সারা বিশ্বের সংসদ এ সংসদকে বৈধতা দিয়েছে। এ সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাদের নেই।’ 


তিনি আরো বলেন, ‘আজ যারা বিচারকের আসনে আছেন, তারা একসময় আমাদের সঙ্গে কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। আজ তারা সবাই ম্যাচিউরড আর আমরা হলাম ইম-ম্যাচিউরড!’ 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘কয়েকজন বেঈমান যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছে, তখন একটি কালো আইন করে হত্যাকারীদের নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে, তখন কোথায় ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট? কোথায় ছিলেন বিচারপতিরা।’


গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে যা বলছেন, তা ঠিক নয়। বাংলার মানুষ জানে, আপনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। আপনি সাংবিধানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, আপনাকে সংবিধান মানতে হবে। সংসদ ও রাষ্ট্রপতিকে মানতে হবে, সংবিধান মেনে কাজ করতে হবে। আপনি সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।’
আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, রায় গভীরভাবে খতিয়ে দেখার পর রিভিউ অথবা আপত্তিকর অংশ এক্সপাঞ্চ করার আবেদন, নাকি সংবিধান অবমাননার দায়ে মামলা করা হবে সে বিষয়ে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.