বিমানবন্দরে আগুন

নিছক দুর্ঘটনা, না অন্য কিছু?

গত শুক্রবার বেলা সোয়া ১টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনাল ভবনের তৃতীয় তলায় এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসকক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন লাগার পরবর্তী চার ঘণ্টা থমকে দাঁড়ায় বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম। সৃষ্টি হয় একধরনের অচলাবস্থা।
আগুন লাগার পরপরই প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের সরবরাহ এবং বহির্গমন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক রুটের অন্তত ছয়টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিমানবন্দরের ভেতরে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এয়ারলাইনের কর্মী, অপেক্ষমাণ যাত্রীসহ উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন সবাই। বিশেষ করে লাগেজ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হজযাত্রীরা। ফায়ার সার্ভিসসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, পাঁচ-ছয়টি কম্পিউটার, প্রিন্টার, চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। আর অফিসকক্ষের চার পাশের গ্লাসগুলো ফেটে গেছে বা ভেঙে গেছে।
এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটি দু’টিকে বলা হয়েছে। আমরা জানি না, তদন্তে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসবে কি না। কারণ, বাংলাদেশে এমন অনেক দুর্ঘটনাই ঘটে, যেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত হয়; কিন্তু কোনো দিনই প্রকাশ করা হয় না তদন্ত রিপোর্ট। যা-ই হোক, বিমানবন্দরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডটি খুব বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যদি কোনোক্রমে এই অগ্নিকাণ্ড বড় আকার ধারণ করত, তবে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা সব দেশেই গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর ছিল, সে প্রশ্ন আসে। কারণ, ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্রের অভিযোগের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক জানিয়েছেÑ আগুন নেভানোর যথাযথ ব্যবস্থা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ছিল না। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দরের পরিচালক। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করেছে। আশা করব, তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে মাঝে মধ্যেই নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। আমরা মনে করি, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সার্বিক নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমরা আশা করব, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কোনো দুর্বলতা থাকলে তা দূর করতে কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.