ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি

মোকাবেলার প্রস্তুতি বাড়াতে হবে

দেশ আবার টানা বর্ষণের কবলে পড়েছে। শ্রাবণের শেষে মওসুমি বায়ু প্রবল হয়ে উঠেছে। নদ-নদীর পানি অনেক স্থানে বিপদসীমা অতিক্রম করায় তলিয়ে যাচ্ছে নি¤œাঞ্চল। আমন ফসল ও বীজতলা বিরাট ঝুঁকিতে পড়েছে। রাস্তাঘাট যাচ্ছে ডুবে। অনেক বাঁধ আগেই ভেঙে গেছে। বহু বাঁধ যেকোনো সময় পানির তোড়ে তলিয়ে যেতে পারে। ভাসিয়ে নিতে পারে জনপদ। বিভিন্ন জেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর এখন তলিয়ে যেতে শুরু করেছে অপেক্ষাকৃত বন্যামুক্ত এলাকাও। তিস্তা ও সুরমার পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে কয়েক দিন ধরে। পানিবন্দী বহু মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনার পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিশেষত হাওর এলাকার মানুষ একবার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর আবার ভারতের দিক থেকে ধেয়ে আসা পানির চাপে নতুন সঙ্কটে পড়েছে। দেশের নদ-নদীগুলোর ৯০টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের ৮০টিতেই পানি বেড়েছে। 

আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরো পানি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো, ভারতের গজলডোবার বাঁধ খুলে দেয়া। ভারী বর্ষণের সাথে অন্যান্য কারণ যোগ হয়ে দেশ বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি। তা ছাড়া উজানে সব নদ-নদীর অববাহিকায় টানা বর্ষণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটাচ্ছে। 

সাধারণ পরিস্থিতি মোকাবেলার একটি প্রস্তুতি থাকলেও প্রবল বন্যার জন্য মানুষ সব সময় প্রস্তুত থাকে না। তা ছাড়া এবার মওসুমি বায়ুর খেয়ালি ধারা চলতে থাকলে নগর-বন্দর থেকে গ্রামীণ জনপদ সর্বত্র সীমাহীন দুর্ভোগ বাড়বে। ইতোমধ্যে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে শত গুণ। ক্ষেতের ফসল প্রায় শেষ। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো নেই। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বিশেষত পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেড়েছে।

আমরা মনে করি, বন্যা পরিস্থিতির নিয়মিত গভীর পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। বাঁধগুলো রক্ষার জন্য আরো কঠোর হতে হবে। পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা রোধ করতে হবে। বিপন্ন মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ানোর এখনই সময়। ফসলহানির ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশকে সচল রাখতে রাস্তাঘাট-পুল-কালভার্টগুলোর মেরামতে উদ্যোগী হতে হবে অবিলম্বে। রোগবালাই মোকাবেলার জন্য সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বৈরী প্রকৃতির সাথে মানুষের সৃষ্টি করা ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ না নিলে খাদ্যাভাবের সাথে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে আসমান ছোঁয়া রোধ করা সম্ভব হবে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.