চারাগল্প

রঙ

কাজী সুলতানুল আরেফিন

আমি রঙধনুর দিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে যাই। আর ভাবতে থাকি আকাশের নীড়ে কিভাবে সাত রঙ এক হয়ে ঢেউয়ের মতো খেলা করে। কিন্তু এই মানবজীবনে কখনো সাত রঙ এক হতে পারে না, কেন সেটা আমাকে ভীষণ ভাবায়।
আমি প্রজাপতির পাখার রঙ দেখেও ঠিক একইভাবে ভাবতে থাকি। কি সুন্দর তাদের পাখার রঙের মিশ্রণ! দেখার সাথে সাথে আমাদের মন কেড়ে নেয়। প্রজাপতির রঙ আমাদের মনপ্রাণ সব জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের জীবনটাকে কখনো একসাথে অনেক রঙে রাঙানো যায় না। জীবন নাকি শুধু রঙ বদলায়। কেন বদলায়? একসাথে অনেক রঙ কেন থাকতে পারে না? ঠিক রঙধনুর সাত রঙের মতো বা প্রজাপতির পাখার মতো! তাহলে আমাদের এই জীবনেও আমরা সুখের দোলায় দুলতে দুলতে হারিয়ে যেতে পারতাম। রঙধনুর মতোন ভেসে থেকে স্বপ্ন আঁকতে পারতাম!
আমি পাড়ার বৃদ্ধ রাবেয়া খাতুনকে দেখে ভাবতে থাকি। নিজের চেয়েও বৃদ্ধ স্বামীকে কিভাবে যতনে আজও সেবা করে যান তিনি। মনে হয় মৃত্যু ছাড়া আর কিছু তাদের আলাদা করতে পারবে না। অথচ নিলা তুমি! আমার চেয়ে একটু ভালো অবস্থানের কাউকে পেয়ে আমায় ছেড়ে চলে গেলে? আজ দামি দামি সব কিছু তোমার দখলে। আকর্ষণীয় কাপড় চোপড় থেকে খাবার-দাবার সব আজ তুমি না চাইতেই হাজির হয়। সেই সাথে অহঙ্কার করার মতো ব্যবসায়ী স্বামী। আমার সাথে থাকলে হয়তো কপালে জুটত একটা কম দামি হালকা নীল রঙের সুতি শাড়ি। আর সন্ধ্যায় হট বার্গার বা চিকেন রোলের জায়গায় জুটত এক কাপ রঙ চা, সাথে মুড়ি বা চালভাজা। রঙিন নিয়ন আলোর জায়গা দখল করত গ্রামের গাছের ফাঁকে উঁকি দিয়ে ভেসে আসা চাঁদের আলো। আবার কখনো কখনো মনে হয় ভালোই হলো চলে গেছ। আমিও এভাবে চলতে চলতে পৌঁছে যাব জীবনের শেষ অবধি। ভালোবাসার আরো একটি নীরব পরিসমাপ্তি ঘটবে। তবে আমাকে একটা কথা ভীষণ ভাবায়, ‘এ কালের নিলারা কেন রাবেয়া খাতুন হতে পারে না?’ কেন সময়ের সাথে তাদের রঙ বদলে যায়?
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.