অভিমত : কোচিং বাণিজ্যের এপিঠ ওপিঠ

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

কোচিংকে সবাই ‘বাণিজ্য’ বলছি। আসলে কি বাণিজ্য? নাকি কোচিংটা আমাদের গরজে শুরু হয়েছে? যখন শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলে পাঠ আয়ত্ত করতে অক্ষম হয় তখনি শিক্ষিত লোকের দ্বারে যেতে হয় পড়াটা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। অভিভাবকেরা টিচারের কাছে বসেও থাকেন, বুঝিয়ে দেয়া শেষ হলে সন্তানকে নিয়ে আসেন। এভাবে কাচারিতে পড়ানো হতো অন্যদের সন্তানের সাথে। এখন ছোট ছোট রুম ভাড়া করে শিক্ষিত ছাত্র-শিক্ষকেরা প্রাইভেট কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?
বাস্তবতা হলো, আগেকার শিক্ষকেরা আন্তরিকতা দিয়ে মানুষ গড়ার জন্য পড়াতেন। আর শিক্ষকের মর্যাদা ছিল সবার ঊর্ধ্বে। শিক্ষকের সামনে চেয়ারম্যান মেম্বাররা বসতে ইতস্তত হতেন। এখন শিক্ষকদের হাতে মারেন, আইনে মারেন, হেনস্তা করেন, এমনকি চাকরিচ্যুতও করেন। এই শিক্ষকেরা আপনার সন্তানকে নিজ সন্তানের মতো পাঠদান করবেন বলে আশা করা কতটা যৌক্তিক?
যাদের সন্তান স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে তাদের অনেকের কাছ থেকে জানতে পারবেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পড়া দিতে হয় না। বহু ছাত্রছাত্রীকে নিয়মিত পড়া দেয়া হয় না এবং পড়া নেয়া হয় না। বছর শেষে দেখা যায়, স্কুল-কলেজে সিলেবাসও শেষ হয় না বরং যে মাস্টারকে বাসায় এনে কোচিং করা তার পড়া রেডি করতে করতে শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছে। অবশ্য তাদের কাছে জবাবদিহি আছে; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিলেবাসও শেষ হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া যথাযথ হয় না বলে অন্য মাস্টারের প্রয়োজন হয়।
যারা শিক্ষিত বেকার, তারা এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে রুম ভাড়া করে বানালো ‘কোচিং সেন্টার’। গার্ডিয়ানরা ভাবলেন বাসায় একজন মাস্টার রেখে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা না দিয়ে এক হাজার টাকায় অন্যদের সাথে পড়ুক আমার সন্তান। ওই শিক্ষিত বেকারদের চাকরিও হচ্ছে না, তারা কোচিং ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না।
যেমন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি সহায়তা কেন্দ্র খুলত হয়তো এটাও সৃষ্টি হতো না। আর তাই রেজাল্টের অপেক্ষার সময়টাতে কোচিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সবাই। অনেক কোচিং সেন্টার দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগের রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করে থাকে।
দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া দেয়া-নেয়ার কড়াকড়ি না থাকা, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেশি হওয়া এবং অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পড়াতে না পারাই কোচিং টিকে থাকার মূল। আইন করে কোচিং বন্ধ করলে হয়তো সবার বাসায় বাসায় গিয়ে হলেও প্রাইভেট পড়ানোর পক্ষে শিক্ষিত বেকার এবং অভিভাবক দুই পক্ষই গোপনে একমত হবে। আর কিছু অসাধু শিক্ষক আছেন অতি লোভে যারা কোচিংয়ের সাথে জড়িত। তাদের চিহ্নিত করা জরুরি। এটাও অনেকটা ডাক্তারদের মতো ব্যাপার। কিছু অসৎ লোকের অজুহাতে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো কি বন্ধ করা যাবে?
মাইজদীকোর্ট, নোয়াখালী

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.