ইতিহাস বিকৃতিকারীদের সময়মতো বিচার হবে : শেখ সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করেছিলো জিয়াউর রহমান। কিন্তু আজকে অনেকেই অনেকভাবে আকারে ইঙ্গিতে ইতিহাস বিকৃতি করতে চায়। এরাও একই গ্রুপের লোক, তা বলতে আমার দ্বিধা নেই। সময়ে এদেরও বিচার হবে। ইচ্ছে করে যা খুশি তা করা যায় না।’

আজ শনিবার বিকেলে কৃষিবিদ ইস্টটিটিউশন মিলনায়তনে যুবমহিলা লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

যুবমহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতারের সভাপতিত্বে সবায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা জাহান, যুবমহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, সহসভাপতি জাকিয়া পারভীন মনি, কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খোদেজা নাছরীন, জেদ্দা পারভীন খান রিমি, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা ভূঁইয়া চায়না, শারমিন সুলতানা লিলি, শারমীন সুলতানা শরমী, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, দক্ষিণের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ঝুমা প্রমুখ।

১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে শেখ সেলিম বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যেতে খুনিদের অনেক সময় লেগেছিলো। সে সময় বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েক জায়গায় ফোন করেছিলেন। আর্মি চিফ সফিউল্লাহকেও ফোন করেছিলেন। কর্নেল জামিলকে ফোন করার সাথে সাথে সে গণভবনের দিকে ছুটে গিয়েছিলো। সফিউল্লাহকে একবার নয়, দুইবার ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, সফিউল্লাহ তোমার সেনাবাহিনী আমার বাড়ি আক্রমণ করেছে। কিন্তু সফিউল্লাহ উত্তরে বলেছিলেন, আপনি একটু পাশে কোনো জায়গায় আশ্রয় নিতে পারেন না। কেন এ নিরবতা? কেন সেদিন সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ, ডেপুটি চিফ জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফ এবং সাফায়াত জামিল কেন আসেননি। এ রহস্য এখনও উন্মোচন হয়নি। ১৪ জন সেনাকর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তারা সেটা নিরবে দেখলো। তারা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এলে তিনি বেঁচে যেতেন। এর রহস্য কি। তা বের করতে একটা কমিশন গঠন করা দরকার। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে। এখন সত্যিকার রহস্য বের করার জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।’

শেখ সেলিম আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে যারা বেঈমানি করেছে কেউ বেঁচে নেই। জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফও ওইভাবে চলে গেছে। সফিউল্লাহতো আজকে জীবিত থেকেও মৃত। মানুষ তাকে ঘৃণা করে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণ চেয়ে অধ্যাপিকা অপু উকিল বলেন, প্রধান বিচারপতি ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বিএনপির সুরে কথা বলছেন। আমরা তার অপসারণ চাই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.