লেনদেনে ব্যাংক ও মূল্যবৃদ্ধিতে পাট খাত শীর্ষে

ডিএসইতে লেনদেন কমলেও বেড়েছে সূচক
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সপ্তাহের ব্যবধানে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ লেনদেন কমেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। গত সপ্তাহে (৬ থেকে ১০ আগস্ট) ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৭৯ কোটি ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে পুঁজিবাজারটির লেনদেন ছিল ৫ হাজার ৩২১ কোটি ৯২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সপ্তাহের বেশির ভাগ কর্মদিবসে বাজার সূচকের মিশ্র আচরণকেই লেনদেন হ্রাস পাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত সপ্তাহের প্রায় পুরো সময়েই মিশ্র আচরণের শিকার ছিল পুঁজিবাজার। তবে বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন সূচকের কিছুটা উন্নতি ধরে রাখে ডিএসই। ফলে সপ্তাহান্তে ডিএসইর সব ক’টি সূচক ছিল ইতিবাচক। এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। গত রোববার ৫ হাজার ৮৮০ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৯০১ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ২ দশমিক ৬০ ও ২ দশমিক ৯১ পয়েন্ট।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৮ দশমিক ৬০ শতাংশ ছিল এ খাতের।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সাপ্তাহিক লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ছিল এ খাতের দখলে। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। লেনদেনে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ দখল ছিল এ খাতের।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা অন্য খাতগুলো হলোÑ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, ওষুধ-রসায়ন খাত ৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাত ৪ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, বিবিধ খাত ২ দশমিক ৭০ শতাংশ, সিমেন্ট খাত ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, সেবা খাত ২ দশমিক ১০ শতাংশ, আইটি খাত ২ শতাংশ, চামড়া খাত ২ শতাংশ, টেলিকম খাত ১ দশমিক ৪০ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাত ১ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত দশমিক ৮০ শতাংশ, সিরামিক খাত দশমিক ৬০ শতাংশ, পাট খাত দশমিক ৫০ শতাংশ, জীবন বীমা খাত দশমিক ৫০ শতাংশ ও কাগজ খাতে দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেন হয়।
অন্য দিকে একই সূত্র অনুসারে গত সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে পাট খাত। আলোচ্য সপ্তাহে এ খাতে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
সূত্র মতে, গত সপ্তাহে মুনাফার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। এ খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিমেন্ট খাত। এ খাতে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ।
মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা অন্যান্য খাতের মধ্যে টেলিকম খাত ১ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্রকৌশল খাত ১ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাত শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ, আইটি খাত শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ, জীবন বীমা খাত শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ, চামড়া খাত শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ মুনাফা করেছে।
আবার দরপতন ঘটে অন্য ১০টি খাতে। এগুলো হলোÑ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত দশমিক ১০ শতাংশ, ওষুধ খাত দশমিক ২০ শতাংশ, বস্ত্র খাত দশমিক ৮০ শতাংশ, খাদ্য-আনুষঙ্গিক খাত দশমিক ৮০ শতাংশ, বিবিধ খাত দশমিক ৯০ শতাংশ, সেবা খাত ১ দশমিক ৪০ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত ১ দশমিক ৭০ শতাংশ, সিরামিক খাত ১ দশমিক ৮০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাত ২ দশমিক ২০ শতাংশ ও কাগজ খাতে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ দরপতন ঘটে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেল শাহজিবাজারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান
বিশেষ ক্ষমতা আইনে দেয়া নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদনপত্র পেয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। গত ১০ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দিয়েছে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ হবে ১৫ বছর। এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের কিলোওয়াট ঘণ্টা ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.২৫৯৩ টাকা। এর আগে গত ৯ আগস্ট বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন ও ট্যারিফ মূল্য চূড়ান্ত করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.