চীনের সাথে দ্বন্দ্ব মেটাতে ভারতের প্রতি ভুটানের আহ্বান

পিটিআই

চীনের সাথে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ডোকলাম অচলাবস্থা মিটিয়ে ফেলার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দামকো দরজি। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। সেখানে চলমান বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেকটোরাল টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের এক ফাঁকে প্রতিবেশী দুই দেশের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনায় বসেন।
বৈঠকে দামচোকে আশ্বাস দিয়ে সুষমা জানান, ভুটানের সার্বভৌমত্বে কোনোভাবেই নাক গলাবে না ভারত। যদিও ভারত বলে আসছে, ভুটানের আহ্বানে সাড়া দিয়েই চীনা শক্তির বিরুদ্ধে ভারত-চীন-ভুটান ত্রিমুখী সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। ডোকলাম সঙ্কট শুরুর পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এটাই প্রথম বৈঠক। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটি থেকে অবিলম্বে সেনা অপসারণ অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির জন্য ভারতকে উপর্যুপরি হুমকি দিয়েই চলেছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অন্য দিকে গত ২৯ জুনের সীমান্ত সঙ্কটের পর ভুটান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ঘটনাও এটাই প্রথম। ওই দিন ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সরাসরি এবং কূটনৈতিক চ্যানেল উভয় পদ্ধতিতেই চীনকে জানানো হয়েছে যে, ভুটানের ভূ-সীমার মধ্যে চীনা সেনাবাহিনীর রাস্তা নির্মাণ কার্যক্রম দুই দেশের পূর্বনির্ধারিত সীমান্ত চুক্তির লঙ্ঘন। ডোকলাম পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব ১৬ জুনের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় ওই বিবৃতিতে।
এ দিকে চীনের সাথে পূর্ব সীমান্তে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি আরো বৃদ্ধি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পিছু হটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না কোনো পক্ষ থেকেই। প্রায় দুই মাস ধরে ডোকলামে পাল্টাপাল্টি সেনা মোতায়েনের কারণে অচলাবস্থা বিরাজ করছে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ চীন এবং ভারতের মধ্যে। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশের সেনারা। ১৯৬২ সালেও এক দফা সীমান্ত যুদ্ধ হয়ে গেছে দেশ দুটির মধ্যে। সেই যুদ্ধে ভারত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.