বাবরি মসজিদ মামলার চূড়ান্ত

শুনানি শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর
এনডিটিভি

ভারতের অযোধ্যায় ধ্বংস করে দেয়া বাবরি মসজিদের জমির মালিকানা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে আগামী ৫ ডিসেম্বর। গতকাল দেড় ঘণ্টা শুনানি শেষে শীর্ষ আদালতের বিশেষ বেঞ্চ এই ঘোষণা দেয়। সেই সাথে এও জানিয়ে দিয়েছে, এর পরে আর শুনানির দিন কোনো মতেই মুলতবি করা হবে না। মামলার প্রত্যেক পক্ষ যেন সময়-কাঠামো মেনে চলে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা ও রামলালা কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন, উভয়েই শিগগিরই শুনানি শুরুর পক্ষে কথা বলেন। কিন্তু কপিল সিব্বল, অনুপ জর্জ চৌধুরী ও রাজীব ধবন অন্যান্য পক্ষের এই আইনজীবীরা ২০১৮ সালের জানুয়ারির আগে শুনানি শুরু না করার আর্জি জানান। সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের ২.৭৭ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, রামলালা (হিন্দু মহাসভা যার প্রতিনিধিত্ব করে) ও নির্মোহী আখড়া এই তিন পক্ষের মধ্যে সমান ভাগ করে দেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল। তিন মাসের মধ্যেই সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। ২০১১ সালের ৯ মে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে বলে, উচ্চ আদালতের ওই রায় বিস্ময়কর, কারণ কোনো পক্ষই জমি ভাগ করে দিতে বলেনি। এর পরের ছয় বছরেও বিতর্কিত স্থলের জমির মালিকানা নিয়ে মামলার শুনানি শুরু হয়নি। সম্প্রতি গড়া হয়েছে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। কিন্তু এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হতে পারে এমন সব নথি রয়েছে অন্তত আটটি ভাষায়। গতকাল শুনানি শুরুর দিন স্থির করে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ওই সব নথি ১২ সপ্তাহের মধ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করে নিতে হবে। এ কাজে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে সময় দেয়া হয়েছে ১০ সপ্তাহ। এই সূত্রেই শীর্ষ আদালত সময়-কাঠামো মেনে চলা নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে সব পক্ষকে।
হিন্দু সংগঠনের সাথে সুর মেলাল শিয়া বোর্ড
অযোধ্যা জমি মামলার শুনানির জন্য বিশেষ ফাস্ট ট্রাক আদালত গড়ার পরে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের তরফে সেদিন একটি সমাধান-প্রস্তাব দেয়া হয় আদালতে। তা হলো অযোধ্যার বাবরি মসজিদস্থল থেকে ‘সঙ্গত পরিমাণ দূরে’ মুসলিম অধ্যুষিত কোনো এলাকায় মসজিদ নির্মাণ করার। বেশ কিছু হিন্দু সংগঠন দীর্ঘ দিন ধরে ঠিক এই ধরনের সমাধান সূত্রের কথাই বলে আসছে। কার্যত তাদের সাথে সুর মিলিয়ে শিয়া বোর্ড এ প্রস্তাব দিয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড কট্টরপন্থী নিয়ন্ত্রণে যারা শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে না।’
শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের আরো দাবি করে, অযোধ্যার ওই জমি আদতে তাদের। ওই জমিতে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের কোনো অধিকার নেই।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.