ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিন পিং
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিন পিং

ফোনালাপ : উ: কোরিয়া ইস্যুতে শান্ত থাকতে ট্রাম্পের প্রতি শি’র আহ্বান

গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া চলমান উত্তেজনা নিরসনে উভয় পক্ষকে ‘কথা ও কাজে’ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক টেলিফোন আলাপে শি এই আহ্বান জানান বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ফোনালাপে শি জিনপিং বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবশ্যই সংযমী আচরণ করতে হবে এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এমন কথা ও কাজ এড়িয়ে চলতে হবে’। চীনা প্রেসিডেন্ট কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বজায় রাখা ও উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ায় অভিযান চালাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুত জানিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পরই এই মন্তব্য করলেন চীনা প্রেসিডেন্ট। 

দীর্ঘ দিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে পরিচিত বেইজিং। তবে এক দিন আগে চীন জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া আগে মার্কিন স্থাপনায় আক্রমণ করলে তারা নিরপেক্ষ থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী দশ দিনের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। এর ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। 

এক বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পকে শি বলেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অবশ্য এখন পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিতে চীনের ওপর চাপ জোরালো করা এবং হামলা চালানোর হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা সীমাবদ্ধ রয়েছে। 

ফের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে কোনো কিছু হলে উত্তর কোরিয়া ‘বড় ধরনের সমস্যায়’ পড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের বেডমিনিস্টারে নিজের গল্ফ রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গুয়াম অত্যন্ত নিরাপদ থাকবে’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীকে তার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। 

উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেগুলো আগের মতোই কঠোর হবে।’ ট্রাম্প আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে আর কেউ বেশি ভালোবাসে না, এটি আমি বলতে পারি।’ 

একই দিন এর আগে এক টুইটে ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে। উত্তর কোরিয়া কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করলে এর সামরিক সমাধান এখন পুরোপুরি সঠিক পথে আছে। আশা করি, কিম জং উন অন্য পথ খুঁজে নেবেন।’ ট্রাম্প কোরিয়া উপদ্বীপ পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন বলে উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করার পর তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে উত্তর কোরিয়া।

সঙ্কট নিরসনে চীন-রাশিয়ার এক যৌথ পরিকল্পনা পেশ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের হুমকি-পাল্টা হুমকিতে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।’ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন, ‘সামরিক কোনো সমাধান নেই। হুমকির বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি দেয়া ভুল।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.