কাদা মাঠের নায়ক সবুজ ওলাদিপো

শেখ রাসেল (আত্মঘাতী)১ : ৩ (ওলাদিপো ২, সবুজ)চট্টগ্রাম আবাহনী
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফুটবলের দুর্ভাগ্য, এমন জঘন্য কাদা মাঠে খেলতে হয় ফুটবলারদের। ক্লাব এবং বাফুফের উদাসীনতায় দেশের সর্বোচ্চ লিগ হচ্ছে চষা ধান ক্ষেত তুল্য কর্মমাক্ত মাঠে। চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী টিটুর মতে, ‘এ মাঠে এক ম্যাচে তিন ম্যাচ পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয় খেলোয়াড়দের।’ এই শক্তি ক্ষয়ের ম্যাচে নায়ক নাইজেরিয়ান আফিজ ওলাদিপো ও তৌহিদুল আলম সবুজ। দুই স্ট্রাইকারের কৃতিত্বে সাইফ পাওয়ার ব্যাটারি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে।
চট্টগ্রাম আবাহী ১২ পয়েন্ট লিগ টেবিলে শীর্ষে বন্দর নগরীর দল। অন্য দিকে পরপর দুই হারে শুরুতেই ব্যাকসিটে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। চার খেলায় মাত্র ৪ পয়েন্ট শফিকুল ইসলাম মানিকের দলের।
এই বিগ ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর ৩-১ গোলে জয়ের নেপথ্য নায়ক ওলাদিপো। বাফুফে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে যিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তার দু’টি গোলই হেড থেকে। প্রথমটি ১১ মিনিটে অধিনায়ক জাহিদের কর্নার ছিল গোলের উৎস। ৭৩ মিনিটে লবটি ভাসাল রাইট ব্যাক মনসুর আমিন। এই গোলে ওলাদিপোর হেড ওয়ার্ক চমৎকার ছিল সত্য, তবে কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারবেন না শেখ রাসেলের ডিফেন্ডাররা। তাদের দায়িত্বহীনতায় কার্যত ফ্রি হেডার হয়ে যান গত মওসুমে নেপাল লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ড। শেখ রাসেল কোচ মানিককে হারের জন্য সরাসরি রক্ষণভাগকেই দুষলেন। ‘এই লেভেল এমন ডিফেন্ডিং অপ্রত্যাশিত। কিভাবে তাদের মার্কিং এত দুর্বল হয়। কিভাবে বিপক্ষ ফরোয়াডদের অ্যালাউ করে তারা।
পিছিয়ে পড়া শেখ রাসেল ২৫ মিনিটে সমতা আনতে ব্যর্থ হলেও ৫২ মিনিটে ম্যাচে ফিরে স্রেফই ভাগ্যের জোরে। মোনায়েম রাজুর ক্রস থেকে আসা বল গোলরক্ষক রানাকে হেডে ব্যাক পাস দিতে চান নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এলিসন উডুকা। সে বলই রানাকে বোকা বানিয়ে চলে যায় জালে। এমন গোল পেয়েও খেলায় ন্যূনতম ড্র করতে পারেনি শেখ রাসেল। ৭৩ মিনিটে ওলাদিপোর হেডেও মার্কিং ছিল না তাদের রক্ষণকর্মীদের। আর ৮১ মিনিটে সুশান্ত ত্রিপুরার থ্র পাসেও অসহায় তাদের ডিফেন্স লাইন। ফলে সবুজ বল ধরে আগুয়ান গোলরক্ষক জিয়াকে কাটিয়ে জয় নিশ্চিত করেন গত লিগের রানার্সআপদের। একই সাথে নিজিকে গোলের মধ্যেই রাখলেন এই খবাকৃতির স্ট্রাইকার। চার ম্যাচে ৪ গোল তার। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গোল। কোচ টিটু জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিলেন খেলোয়াড়দের। বিশেষ করে মনসুর আমিনের। দুই ম্যাচে তিন গোল হলো তার পাস থেকে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.